• বুধবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২ মাঘ ১৪২৮  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অভিবাসীদের ঠেকাতে ইংলিশ চ্যানেল পাহারায় বিশেষ বিমান

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৩২
অভিবাসীদের ঠেকাতে ইংলিশ চ্যানেল পাহারায় বিশেষ বিমান
ইংলিশ চ্যানেল অভিবাসীদের বহনকারী নৌকায় নজরদারি চালাচ্ছে বিশেষ বিমান (ছবি : রয়টার্স)

ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে বিভক্তকারী ইংলিশ চ্যানেলে নৌকাডুবির ঘটনায় সম্প্রতি ২৭ জন শরণার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবারের সেই ঘটনায় প্রাণ হারানো অভিবাসীদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ, ৭ জন নারী এবং তিনটি শিশু রয়েছে। শরণার্থী মৃত্যু নিয়ে এরপরই যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের মধ্যে পত্রযুদ্ধ শুরু হয়। এছাড়া জরুরি বৈঠকে ইংলিশ চ্যানেলে টহলদারি বিমানের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফ্রনটেক্স বিমান দিন-রাত সেখানে টহল দেবে।

গত বুধবারের নৌকাডুবির ওই ঘটনার আগে ইংলিশ চ্যানেলে এতো বড় দুর্ঘটনা আগে হয়নি। মূলত এরপরেই বিষয়টি নিয়ে জরুরি আলোচনার ডাক দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। অপর দিকে ব্রিটেনও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনের কথা জানায়।

রবিবারের বৈঠকে জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্সের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলেরও যোগ দেওয়ার কথা ছিল। যদিও শেষ মুহূর্তে যুক্তরাজ্য বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর মূল কারণ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোকে লেখা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের খোলা চিঠি।

চিঠিতে এই দুর্ঘটনার জন্য কার্যত ফ্রান্সকেই এককভাবে দোষারোপ করেছেন বরিস। দুই পাতার চিঠিটিতে ইংলিশ চ্যানেলে শরণার্থীদের যাতায়াত নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। বরিস জনসনের খোলা চিঠি পেয়ে স্বভাবতই প্রত্যাঘাত করেছে ফ্রান্স। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোর মন্তব্য, ‘বরিস সিরিয়াস নন।’

এরপরেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়। ফলশ্রুতিতে প্রীতি প্যাটেল ওই বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকার করেন।

আরও পড়ুন : রোমানিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি থেকে ২০ লাখ ডলারের জ্বালানি চুরি

গত রবিবারের ওই বৈঠকে ফ্রান্স ছাড়াও উপস্থিত ছিল বেলজিয়াম, জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো। সকলেই একটি বিষয়ে একমত হয়েছেন, যেভাবে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অভিবাসন প্রত্যাশীরা ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিচ্ছেন, অবিলম্বে তা বন্ধ করতে হবে। ওই অঞ্চলে গড়ে ওঠা পাচারকারী সংস্থাগুলোর ওপর নজরদারি চালাতে হবে।

এখন দেখতে হবে, যাতে একটিও নৌকা চ্যানেলে নামানো না হয়। এর জন্যই ফ্রনটেক্সকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের বিমান দিনরাত ইংলিশ চ্যানেলের ওপর টহল দেবে বলে ঠিক হয়েছে।

বৈঠকে বলা হয়েছে- প্রাণের দায়, পেটের দায়ে শরণার্থীরা ইউরোপে প্রবেশ করতে চাইছেন। আফগান, ইরাকি, সিরিয়ান, সুদানের শরণার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। যদিও ইংলিশ চ্যানেলে আর প্রাণহানি হতে দেওয়া যাবে না। ফলে যারা শরণার্থীদের ছোট ছোট নৌকায় তুলে দিচ্ছে, তাদের ওপর নজরদারি চালাতে হবে। অবৈধভাবে ইউরোপে আর শরণার্থী ঢোকানো যাবে না।

ফরাসি প্রেসিডেন্টকে লেখা চিঠিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যে পাঁচটি পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন সেগুলো হলো-

১. ফ্রান্সের উপকূল থেকে আরও নৌকা ছেড়ে যাওয়া ঠেকাতে যৌথ টহল,

২. সেন্সর ও রাডারের মতো উন্নত প্রযুক্তি মোতায়েন,

৩. পরস্পরের আঞ্চলিক জলসীমায় টহল এবং আকাশপথে নজরদারি,

৪. যৌথ গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরালো করা,

৫. তাৎক্ষণিকভাবে ফিরিয়ে নিতে ফ্রান্সের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি।

এর আগে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বহু সংখ্যক শরণার্থী ইংল্যান্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এর আগেও বেশকিছু শরণার্থী ছোট নৌকা ভাড়া করে ইংলিশ চ্যানেল পার করার চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়া ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে ইউরোপ থেকে বহু শরণার্থী ব্রিটিশ ভূখণ্ডে চলে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। এর আগেও নৌকাডুবিতে মৃত্যু হয়েছে অনেক মানুষের।

আরও পড়ুন : ফের আলোচনার টেবিলে বাইডেন-পুতিন

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, ইংলিশ চ্যানেলে একটি খালি ডিঙ্গি নৌকা এবং আশপাশে বহু নিশ্চল ও নিথর মানুষকে ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি উদ্ধারকারী সংস্থার কাছে বার্তা পাঠান। মূলত এর পরপরই ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। উভয় দেশের এই উদ্ধার তৎপরতায় কমপক্ষে তিনটি নৌকা এবং তিনটি হেলিকপ্টার অংশগ্রহণ করে।

সম্প্রতি ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন জানিয়েছিলেন, নৌকাডুবির এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে চার ব্যক্তিকে আটক করেছে ফ্রান্সের পুলিশ। তিনি ইংলিশ চ্যানেলে এই নৌকাডুবি ও হতাহতের ঘটনাটিকে তার দেখা সবচেয়ে বড় অভিবাসী বিপর্যয় বলে মন্তব্য করেছেন।

এছাড়া ইংলিশ চ্যানেল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর তাদেরকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। দীর্ঘসময় ধরে তীব্র ঠান্ডা পানির মধ্যে থাকার করণে তারা গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া নিহতদের পরিচয় এবং তারা ঠিক কোন দেশের নাগরিক তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

অবশ্য, ইংলিশ চ্যানেলে নৌকাডুবির এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। অতীতে সাঁতার কেটে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে যেতেও চেষ্টা করেছিলেন শরণার্থীরা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইংলিশ চ্যানেল পার করার সময় এক হাজার ৩০০ শরণার্থীকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি ফ্রান্স সরকারের।

আরও পড়ুন : ব্রিটেনের সঙ্গে ‘গুরুতর’ আলোচনা চায় ফ্রান্স

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। আর ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ব্রিটেন-ফ্রান্সকে বিভক্তকারী এই পানিতে সাতজনের মৃত্যু হয়।

সূত্র : ডয়েচে ভেলে

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড