• শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ট্রেন সংকট-মূল্যবৃদ্ধিতে স্থবির ভারতের চাল রফতানি

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:২৪
ট্রেন সংকট-মূল্যবৃদ্ধিতে স্থবির ভারতের চাল রফতানি
রফতানির জন্য প্রস্তুত চাল (ছবি : দ্য হিন্দু)

দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ভারতে মালবাহী ট্রেনের ঘাটতিতে আটকে গেছে চলতি মাসে নির্ধারিত চাল রফতানির এক-তৃতীয়াংশ চালান। কবে নাগাদ ট্রেন মিলবে তা নিশ্চিত না হওয়ায় বিলম্ব ফি এড়াতে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের চালানের জন্য নতুন চুক্তি করাও বন্ধ করে দিয়েছেন দেশটির চাল ব্যবসায়ীরা। শিল্প সংশ্লিষ্টদের বরাতে মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) এক বিশেষ সংবাদে তথ্যটি জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের বৃহত্তম চাল রফতানিকারক দেশ ভারতের ব্যবসায় স্থবিরতা নেমে আসায় চালের দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভিয়েতনামের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো। রফতানিতে ধীরগতির কারণে ভারত সরকার কৃষকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ বাড়াতে বাধ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিলাররা জানান, চলতি জানুয়ারি মাসে ১৫ লাখ টন চাল রফতানির লক্ষ্য ছিল ভারতের। যদিও মালবাহী ট্রেনের অভাবে ছত্তিসগড় থেকে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে পাঁচ লাখ টনের বেশি অ-বাসমতী চাল পরিবহন আটকে গেছে।

কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী ওলাম ইন্ডিয়ার চাল ব্যবসার ভাইস প্রেসিডেন্ট নিতিন গুপ্ত বলেছেন, মালবাহী ট্রেনের ঘাটতির কারণে কার্গোগুলো উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বন্দরে যেতে পারেনি। ট্রেন কবে মিলবে তা স্পষ্ট না হওয়ায় কেউ নতুন কার্গো চাচ্ছেও না।

জানা যায়, কয়েক মাস আগে ভারতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ কয়লা ঘাটতি দেখা দেওয়ার প্রেক্ষিতে চলতি শীত মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ট্রেনের বগিগুলোতে থার্মাল কয়লা পরিবহন করছে ভারতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ব্যবহার হচ্ছে সার পরিবহনেও।

আরও পড়ুন : ভারত থেকে মিসাইল কিনছে ফিলিপাইন

ভারতের বৃহত্তম চাল রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান সত্যম বালাজির নির্বাহী পরিচালিত হিমাংশু আগারওয়াল দাবি করেন, চালানে বিলম্ব হওয়ায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাল রফতানিকারকরা। এমনিতেই জাহাজ ভাড়া বেড়ে দৈনিক ৩০ হাজার মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, তার ওপর অনেক রফতানিকারককে পাঁচ লাখ ডলার পর্যন্ত বিলম্ব ফি দিতে হচ্ছে। ফলে তাদের লাভ বলে আর কিছু থাকছে না।

চড়া বিলম্ব ফির ক্ষতি পোষাতে ভারতীয় চাল ব্যবসায়ীরাও চালানের খরচ বাড়াতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে সেখানে পাঁচ শতাংশ ভাঙা আধাসেদ্ধ চালের দাম বেড়ে প্রতি টন ৩৮০ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা বিগত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ভারতের চাল রফতানিকারক সমিতির সভাপতি বি ভি কৃষ্ণা রাও জানান, ভারতীয় চালের মূল্যবৃদ্ধি ও চালানে বিলম্বের কারণে কিছু ক্রেতা থাইল্যান্ড, মিয়ানমারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রফতানিকারকদের দিকে ঝুঁকছে।

থাইল্যান্ডে গত সপ্তাহে পাঁচ শতাংশ ভাঙা চালের দাম বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি টন ৪০৪ থেকে ৪০৫ ডলারে পৌঁছে গেছে; যা ২০২১ সালের মধ্য-জুলাই মাসের পর থেকে সর্বোচ্চ।

আরও পড়ুন : ৩০ হাজার কোটি টাকার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনছে আমিরাত

কৃষ্ণা রাও বলেছেন, ট্রেনের বগির সংখ্যা বাড়িয়ে আমাদের সাহায্য করার জন্য ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি। যদিও এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেয়নি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় দুটি।

এক ডিলার জানিয়েছেন, অতীতে ট্রেনের বগি না পাওয়া গেলে সড়কপথে চাল পরিবহন করতেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ডিজেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত ছয় মাস যাবৎ ট্রাকমালিকরাও পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, অন্তত কাছাকাছি মাসের চালানগুলোর জন্য এশিয়া ও আফ্রিকার ক্রেতারা থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, পাকিস্তানে চলে যাচ্ছে। ফলে মার্চ প্রান্তিকে ভারতের চাল রফতানি হ্রাস পেতে পারে।

সরকারি তথ্য মতে, ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী চালের চালানের প্রায় অর্ধেক ছিল ভারতের। গত বছর তাদের চাল রফতানি ২০২০ সালের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ২ কোটি ১৪ লাখ টনে পৌঁছায়, যা পরবর্তী তিন বৃহত্তম চাল রফতানিকারক থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের সম্মিলিত রফতানির চাইতেও বেশি।

আরও পড়ুন : ইয়েমেনে বিমান হামলায় নিহত ১৪

সত্যম বালাজির হিমাংশু বলেছেন, চলতি বছর ভারতে রেকর্ড পরিমাণ চাল উৎপাদন হয়েছে এবং দাম এখনো প্রতিযোগিতামূলক। যদিও লজিস্টিক সমস্যাগুলো রফতানি কমিয়ে দিচ্ছে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড