• বুধবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২ মাঘ ১৪২৮  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সন্দেহ হলেই লোকজনকে ধাতব বাক্সে ঢুকানো হচ্ছে

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৩০
সন্দেহ হলেই লোকজনকে ধাতব বাক্সে ঢুকানো হচ্ছে
ধাতব বাক্সের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা স্বাস্থ্য কর্মীরা (ছবি : সিনহুয়া)

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বরাবরের মতো এবারও লকডাউনের পথেই হেঁটেছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন। নিয়মের কড়াকড়ি আগে থেকেই জারি থাকলেও সংক্রমণ রুখতে এবার এশিয়ার এই দেশটি থেকে আরও ভয়ঙ্কর চিত্র উঠে আসছে।

যারা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে তাদেরকে, এমনকি গোটা এলাকায় একজনের রিপোর্ট পজিটিভ এলেও সকলকে ধাতব বাক্সে কমপক্ষে সাত দিন বাধ্যতামূলক আইসোলেশনে রাখার মতোই ভয়ঙ্কর দৃশ্য ধরা পড়েছে চীনে।

মহামারি করোনার সংক্রমণ রুখতে নিজেদের নীতিতে বেশকিছু পরিবর্তন এনেছে বেইজিং কর্তৃপক্ষ। এই ধাতব বাক্সে বসবাস সেই পরিবর্তনে নতুন সংযোজন। বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে ভারতীয় মিডিয়া এনডিটিভি।

কোভিড পজিটিভ হওয়া ব্যক্তি বা সন্দেহজনক করোনা রোগীদের ধাতব বাক্সে বসবাসে বাধ্য করার বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, কোভিড সংক্রমিত ব্যক্তিদের বা তাদের সংস্পর্শে আসা সকলকে ধাতব বাক্সের মতো ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে একটি পানির বোতল, খাট ও একটি শৌচাগার রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের মধ্যাঞ্চলীয় শাংসি প্রদেশের জিয়ান শহরে খোলা হয়েছে এই আইসোলেশন ক্যাম্প। সেখানে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক, এমনকি গর্ভবতী নারীদেরও অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য জোর করে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়োতে অস্থায়ী এই কোয়ারেন্টিন সেন্টারগুলোর সামনে বাসের লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। আর ভেতরে রয়েছেন বহু মানুষ।

আরও পড়ুন : পশ্চিমতীরে ১১ ফিলিস্তিনি অবকাঠামো ধ্বংস করল ইসরায়েল

চীনের জিরো কোভিড পলিসি অনুযায়ী, মাত্র এক ব্যক্তি করোনায় সংক্রমিত হলে পুরো শহরেরই বাসিন্দাদের যেমন করোনা পরীক্ষা করানো হয়ে থাকে। তেমনই আবার একজনের রিপোর্ট পজিটিভ এলেই একই এলাকার সকল বাসিন্দাকে ধাতব বাক্সে বন্দি করে রাখা হচ্ছে। মূলত অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানো আটকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় জিয়ান শহরের প্রায় দুই কোটি বাসিন্দাকে বাড়িতেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এমনকি খাবার কিনতে বাইরে বেরোনোর ওপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত সোমবার সেখানে ১৩ জন নতুন করে প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

অপর দিকে মাত্র দুইজন ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়ার পর চীনের আনিয়াং শহরে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া মাত্র তিন জন উপসর্গহীন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় ইউচোও শহরে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : ৪৮ ঘণ্টায় দুই মন্ত্রীসহ ৬ বিধায়কের বিজেপি ত্যাগ

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ প্রাণঘাতী ভাইরাসটিকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড