• বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

যোগীর রাজ্যে বিজেপির আরেক বিধায়কের পদত্যাগ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৩৫
যোগীর রাজ্যে বিজেপির আরেক বিধায়কের পদত্যাগ
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (ছবি : দ্য হিন্দু)

দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারের মন্ত্রী ও বিধায়করা এক এক করে পদত্যাগ করেছেন। বিধানসভা ভোটের একমাসও বাকি নেই। উত্তরপ্রদেশ বিজেপিতে যা শুরু হয়েছে তাতে দিন নয়, ঘণ্টায় ঘণ্টায় দল ছাড়তে শুরু করেছেন মন্ত্রী-বিধায়করা। এবার বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করলেন হাথরাসের বিধায়ক হরি শঙ্কর মাহৌর।

২০১৭ সালে বিপুল ভোটের মাধ্যমে তিনি এই কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হন। ক্ষমতাগ্রহণের পাঁচ বছরের মাথায় পদত্যাগ করেছেন। বিধায়ক পদের সঙ্গে ছেড়েছেন দলের প্রাথমিক সদস্য পদও। এই নিয়ে শেষ ৫০ ঘণ্টায় মোট ১১ জন নেতা এই দল ত্যাগের কথা ঘোষণা করলেন।

ভারতীয় মিডিয়া এনডিটিভি জানায়, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি হাথরাস কেন্দ্রে নির্বাচন। তৃতীয় দফায় ভোট হবে হাথরাসে। উত্তরপ্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ এই জেলায় তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। ২০১৭ সালের নির্বাচনে হাথরাস ও সিকান্দ্রৌ আসন দুটিতে বিপুল ভোটে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থীরা। সদাবাদ কেন্দ্রটি যায় বিএসপির ঝুলিতে। যদিও এই পাঁচ বছরে প্রবল সরকার বিরোধী হাওয়া তৈরি হয়েছে উত্তরপ্রদেশে।

রাজনৈতিক মহলের দাবি, গেলবারের জেতা আসন এবার বিজেপির পক্ষে ধরে রাখা ভীষণই মুশকিল হবে। তার ওপর ২০২০ সালে হাথরাসের এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা গোটা দেশে শোরগোল ফেলে দেয়। এমনকি প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুলিশের ভূমিকাও। বিরোধীরা প্রচারে বারবার হাথরাসের ঘটনাকে তুলে ধরে বিজেপিকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। ফলে এক রকম চাপে রয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপিও।

অন্য সব দলত্যাগীদের মতো হরি শঙ্করও নিজের পদত্যাগপত্রে সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির প্রতি সরকারের চূড়ান্ত অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি দাবি করেছেন, দলিত, কৃষক ও বেকারদের উন্নতিতে সরকার কোনো পদক্ষেপই করেনি।

আরও পড়ুন : বিমানের ককপিটে ভাঙচুর চালালেন যাত্রী (ভিডিয়ো)

গত সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন উত্তরপ্রদেশসহ পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। এরপর মঙ্গলবার থেকেই যোগীরাজ্যে শুরু হয় পদত্যাগের পালা। শ্রমমন্ত্রী স্বামী প্রসাদ মৌর্য্যের হাত ধরে এর সূচনা ঘটে। গেল বৃহস্পতিবার দল থেকে ইস্তফা দেন আয়ুশমন্ত্রী ধর্মসিং সাইনি ও দারা সিং চৌহান। এছাড়া বিজেপি বিধায়ক অবতার সিং ভাদানাও বিজেপি ছেড়ে রাষ্ট্রীয় লোক দলে যোগদান করার কথা জানান।

স্বামী প্রসাদ মৌর্য্যকে সমর্থন দেখিয়ে আরও তিন বিধায়কও দল ছেড়েছেন, তারাও এরই মধ্যে সমাজবাদী পার্টিতেই যোগদান করতে পারেন। বিনয় শাক্য, মুকেশ ভর্মা ও বালা অবস্তিও ইতোমধ্যে বিজেপি ছেড়ে গেছেন। যে কোনো সময় সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দিতে পারেন একাধিক বিধায়ক।

নির্বাচনের আগে বিজেপি থেকে পদত্যাগ করা তিন মন্ত্রীই জনজাতি/উপজাতি সম্প্রদায়ের। তাদের অভিযোগ- দীর্ঘদিন যাবত মোদী সরকার তাদের উপেক্ষা করছে।

ধর্মসিং সাইনি দাবি করেন, আমি দেড় বছর আগেই ঠিক করে নিয়েছিলাম যে ইস্তফা দেব। যখন ১৪০ জন বিধায়ক সরকারের বিরুদ্ধেই ধর্না দিয়েছিল খারাপ ব্যবহারের জন্য, সেই সময়ই স্থির করেছিলাম। যদিও তখন তাদের কণ্ঠকে অবদমিত করে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, তখনই সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে- অবশ্যই এর জবাব যথাসময়ে দেওয়া হবে। আমরা কেবল সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছিলাম। সেই কারণেই প্রতিদিন একজন করে মন্ত্রী ইস্তফা দিয়ে যাচ্ছেন। আগামী ২০ তারিখ অবধি এটাই চলবে।

আরও পড়ুন : রেললাইনে আছড়ে পড়া বিমানকে গুঁড়িয়ে দিল ট্রেন (ভিডিয়ো)

এ দিকে হাই ভোল্টেজ এই বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী পদ ঘিরেও হয়েছে সমীক্ষা। টাইমস নাউয়ের ওপিনিয়ন পোল বলছে, যোগী আদিত্যনাথ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। তার পক্ষে ভোট গেছে ৫৩.৪ শতাংশ।

অপর দিকে সি ভোটারের সমীক্ষা বলছে, ৪০৩ এর মধ্যে যোগী শিবির দখলে রাখতে পারবে ২২৩ থেকে ২৩৫টি আসন। মায়াবতীর বিএসপি ৮ থেকে ১৬টি আসন পেতে পারে। কংগ্রেসের ৩টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশের বুকে শূন্যও পেতে পারে বলে সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে। অন্যান্যরা ৪ থেকে ৮টি আসন পেতে পারে ৪০৩ আসনের এই বিধানসভা ভোটে। অন্য দিকে এবিপি-সি ভোটারের সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, বিজেপি আসন্ন ভোটে ৪১.৫% ভোট পেতে পারে। আর অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বে বিরোধী জোট ৩৩.৩ শতাংশ ভোট পেতে পারে।

যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে এ সমীক্ষায়। সমীক্ষা বলছে, বিজেপি ৪০৩টি আসনের মধ্যে ২২৩ থেকে ২৩৫টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করবে। সমাজবাদী পার্টি ১৪৫ থেকে ১৫৭টির মধ্যে আসন পেতে পারে। বহুজন সমাজবাদী পার্টি ৮ থেকে ১৬টি এবং কংগ্রেস ৩ থেকে ৭টির মধ্যে আসন পেতে পারে।

২০১৭ সালে বিজেপি ৪০৩টি আসনের মধ্যে ৩২৫টি, সমাজবাদী পার্টি ৪৮টি, বহুজন সমাজ পার্টি ১৯টি, কংগ্রেস ৭টি ও অন্যান্যরা চারটি আসন দখল করেছিল। প্রাথমিক সমীক্ষায় তাই দেখা যাচ্ছে, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তাদের আসন কমছে। অন্যদিকে তিনগুণ বাড়ছে সমাজবাদী পার্টির আসন সংখ্যা।

আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে বিজেপি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার শুরু করবে। বিরাট বিরাট এলইডি সাঁজোয়া রথ, টেলিভিশন লাগানো গাড়িতে রাজ্যের পাঁচ বছরের যোগী সরকারের সাফল্য প্রচার করা হবে। যদিও আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রোড শো, মিছিল, সভা নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বিজেপি আগেই রথ প্রচার শুরু করতে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন : কাজাখস্তান ছাড়ছে রুশ সৈন্যরা

করোনা আবহে ভার্চুয়াল প্রচার সভায় জোর দিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক শক্তিশালী। অন্য দিকে সমাজবাদী পার্টিসহ বিরোধীদলগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড