• বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিএসএফ-সীমান্তহত্যা ইস্যুতে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ নভেম্বর ২০২১, ১১:৩৭
বিএসএফ-সীমান্তহত্যা ইস্যুতে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা
সীমান্তে টহলরত বিএসএফের সদস্যরা (ছবি : কলকাতা ২৪)

দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক্তিয়ার বৃদ্ধি ইস্যুতে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভায়। বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে বিধানসভাতে একটি প্রস্তাবও পাস করানো হয়েছে।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ দীর্ঘদিন যাবত যে অভিযোগ করে আসছিল; এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভাতেও একই অভিযোগ উত্থাপিত হলো। বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধির প্রশ্নে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং বিধায়ক তাপস রায় রীতিমতো পরিসংখ্যান দিয়ে বাহিনীটির বিরুদ্ধে সীমান্তহত্যা, গুম, অপহরণের অভিযোগ তুললেন। যা নিয়ে বুধবারও (১৭ নভেম্বর) উত্তপ্ত ছিল বিধানসভা। রাজ্যের বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারের অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করেছেন।

বস্তুত, গত মঙ্গলবার বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি প্রস্তাব পাশ করেছে। ১১২-৬৩ ভোটে পাশ হওয়া সেই প্রস্তাবে রাজধানী নয়াদিল্লিতে আসীন কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল- পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলোতে বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধি করা হবে। এখন থেকে সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অঞ্চলে তারা চাইলেই কাজ করতে পারবে। এমনকি অঞ্চলটিতে তারা সাধারণ মানুষের বাড়িঘরেও তল্লাশি চালিয়ে লোকজনকে আটক করতে পারবে এবং এসব ক্ষেত্রে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে কোনো পুলিশের অনুমতি নিতে হবে না।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অভিযোগ- কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরোধী এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিষয়টি সম্পর্কে বুধবার বিধানসভায় বলেছিলেন, কেন্দ্র পিছনের দরজা দিয়ে রাজ্যের এলাকা দখল করতে চাইছে।

আরও পড়ুন : ইসরায়েলের সঙ্গে প্রথমবারের মতো নৌ মহড়ায় বাহরাইন-আমিরাত

তার ভাষায়, আগে বিএসএফের যে এক্তিয়ার ছিল, তাতে তারা সীমান্তের অপরাধ বন্ধ করতে পারেনি। কোন যুক্তিতে তারা নতুন এক্তিয়ারে অপরাধ বন্ধ করতে পারবে?

সীমান্তে হত্যা

বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক তাপস রায় বিএসএফের বিরুদ্ধে একাধিক তথ্য তুলে ধরেছেন বিধানসভায়। তার মতে, গেল পাঁচ বছরে বিএসএফের বিরুদ্ধে ২৪০টি অত্যাচার, ৬০টি খুন এবং ৮টি নিখোঁজের ঘটনার অভিযোগ আছে। সেই বাহিনীটির এক্তিয়ার বৃদ্ধি করে বিজেপি রাজ্যের এক-তৃতীয়াংশ দখল করতে চাইছে। আর আমরা কি তা দাঁত বার করে দেখব?

তাপসের এই অভিযোগের জবাবে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় তিনি বলেছেন, যাদের সীমান্তে পাহারা দেওয়ার কারণে আমরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি, তাদের নামে অশালীন, নিম্ন রুচির কথাবার্তা বিধানসভায় ব্যবহার করা হয়েছে।

বিজেপির আরেক বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর নিতে, বিএসএফ শুধু গ্রেফতার কিংবা বাজেয়াপ্ত করতে পারে। তাদের হাতে তদন্ত বা বিচারের কোনো ক্ষমতা নেই। পুলিশের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। তাহলে অসুবিধা কোথায়?

আরও পড়ুন : সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

যদিও শ্রীরূপা কোনো অসুবিধা খুঁজে না পেলেও এ ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা রয়েছে বলেই মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা। মানবাধিকার সংগঠন মাসুমের কর্মকর্তা কিরিটি রায় ডয়েচে ভেলেকে জানিয়েছেন, সীমান্তহত্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে অর্থ সীমান্তে অশান্তি আরও বাড়বে। কোন যুক্তিতে সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার ভিতরে সীমান্তরক্ষা বাহিনীর প্রয়োজন হয়?

সম্প্রতি উপ নির্বাচনে দিনহাটা থেকে জিতে আসা বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেছেন, সীমান্তে পাচারের সঙ্গেও বিএসএফ যুক্ত। তারা কার্ড দেখিয়ে কাঁটাতার পেরিয়ে কাজ করতে আসা নারীদের গায়ে তল্লাশির নামে হাত দেয়। কোনোভাবেই বিএসএফের এক্তিয়ার বাড়ানোর যুক্তি মানা যায় না। এতে অশান্তি বাড়বে। সিপিএম এবং কংগ্রেসও এরই মধ্যে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা বিএসএফের এক্তিয়ার বাড়ানোর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রস্তাব পাশ করেছে। তার আগে পাঞ্জাব বিধানসভাও একই কাজ করেছে। কিন্তু তাতে কি লাভ হবে?

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বিএসএফের এক সাবেক অফিসার জার্মান মিডিয়া ডয়েচে ভেলেকে বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রের। ফলে বিধানসভার প্রস্তাব আইন বদলাতে পারবে না; কিন্তু কেন্দ্রীয় নীতির উপর চাপ তৈরি করতে পারবে।

আরও পড়ুন : ইসরায়েলে ব্যাপক সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে ‘মুসার লাঠি’

এ দিকে বুধবার বিবৃতির মাধ্যমে বিএসএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই তারা কাজ করবে। তাদের ক্ষমতা বাড়ানো হয়নি। এখন দেখার, পাঞ্জাব এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুইটি সীমান্ত অঞ্চলের চাপের সামনে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত বদল করে কি-না।

সূত্র : ডয়েচে ভেলে

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড