• শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কাজাখস্তানে পৌঁছেছে রুশ সেনাবাহিনী

বিক্ষোভ দমন অব্যাহত

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:২৩
কাজাখস্তানে পৌঁছেছে রুশ সেনাবাহিনী
কাজাখস্তানের সড়কে মোতায়েন রুশ সেনা সদস্যরা (ছবি : তাস)

জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জনগণের তীব্র বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে বিপর্যস্ত মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তানকে স্থিতিশীল করতে দেশটিতে নিজেদের সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে রাশিয়া।

কাজাখ প্রেসিডেন্টের অনুরোধে এই বাহিনী বিক্ষোভ দমনে সহায়তা করবে। সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের দমন অব্যাহত রেখেছে কাজাখস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরে কাজাখস্তানে চলা বিক্ষোভে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে সরকারি কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দেশটির সবচেয়ে বড় শহর আলমাতিতে তীব্র গুলিবর্ষণের একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের এক সাংবাদিক।

জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কাজাখ প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ বিক্ষোভের জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘সন্ত্রাসী’দের দায়ী করলেও কোনো প্রমাণ দেননি।

গত বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশনকে (সিএসটিও) সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করেন। এই জোটে রয়েছে রাশিয়া, কাজাখস্তান, বেলারুশ, তাজিকিস্তান এবং আর্মেনিয়া।

বিদেশি এই বাহিনী কাজাখস্তানে প্রায় আড়াই হাজার সেনা পাঠিয়েছে। সিএসটিও জানিয়েছে, তাদের সৈন্যরা শান্তিরক্ষী বাহিনী এবং তারা রাষ্ট্রীয় এবং সামরিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা দেবে। রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, এই বাহিনী কাজাখস্তানে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ অবস্থান করতে পারে।

আরও পড়ুন : পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আবারও করোনায় আক্রান্ত

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ বাহিনী মোতায়েনের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে তারা। এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং খোলাখুলিভাবে পুরো দুনিয়া দেখবে সেখানে কোনও মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় কি-না। এছাড়া কোনো কাজাখ প্রতিষ্ঠান দখলও হয়ে যাচ্ছে কি-না তাও পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি।

কাজাখ কর্মকর্তাদের মতে, আলমাতি শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৮ সদস্য নিহত হয়েছে। আর পুলিশ জানিয়েছে, তারা কয়েক ডজন মানুষকে হত্যা করেছে। তাদের দাঙ্গাবাজ আখ্যা দিয়েছে পুলিশ।

৫৮ বছর বয়সী নির্মাণকারী সোলে আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে সরাসরি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করতে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা মৃত্যু দেখেছি। চোখের সামনে দশ জনকে মরতে দেখেছি।

কাজাখ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় দুই হাজার ২৯৮ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষোভকারীরা সরকার ও সামরিক ভবনগুলোতে আক্রমণের ডাক দেয়। প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ বলেছেন, এই ধরনের প্রতিবাদ সম্পূর্ণ অন্যায়। সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিৎ বিক্ষোভকারীদের। এছাড়া এই সহিংসতার পেছনে অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশি প্ররোচকদের হাত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন : দিল্লির চাঁদনি চক বাজারে আগুন, বহু দোকান ছাই

উল্লেখ্য, কাজাখস্তানে অনেকেই এলপিজিতে গাড়ি চালান। সরকার এতদিন দাম নিয়ন্ত্রণ করে রাখায় গ্যাসোলিনের চেয়ে এলপিজিতে গাড়ি চালানো সস্তা ছিল। সরকার সেই এলপিজির দাম বাড়ানোয় প্রবল আন্দোলন শুরু হয়। মূলত এসবের জেরে কাজাখ সরকারের পতন হলো।

সূত্র : বিবিসি নিউজ

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড