• রোববার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ৯ মাঘ ১৪২৮  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভবিষ্যতের সমরাস্ত্র-যুদ্ধের কৌশল কেমন হবে?

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৫ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:১৪
ভবিষ্যতের সমরাস্ত্র-যুদ্ধের কৌশল কেমন হবে?
ম্যাপ দেখে যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে (ছবি : রয়টার্স)

বিশ্বের ক্ষমতাধর বিভিন্ন দেশে ২০২১ সালে প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা নীতিতে মৌলিক বেশকিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। যেমন- যুক্তরাজ্য নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সাইবার প্রযুক্তিতে বাজেট বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি সনাতনী যুদ্ধাস্ত্র ও সৈন্য সংখ্যার পেছনে ব্যয়বরাদ্দ হ্রাস করেছে।

একই সময়ে ইউক্রেন সীমান্তে নিজেদের সেনাবাহিনীর সদস্যদের সমাবেশ বাড়িয়েছে রাশিয়া। মস্কো বেশ কড়া ভাষায় দাবি করেছে, সামরিক জোট ন্যাটো যেন রাশিয়ার ঘরের পাশে তাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে। চীন আরও উচ্চ কণ্ঠে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে যে, প্রয়োজন হলে লড়াই করে তারা তাইওয়ান পুনর্দখল করবে।

একই সঙ্গে ২০২১ সালে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আঞ্চলিক পর্যায়ে যুদ্ধ বেঁধেছে। ইথিওপিয়ায় এখনো চলছে ‘গৃহযুদ্ধ’। ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতে ২০১৪ সাল থেকে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ হাজারের অধিক মানুষ। যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র সিরিয়ায় বিদ্রোহ কিছুটা ছাই চাপা আগুনের মতো স্তিমিত রয়েছে। এমনকি আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের উত্থান হয়েছে চোখে পড়ার মতো।

সংকটময় এমন পটভূমিতে আগামী দিনগুলোতে বড় বড় শক্তির যুদ্ধের কৌশল ঠিক কী হতে যাচ্ছে? আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী ধরনের সমরাস্ত্র নিয়ে তৈরি হচ্ছে পশ্চিমা শক্তিগুলো?

‘আগামীর যুদ্ধ কৌশল’ কি শুরু হয়ে গেছে?

ভবিষ্যৎ সমর কৌশলের একটা রূপরেখা আমরা এরই মধ্যে দেখেছি বলা চলে। এক দিকে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো আর অন্য দিকে বলা যায়, রাশিয়া এবং চীনের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতে কী ধরনের প্রযুক্তি, কী ধরনের কৌশল ব্যবহার হবে, তা ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। তার মহড়া হয়ে গেছে এমনকি তা মোতায়েনও করা হয়েছে।

গত বছরের ১৬ নভেম্বর রাশিয়া মহাকাশে একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। যার মাধ্যমে তারা নিজেদেরই একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করেছিল। গ্রীষ্মে চীন তাদের উন্নত হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্রর পরীক্ষা চালায়। হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে অনেক গুণ দ্রুতগতিতে ছুটতে সক্ষম।

এর বাইরে সাইবার দুনিয়ায় ক্ষতিসাধনকারী আক্রমণ চালানো, তা সে কোন ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়ার উদ্দেশে হোক বা কোনো কিছু হাতিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই হোক, একটা দৈনন্দিন ঘটনায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে ধরনের হামলা পরিচিত ‘সাব-থ্রেশহোল্ড ওয়ারফেয়ার’ হিসাবে যেখানে সামনা-সামনি বা প্রত্যক্ষ যুদ্ধ হচ্ছে না, কিন্তু যেটা পরোক্ষ একটা যুদ্ধ।

চীন ও রাশিয়া পশ্চিমের জন্য ‘চরম ঝুঁকি’

মিশেল ফ্লুওরনয় প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন এবং প্রেসিডেন্ট ওবামা ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে আমেরিকান কৌশল নির্ধারণে পেন্টাগনের নীতি বিষয়ক প্রধানের পদে কাজ করেছেন। তিনি বলছেন, গেল দুই দশক যাবত পশ্চিমা দেশগুলোর নজর ছিল শুধু মধ্যপ্রাচ্যে। এই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তারা এতোটাই ব্যস্ত থেকেছে যে সময় তাদের প্রতিপক্ষ দেশগুলো সামরিক দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে গেছে।

তিনি বলছেন, কৌশলগত দিক দিয়ে আসলেই আমরা একটা দুর্বল জায়গায় রয়েছি। আমরা- অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং আমাদের মিত্র দেশগুলো- আমরা বিশ বছর যাবত শুধু নজর দিয়েছি সন্ত্রাস ঠেকাতে আর বিদ্রোহ সামলাতে, ইরাকে আর আফগানিস্তানে যুদ্ধ করে সময় কাটিয়েছি। এখন চোখ খুলে আমরা দেখছি আমরা একটা খুবই গুরুতর, বিশাল একটা শক্তিমত্তার প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়েছি।

তিনি অবশ্যই এখানে রাশিয়া আর চীনের প্রতি ইঙ্গিত করছেন। ব্রিটিশ সরকারের একটি প্রতিরক্ষা পর্যালোচনায় এই দুই দেশকে ‘চরম ঝুঁকি’ এবং দীর্ঘ মেয়াদের জন্য তাদের পশ্চিমের ‘কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : প্রতিরক্ষা সহায়তায় নিরাপত্তা চুক্তিতে জাপান-অস্ট্রেলিয়া

মিশেল ফ্লুওরনয় মনে করেন, আমরা যখন ব্যাপক পরিসরে মধ্যপ্রাচ্যকে নিয়ে পড়েছিলাম, তখন এই দেশগুলো পশ্চিমা কায়দায় যুদ্ধ লড়ার স্কুলে পাঠ নিয়েছে। এবং তারা বিভিন্ন ধরনের নতুন প্রযুক্তিতে বাপক মাত্রায় বিনিয়োগ শুরু করেছে।

সম্মুখ-সমরের চরিত্র কেমন হবে?

যদিও এর অধিকাংশটাই বিনিয়োগ করা হয়েছে সাইবার হামলা চালানোর প্রযুক্তি ও কর্মকাণ্ডে, যেমন- পশ্চিমা সমাজের মূল্যবোধকে আঘাত করতে, তাদের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে, নির্বাচনে প্রভাব খাটাতে এবং স্পর্শকাতর তথ্য-উপাত্ত চুরি করতে চালানো বিভিন্ন হামলায়। এগুলো সম্মুখ-সমরের পর্যায় থেকে অনেক দূরে এবং এ ধরনের হামলার বেশিরভাগই অস্বীকার করা সম্ভব।

তবে ধরা যাক, ইউক্রেন নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব এবং রাশিয়ার মধ্যে বর্তমান উত্তেজনা বা তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যে উত্তেজনা, তা নিয়ে যুদ্ধ বাঁধল। তখন কী হবে? সেই যুদ্ধ বাঁধলে তার ধরন কী হবে?

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিসের (আইআইএসএস) সিনিয়র গবেষক মেইয়া নুওয়্ন্সে বলেছেন, আমার মনে হয় সেটি তখন খুব দ্রুত বদলে যাওয়া একটা আবহ তৈরি করবে, আর সেটি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়বে তথ্য প্রবাহের ডোমেইনগুলোর ওপর। তিনি মূলত এই মন্তব্য করেছেন সামরিক কৌশলে তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে চীনের এগিয়ে থাকার প্রতি ইঙ্গিত করে।

তার মতে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি, স্ট্র্যাটেজিক ফোর্স নামে একটি সংস্থা গড়ে তুলেছে, যাদের কাজ সাইবার জগত, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং ইন্টারনেটের সক্ষমতা নিয়ে।

কিন্তু বাস্তবে এর অর্থ কী দাঁড়াবে? এ ধরনের লড়াই বাঁধলে প্রথমেই দুই পক্ষেই বিশালভাবে সাইবার আক্রমণ শুরু হয়ে যাবে। দুই পক্ষই একে অন্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন স্যাটেলাইট ব্যবস্থাকে ‘অকেজো’ করে দেওয়ার চেষ্টা করবে, অথবা সমুদ্রের তলা দিয়ে যে কেবল ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য প্রবাহিত হয়, সেগুলো কেটে দেওয়ার চেষ্টা করবে।

সাধারণ মানুষের ওপর এ ধরনের যুদ্ধ কৌশলের প্রভাব কেমন হতে পারে; এমন প্রশ্নের জবাবে আইআইএসএসে ভবিষ্যৎ যুদ্ধাস্ত্র বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফ্রানয-স্টেফান গ্যাডি বলছেন, পরাশক্তিগুলো সাইবার স্পেসের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে লড়াই চালানোর সম্ভাবনায় বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে। শুধু তাই নয়, ইলেকট্রনিক সমরাস্ত্রের পেছনেও প্রচুর বিনিয়োগ হচ্ছে- যেমন উপগ্রহ ব্যবস্থা ‘জ্যাম’ করে দেওয়া এবং যোগাযোগ সক্ষমতা অচল করে দেওয়া। ফলে আগামী দিনের সংঘাতে লড়াইয়ের টার্গেট শুধু সামরিক বাহিনী হবে না, মূল লক্ষ্য হবে সার্বিকভাবে গোটা সমাজ।

সবচেয়ে বড় সামরিক ঝুঁকি কী?

সবচেয়ে বড় সামরিক ঝুঁকির জায়গা হলো অপরিকল্পিতভাবে ব্যাপক আক্রমণ। উপগ্রহ ব্যবস্থা অচল হওয়ায় যখন যোগাযোগ বিপর্যস্ত, তখন মাটির নিচে বাঙ্কারে বসে যুদ্ধ পরিকল্পনা করছেন যারা, তারা তো জানতেই পারছেন না কী ঘটছে। তখন লড়াইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ তাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

মেইয়া নুওয়্ন্সে মনে করেন, এ ধরনের সংকটময় পরিস্থিতিতে তাদের সামনে দুটি পথ থাকবে; হয় ‘ন্যূনতম’ না হয় ‘সর্বোচ্চ’ মাত্রার আঘাত হানা। যেটি হবে অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার মতো। আর এর যে কোনো একটারই মধ্যে দিয়ে যুদ্ধের পরিস্থিতিকে আরও উস্কে দেওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।

আগামীর যুদ্ধ কৌশলে আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে- সেটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা- এআই। এই প্রযুক্তি সমর অধিনায়কদের অত্যন্ত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। তারা অনেক দ্রুত তথ্য যাচাই করে তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তিতে মানের দিক দিয়ে সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের চেয়ে আমেরিকা এগিয়ে আছে বলে মনে করেন মিশেল ফ্লুওরনয়। তার বিশ্বাস চীন তার পিপলস লিবারেশন আর্মির বিশালতার নিরিখে যেখানে অনেক এগিয়ে আছে, সেখানে তাকে টেক্কা দিতে আমেরিকাকে সাহায্য করবে এআই।

তিনি মনে করেন, মানুষ এবং যন্ত্র; এই দুটির বুদ্ধিমত্তা একযোগে কাজে লাগালে শত্রুশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার পরিকল্পনায় এগিয়ে থাকার সুযোগ পাওয়া যাবে।

চীন এবং রাশিয়া কোন দিক থেকে পশ্চিমকে টেক্কা দিচ্ছে?

একটি ক্ষেত্রে পশ্চিমের দেশগুলো বিপজ্জনকভাবে চীন ও রাশিয়ার পেছনে পড়ে রয়েছে। সেটা হলো হাইপারসনিক মিসাইল শক্তির ক্ষেত্রে। হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র হলো- উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মিসাইল যা শব্দের চেয়ে পাঁচ থেকে ২৭ গুণ দ্রুতগতিতে যে কোনো জায়গায় উড়তে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে অপারমাণবিক অথবা পারমাণবিক দুই ধরনের অস্ত্রই বসানো সম্ভব।

আরও পড়ুন : বাংলাদেশ সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিএসএফ

রাশিয়া হাইপারসোনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে সাফল্যের কথা ঘোষণা করে বলেছিল, এই ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের যে কোনো দেশের যে কোনো রকম প্রতিরক্ষাকে পরাস্ত করতে সক্ষম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়ার পরাশক্তি চীন ২০১৯ সালে তাদের ডং ফেং ১৭ ক্ষেপণাস্ত্রের কথা প্রকাশ করে। এটিতে হাইপারসনিক গ্লাইড প্রযুক্তি ব্যবহারের উপযোগী একটি যান আছে, যা বায়ুমণ্ডলের মধ্যে দিয়ে যে কোনো নিশানায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়তে সক্ষম। এই ক্ষেপণাস্ত্রর গতিপথ নির্ণয় করা দুরূহ, ফলে তা ধরাও কঠিন।

অন্য দিকে আমেরিকার উদ্ভাবিত একটি পদ্ধতির সাম্প্রতিক পরীক্ষা সফল হয়নি। চীনের অস্ত্র সম্ভারে নতুন এই অস্ত্র সংযোজিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে তাইওয়ান দখলের জন্য চীন যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিলে মার্কিন প্রশাসন তাইওয়ানের পক্ষে লড়বে কি-না সে নিয়ে ওয়াশিংটনকে এখন দ্বিতীয়বার ভাবতে হবে।

পশ্চিমের জন্য পরিস্থিতি কি শুধুই হতাশাব্যাঞ্জক?

তবে এতো উন্নত মানের প্রযুক্তি হাতে থাকার পরেও রাশিয়া ২০২২ সালে এসে ইউক্রেন সীমান্তে যে সেনা সমাবেশ করেছে সেখানে মূলত সনাতনপন্থি যুদ্ধের সরঞ্জামই চোখে পড়ছে অর্থাৎ ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং সেনাবাহিনী, যদিও অবশ্যই তারা সাইবার ও ইলেকট্রনিক হামলার পুরোদস্তুর ক্ষমতা রাখে।

যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরনো প্রথার যুদ্ধ সরঞ্জামের পেছনে ব্যয়বরাদ্দ হ্রাস করে তা নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের। ফ্রানয-স্টেফান গ্যাডি বলছেন, এর থেকে লাভের ফসল অবশ্যই পাওয়া যাবে- তবে তা বিশ বছর পরে। কিন্তু তার আগে ব্রিটেনের জন্য শক্তিমত্তার প্রতিযোগিতায় যে ফারাক তৈরি হবে তা উদ্বেগের বৈকি।

তিনি বলেছেন, আমার ধারণা আগামী পাঁচ থেকে দশ বছর পশ্চিমের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জের সময়। কারণ এ সময়েই ব্যয় হ্রাসের প্রক্রিয়ার প্রভাবগুলো পড়বে। একদিকে ছাঁটকাটের কারণে অনেক কিছুর অভাব, অন্য দিকে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ সবে শুরু হওয়ায় সক্ষমতাও পুরোদস্তুর তৈরি না হওয়া- প্রতিরক্ষা কার্যকারিতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

আর পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার প্রতি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলো আসবে আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যেই। তাহলে পরিস্থিতি কি পশ্চিমের জন্য শুধুই হতাশাব্যাঞ্জক? যদিও মিশেল ফ্লুওরনয় তা মনে করেন না। আমেরিকার প্রতিরক্ষা নীতির কেন্দ্রে তিনি অনেক বছর ধরে কাজ করেছেন।

তার দাবি, পশ্চিমকে এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দুটি দিকে নজর দিতে হবে- মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পর্যায়ে পরামর্শ এবং সমন্বয় আর সঠিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ।

আরও পড়ুন : চীনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তুরস্কে উইঘুরদের মামলা

তিনি বলেছেন, আমরা যদি এক যোগে আলোচনা করি এবং সঠিক প্রযুক্তিতে প্রকৃতভাবে বিনিয়োগ করি, সঠিক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করি এবং দ্রুত ও ব্যাপক পর্যায়ে তা গড়ে তোলার কাজে নামি, তাহলে মহাশক্তির মধ্যে লড়াই ঠেকাতে আমরা সমর্থ হবো।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড