• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সৌদির নীতি পরিবর্তনের নেপথ্যের কারণ!

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০ জানুয়ারি ২০২২, ১১:০৫
সৌদির নীতি পরিবর্তনের নেপথ্যের কারণ!
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ (ছবি : সৌদি গেজেট)

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র সৌদি আরব বর্তমানে একের পর এক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য বর্তমানে কোনো সংবাদই যেন ভালো খবর নয়। ২০১৫ সালের পর থেকেই এমন ঘটনা প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। সে সময়কার স্বল্প পরিচিত বিন সালমান সৌদি যুবরাজ থেকে দেশটির ডি-ফ্যাক্টো শাসকে পরিণত হওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। মূলত তখন থেকেই একের পর এক অঘটন এবং অপকর্মের জন্য দায়ী হয়ে আসছেন তিনি।

যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘাত, কাতারের ওপর অবরোধ, লেবাননের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে অপহরণ, সৌদির ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নৃশংসভাবে হত্যা, সন্দেহজনক অভিযোগে মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেফতার, নগদ অর্থের জন্য রিয়াদের বিলাসবহুল রিটজ-কার্লটন হোটেলে বেশ কয়েকজন যুবরাজ এবং ব্যবসায়ীকে নজরবন্দি করে রাখাসহ বহু অন্যায় ও অঘটনের মূল হোতা তিনি।

সৌদির অর্থনীতিতে তেলের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা কমাতে চান প্রিন্স সালমান। যদিও এসব কাজের কোনোটিই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে সহায়ক ছিল না। খাশোগির হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল সৌদির আয়োজিত একটি বড় ধরনের বিনিয়োগ সম্মেলনের কয়েক সপ্তাহ আগেই। এই ঘটনার পর বেশকিছু বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ওই সম্মেলন বর্জন করে। কয়েকজন ব্যবসায়ীকে একটি বিলাসবহুল হোটেলে নজরবন্দি করার ঘটনাও ব্যবসার পরিবেশ সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের ভালো কোনো বার্তা প্রদান করেনি। ২০১৫ সালে সৌদি আরবে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালে তা কমে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

কিন্তু ২০২১ সালে সৌদি আরব তেমন কোনো বড় বিপর্যয়ের ঘটনায় সংবাদের শিরোনাম হয়নি। এর অন্যতম কারণ সৌদি আরবের অহেতুক দ্বন্দ্ব এবং আত্মোপলব্ধি বাড়ে কিন্তু কোনো ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না; এমন পররাষ্ট্রনীতি থেকে তারা সরে এসেছে।

কাতারকে অবরুদ্ধ করে সৌদি আরব বড় কোনো সাফল্য পায়নি। একইভাবে সাদ হারিরির অপহরণও লেবাননের রাজনীতিতে সৌদি আরবের পক্ষে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরও রিয়াদ তার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী তেহরানের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাবে। এটা হয়তো পুরনো দুই শত্রুর মধ্যে একেবারে উষ্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে পারবে না। কিন্তু ২০১৯ সালে সৌদির তেল স্থাপনায় ইরান সমর্থিত বাহিনীর আক্রমণের মতো প্রত্যক্ষ সংঘর্ষের ঝুঁকি হ্রাস কমাবে।

আরও পড়ুন : মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর স্বীকৃতি চায় তালিবান

দীর্ঘদিন যাবত সৌদি আরবের নিরাপত্তার জামিনদার হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওয়াশিংটনের পর পর তিনজন প্রেসিডেন্টকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন সব পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে যা থেকে মনে হয়েছে মার্কিন প্রশাসন এই ভূমিকা পালনে অনিচ্ছুক। সে কারণে সৌদি আরব হয়তো ক্রমশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরে যাবে।

২০২১ সালের আগস্ট মাসে সৌদির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাশিয়ার সঙ্গে একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। যদিও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারটা বেশ জটিল। এটা অধিকাংশ সময় ওয়াশিংটনকে মনোযোগী করার উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এশিয়ার পরাশক্তি চীনের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় সম্পর্কই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজ দেশে প্রিন্স বিন সালমানের সমর্থকরা দাবি করেন, তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তার সিংহাসনে আরোহণের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবে নতুন যুগের সূচনা হবে। আর তিনি হবেন সৌদির নতুন প্রজন্মের প্রথম শাসক। ১৯৫৩ সাল থেকে সৌদি রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজের বয়স্ক ছেলেরাই সৌদি আরব শাসন করে আসছেন। স্বাভাবিকভাবেই এত বড় একটি রাজপরিবারে মোহাম্মাদ বিন সালমানের অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। অনেকেই তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট।

এরপরও যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের অবস্থান নিরাপদ বলেই মনে হয়। দেশের ভেতরে এখনো তার বেশ জনপ্রিয়তা আছে। এমনকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব কমিয়ে তিনি সৌদি আরবের পরিবেশকে তুলনামূলক সহনশীল করে তুলেছেন বলেও মনে করে অনেকেই। তবে জনপ্রিয় থাকার জন্য তাকে দ্রুত বেকারত্ব হ্রাস করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে দেশটিতে বেকারত্ব ১১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে একটি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, চাকুরিরত সৌদিদের অর্ধেক মানুষ কর্মক্ষেত্রে ভালো নেই। তারা এখনো ন্যায্য বেতন পাচ্ছেন না।

এখন পর্যন্ত সৌদির অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য যুবরাজের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল হাজার ফুল ফুটতে দেওয়া। (আক্ষরিক অর্থেই মে মাসে তিনি মরুভূমিতে এক হাজার কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন)। ২০২২ সালে তিনি হয়তো আরও কিছু সুচিন্তিত গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে সফল প্রতিবেশীদের অনুকরণ করতে হবে এবং তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।

আরও পড়ুন : বিদেশি বিনিয়োগের শর্ত শিথিলের পথে ফিলিপাইন

এক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট পন্থা হলো উপসাগরের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় অর্থনীতির দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ব্যবসায়ে দখল বাড়ানো। গত জুলাই মাসে আমিরাতি পণ্যের উপর আরোপিত নতুন শুল্ক ৩৩ শতাংশ কমিয়েছে সৌদি। এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে দুটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রচারমাধ্যমকে দুবাই থেকে তাদের কর্মীসহ সদর দফতর রিয়াদে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সৌদির বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই কাজ করার জন্য চাপের সম্মুখীন হতে হবে। ২০২২ সালে এই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। কিন্তু এটি অন্তত পক্ষে রক্তপাতহীন হওয়া উচিৎ।

সূত্র : দ্য ইকোনমিস্ট

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড