• রোববার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ৯ মাঘ ১৪২৮  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কাজাখস্তান ছাড়ছে রুশ সৈন্যরা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১২ জানুয়ারি ২০২২, ১১:১৫
কাজাখস্তান ছাড়ছে রুশ সৈন্যরা
কাজাখস্তানে মোতায়েন রাশিয়ান সেনাবাহিনীর সদস্যরা (ছবি : তাস)

জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জনগণের তীব্র বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে সৃষ্ট দাঙ্গায় বিপর্যস্ত রাষ্ট্র কাজাখস্তানে এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে। মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম দেশটিকে নাড়িয়ে দেওয়া সহিংসতার ঘটনায় আরও প্রায় পাঁচ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের দমাতে মোতায়েন রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সিএসটিও শান্তিরক্ষী বাহিনী বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) কাজাখ ভূখণ্ড ছাড়তে শুরু করবে।

মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট কাশিম-জোমার্ট তোকায়েভ ঘোষণাটি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

ভিডিয়ো কনফারেন্সে সরকার ও পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে রুশ সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হবে। তাদের দেশ ছাড়তে মোটে ১০ দিনের বেশি লাগবে না।

তিনি আরও বলেন, সিএসটিও শান্তিরক্ষী বাহিনীর মূল মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে গেল সপ্তাহে কাজাখস্তানের বিক্ষোভকে 'বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা' বলে বর্ণনা করেছে কাজাখস্তান ও রাশিয়া।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গেল ২ জানুয়ারি কাজাখস্তানে আন্দোলন শুরু হয়। পরে আরও কিছু দাবি আন্দোলনে যুক্ত হয়। এক পর্যায়ে তা রূপ নেয় সহিংসতায়। বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী আসকার মামিন।

আরও পড়ুন : নতুন প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে কাজাখস্তান

এক পর্যায়ে দেশজুড়ে জারি হয় দুই সপ্তাহের জরুরি অবস্থা। এতেও দমানো যায়নি বিক্ষুব্ধদের। এমন পরিস্থিতিতে আলমাতি শহরে চালানো হয় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশের সামরিক জোট কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (সিএসটিও) সহায়তা চান কাজাখস্তান প্রেসিডেন্ট। রাশিয়ার নেতৃত্বে সৈন্যরা নামে দেশে।

তারা জানিয়েছে, দেশের অবকাঠামো রক্ষায় যতদিন কাজাখস্তান সরকার চাইবে, ততদিন সে দেশে তাদের উপস্থিতি থাকবে। বিক্ষোভকারীদের প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট তোকায়েভ।

কাজাখ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, অভিযানে মঙ্গলবার পর্যন্ত আটক হয়েছেন ১০ হাজারের মতো মানুষ। প্রাণহানি হয়েছে ১৬৪ জনের। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, সহিংসতার ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের মধ্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশিও রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষোভকারীরা সরকার ও সামরিক ভবনগুলোতে আক্রমণের ডাক দেয়। প্রেসিডেন্ট কাসিম জোমার্ট তোকায়েভ বলেছেন, এই ধরনের প্রতিবাদ সম্পূর্ণ অন্যায়। সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিৎ বিক্ষোভকারীদের। এছাড়া এই সহিংসতার পেছনে অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশি প্ররোচকদের হাত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন : রেললাইনে আছড়ে পড়া বিমানকে গুঁড়িয়ে দিল ট্রেন (ভিডিয়ো)

উল্লেখ্য, কাজাখস্তানে অনেকেই এলপিজিতে গাড়ি চালান। সরকার এতদিন দাম নিয়ন্ত্রণ করে রাখায় গ্যাসোলিনের চেয়ে এলপিজিতে গাড়ি চালানো সস্তা ছিল। সরকার সেই এলপিজির দাম বাড়ানোয় প্রবল আন্দোলন শুরু হয়। মূলত এসবের জেরে কাজাখ সরকারের পতন হলো।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড