• রোববার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ৯ মাঘ ১৪২৮  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সু চিকে অবিলম্বে মুক্তি দিন : যুক্তরাষ্ট্র

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১২ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:৫২
সু চিকে অবিলম্বে মুক্তি দিন : যুক্তরাষ্ট্র
মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি (ছবি : বিবিসি নিউজ)

বার্মিজ সেনাবাহিনীর বিতর্কিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত ও গৃহবন্দি মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চিকে ‘অবিলম্বে মুক্তি’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষমতাচ্যুতের পরই সু চিকে বন্দি করেছে জান্তা সরকার। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন সু চিকে গ্রেফতার, আটক এবং শাস্তি মিয়ানমারে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের অবমাননা।

শুধু সু চিকেই নয়, অন্যায়ভাবে যে সকল নির্বাচিত নেতাদের আটকে রাখা হয়েছে তাদের সকলের মুক্তির আহ্বান জানাচ্ছি। মিয়ানমারের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ওপরও জোরারোপ করেন নেড প্রাইস।

তিনি বলেছেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে বার্মিজ জনগণ আর একটি দিনও সামরিক শাসনের অধীনে থাকতে চায় না। এক্ষেত্রে দেশটির জনগণকে আমরা সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়ে যাব।

গত সোমবার দুটি মামলায় অং সান সু চিকে আরও ৪ বছরের সাজা প্রদান করেছে জান্তা আদালত। এর মধ্যে অবৈধভাবে ওয়াকি টকি রাখা এবং কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের মামলায় তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর আগে আরও দুটি মামলা ৪ বছরের সাজা ঘোষণা করা হলে দুই বছরের শাস্তি মওকুফ করে দেন জান্তা সরকারের প্রধান মিং অন হ্লাইং।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের হওয়া সব মামলায় যদি সু চি দোষী সাব্যস্ত হন, সে ক্ষেত্রে তাকে কারাগারে কাটাতে হবে এক শতাব্দীরও বেশি সময়। সু চি অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ বরাবরই মিথ্যা বলে দাবি করে আসছেন।

আরও পড়ুন : চীনা ঋণের বোঝায় দেউলিয়ার পথে শ্রীলঙ্কা!

এর আগে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানি দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং কোভিড-১৯ প্রোটোকল লঙ্ঘনের মাধ্যমে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ভাঙার দায়ে গত ৬ ডিসেম্বর সু চিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন দেশটির একটি আদালত। সরকারের শীর্ষ পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ১১ মাসের মাথায় তার বিরুদ্ধে দেওয়া প্রথম কোনো রায় ছিল সেটি।

কিন্তু সু চির বিরুদ্ধে এই রায়ের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সেসময় আদালত সু চিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে পরে সেটি দুই বছর কমিয়ে দেয় মিয়ানমারের জান্তা সরকার।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে জাতীয় ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। বন্দি করা হয় গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি ও তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) বিভিন্ন স্তরের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হারানোর পর মিয়ানমারের সাবেক শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় কোনো মামলার রায়।

সেনাবাহিনীর বিতর্কিত অভ্যুত্থানের পর ৭৬ বছর বয়সী গৃহবন্দি সু চির বিরুদ্ধে এক ডজন মামলা দায়ের করে ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার। মামলাগুলো যেসব অভিযোগে করা হয়েছে তার মধ্যে রাষ্ট্রের গোপন তথ্য পাচার, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওয়াকিটকি বহন ও ব্যবহার, ক্ষমতায় থাকাকালে ঘুষ গ্রহণ, নিজের দাতব্য সংস্থার নামে অবৈধভাবে ভূমি অধিগ্রহণ ও করোনা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় গাফিলতিসহ উত্তেজনা সৃষ্টি এবং কোভিড-১৯ প্রোটোকল লঙ্ঘনের মাধ্যমে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ভাঙার বিষয়টি রয়েছে।

আরও পড়ুন : হিজাবের নতুন নির্দেশনা দিয়ে কাবুলে তালেবানি ব্যানার

উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্ষমতাচ্যুত হলেও মূলত গত জুন থেকে রাজধানী নেইপিদোর বিশেষ সামরিক আদালতে এসব মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এসব মামলায় সু চির সর্বোচ্চ শাস্তি হলে মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ ১০০ বছর ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড