• শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কয়লা রফতানির নিষেধাজ্ঞা তুলছে না ইন্দোনেশিয়া

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:২৯
কয়লা রফতানির নিষেধাজ্ঞা তুলছে না ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ায় রফতানির জন্য প্রস্তুত কয়লা (ছবি : বিবিসি নিউজ)

স্থানীয় চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কয়লা রফতানির নিষেধাজ্ঞা আপাতত তুলছে না দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া। যদিও বিশেষ বিবেচনায় আগে থেকে কয়লাভর্তি ৩৭টি জাহাজকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্র ও বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিবৃতির মাধ্যমে বলেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সংস্থা পেরুসাহান লিস্ত্রিক নেগারার (পিএলএন) কয়লা মজুত ‘নিরাপদ অবস্থায়’ রয়েছে। এ কারণে বুধবার (১২ জানুয়ারি) পর্যন্ত আগের কয়লা বোঝাই ৩৭টি জাহাজকে রফতানির উদ্দেশ্যে দেশছাড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

তারা বলছে, কয়লা বোঝাই জাহাজগুলো বন্দরে বেশিদিন রাখা বিপজ্জনক। তাই ‘আগুন লাগার ঝুঁকি এড়াতে’ সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তির শিরোনাম ছিল, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়নি। যার অর্থ, কয়লা রফতানির নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করে ওই ৩৭টি জাহাজ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ। যদিও এই নিষেধাজ্ঞা আপাতত বহালই থাকছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কায় পিএলএনের হুঁশিয়ারির ভিত্তিতে গেল ১ জানুয়ারি কয়লা রফতানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইন্দোনেশীয় সরকার। যা মাসব্যাপী স্থায়ী থাকার কথা রয়েছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার মজুত ভয়াবহভাবে কমে গেছে। এমনকি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শর্ত মানছে না বলে সে সময় সতর্কবার্তা দিয়েছিল পিএলএন।

আরও পড়ুন : মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ : শীঘ্রই ঘোষণা আসছে অনলাইন আবেদনের

রফতানি নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময় ইন্দোনেশীয় সরকার বলেছে, পিএলএনের কয়লা মজুত মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় জাভা ও বালি দ্বীপের মতো এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। স্থানীয় কয়লা সরবরাহকারীরা শর্ত মানছে না বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

তারা জানিয়েছে, সরকারি বিধি অনুসারে প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদিত কয়লার অন্তত ২৫ শতাংশ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করতে হবে। যদিও সরবরাহকারীরা এই ‘দেশীয় বাজারের বাধ্যবাধকতা’ বা ডিএমওর শর্ত পূরণ করছে না।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ২০২১ সালে যেসব কয়লা প্রতিষ্ঠান পিএলনের কাছে বিক্রয়শর্ত পূরণ করেছে এবং ডিএমও বিধি সম্পূর্ণরূপে মেনে চলেছে, তারা কয়লা রফতানি শুরুর অনুমতি পাবে।

আরও পড়ুন : ভ্যাকসিনের চতুর্থ ডোজ প্রয়োগের পথে ডেনমার্ক

উল্লেখ্য, বিশ্বের বৃহত্তম থার্মাল কয়লা রফতানিকারক ইন্দোনেশিয়ার এমন নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে পড়েছে প্রতিবেশীরা। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অনেকাংশে ইন্দোনেশীয় কয়লার ওপর নির্ভরশীল। যদিও ইন্দোনেশিয়া সরকার রফতানি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় দেশগুলোতে বিদ্যুৎ ঘাটতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা যত দ্রুততম সময়ে সম্ভব কয়লা রফতানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে জাকার্তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড