• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মিশিগানে করোনার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে

  কামরুজ্জামান হেলাল, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

১৮ নভেম্বর ২০২১, ১৬:১৮
মিশিগানে করোনার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রস্তুত স্বাস্থ্যকেন্দ্র (ফাইল ছবি)

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে আক্রান্তের দিক থেকে অঙ্গরাজ্যটি গত মঙ্গলবার দেশের সবচেয়ে খারাপ হট স্পটে পৌঁছেছে। কারণ গেল সাত দিনে অঞ্চলটিতে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৫০৪ জন কোভিড শনাক্ত হয়েছেন। যা জাতীয়ভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যা।

এই পরিসংখ্যানটি রোগটির বিরুদ্ধে রাজ্যের ২০ মাসের লড়াইয়ে আরেকটি পতন এবং মিশিগানের হাসপাতালের সক্ষমতা ক্রমেই কমছে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে মিশিগানে জাতীয়ভাবে আক্রান্তর দিক থেকে সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল।

অঙ্গরাজ্যটির হাসপাতালগুলো বলছে, তারা অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছে। কারণ গত মাসে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। মিশিগান হেলথ অ্যান্ড হসপিটাল অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র জন কারাসিনস্কি বলেছেন, হাসপাতালে কোভিড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ভীষণই উদ্বেগজনক। আমরা গত কয়েকদিনে হাসপাতালে ভর্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখছি। সর্বশেষ উত্থান কতদিন স্থায়ী হবে এবং ২০২০ সালের মার্চ থেকে মহামারি মোকাবিলা করা স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের এটি কীভাবে প্রভাবিত করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

একটি মিডিয়া ব্রিফিংয়ে স্পেকট্রাম হেলথ ওয়েস্ট মিশিগানের প্রেসিডেন্ট ড. ড্যারিল এলমাউচি বলেছেন, আজ আমরা যা অনুভব করছি তা নজিরবিহীন। এর আগে আমরা এ রকম কিছু অনুভব করিনি। স্পেকট্রাম ওয়েস্ট মিশিগানে বর্তমানে ৩৬৭ জন করোনা পজিটিভ রোগী রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহ থেকে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হেলেন ডিভোস চিলড্রেনস হাসপাতালে ১৮ জন শিশু করোনার জটিলতায় ভুগছে। যা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন : অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে যুক্তরাষ্ট্রে লক্ষাধিক মৃত্যু

হেলেন ডিভোস চিলড্রেনস হাসপাতালের কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিকতম এই বৃদ্ধির সময় করোনায় একটি শিশু মারা গেছে। হাসপাতালের শয্যা স্বল্পতার মধ্যে থাকলেও, স্পেকট্রাম হেলথের কর্মকর্তারা বলছেন- তাদের রোগীদের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর রয়েছে।

স্পেকট্রাম হেলথ গ্র্যান্ড র‌্যাপিডসের চিফ অপারেটিং অফিসার ব্রায়ান ব্রাসার মনে করেন, আমরা এখন যা দেখছি কিছুদিন পর হয়তো আমাদের সম্প্রদায়ের প্রয়োজন মেটাতে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ভেন্টিলেটর নিয়ে যেতে হবে।

ডেট্রয়েটভিত্তিক হেনরি ফোর্ড হেলথ সিস্টেমের প্রধান ক্লিনিকাল অফিসার ড. আদনান মুনকারাহ বলেছেন, আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা আশা করছিলাম যে আমরা গত বছরের তুলনায় এই থ্যাঙ্কসগিভিংয়ে আরও ভালো পরিস্থিতির মধ্যে থাকব। বিশেষ করে ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতার জন্য। আমরা আতঙ্কে আছি এবং আমাদের সম্প্রদায় জুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন।

যারা আগামী সপ্তাহে থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের জন্য জড়ো হওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের প্রতি টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুনকারাহ। তিনি আরও বলেন, হেনরি ফোর্ডের পাঁচটি হাসপাতাল জুড়ে, গত সোমবার ২৮৯ জন রোগী কোভিড-১৯ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে ৬৯% সম্পূর্ণরূপে টিকা নেয়নি। আমাদের সবাইকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে টিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বোত্তম। সুতরাং আপনারা যারা পরিবারের সঙ্গে জড়ো হবেন, আমরা আশা করি আপনাদের সকলকে টিকা দেওয়া হয়েছে কারণ এটি আপনাদের সকলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা প্রদান করে।

আরও পড়ুন : সাবমেরিন নিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের মহড়া

বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের মতো করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও এখনোই কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে না হুইটমারের প্রশাসন। এক বছর আগে সোমবার ‍হুইটমার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্কুল, কলেজ ও হোটেল বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এটা স্পষ্ট নয় যে, ‍হুইটমারের প্রশাসন একই পদক্ষেপ নেবেন কি-না।

হুইটমারের মুখপাত্র ববি লেডি এই সপ্তাহে কোনো ইঙ্গিত দেননি যে গভর্নরের প্রশাসন হস্তক্ষেপের জন্য তার জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করবে। তিনি বলেন, আমরা মিশিগানবাসীকে টিকা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে চাই। কারণ এটি মানুষকে নিরাপদ রাখে এবং ব্যবসা ও স্কুল নিরাপদে পরিচালনা করার সর্বোত্তম উপায়।

২০২০ সালের মার্চ মাসে রাজ্যে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়ে ২৩ হাজার ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শনাক্ত হয়েছেন ১২ লাখ ২৪ হাজার ২৭৩ জন।

আরও পড়ুন : আততায়ীর গুলিতে মার্কিন র‍্যাপ তারকা নিহত

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ প্রাণঘাতী ভাইরাসটিকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড