• শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রথমবারের মতো নৌ মহড়ায় বাহরাইন-আমিরাত

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ নভেম্বর ২০২১, ১৬:৪৩
ইসরায়েলের সঙ্গে প্রথমবারের মতো নৌ মহড়ায় বাহরাইন-আমিরাত
সমুদ্রে নৌ মহড়া চলছে (ছবি : দ্য ডেইলি সাবাহ)

উপসাগরীয় কোনো দেশের নৌবাহিনী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত ইসরায়েলি রণতরীর সঙ্গে যৌথ নৌ মহড়া চালাচ্ছে; বিশ্বের বুকে এমন ঘটনা এবারই প্রথম। যদিও মাত্র তিনবছর আগেও বিষয়টা ছিল একদমই অচিন্তনীয়। লোহিত সাগরে পাঁচ দিনের এই নৌ মহড়ায় অংশ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ইসরায়েল, বাহরাইন ও মার্কিন রণতরীগুলো।

গুরুত্বপূর্ণ এই মহড়া শুরু হয়েছে গত বুধবার এবং ‘জাহাজের মুক্ত চলাচল নিশ্চিত করতে’ জাহাজে ওঠা, অনুসন্ধান চালানো এবং তা জব্দ করার কৌশল এই মহড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড বলছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে যৌথভাবে কাজ করতে অংশ গ্রহণকারী দেশগুলোর নৌবাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ‘অ্যাব্রাহাম চুক্তি’ নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই যৌথ মহড়ায় দেশগুলো অংশ নিচ্ছে। বিতর্কিত ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পর মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদিবাদী দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক, সামরিক এবং গোয়েন্দা যোগাযোগের ব্যাপারে ব্যাপকভিত্তিতে আলাপ আলোচনা হয়েছে; বিশেষ করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ইস্যুতে এই দেশগুলোর একই ধরনের উদ্বেগের পটভূমিতে।

সম্প্রতি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান নিজে বাহরাইন সফর করেছেন এবং চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ইউএইয়ের বিমান বাহিনীর অধিনায়ক প্রথমবারের মতো এ ধরনের একটি সফরে তেল আবিব গেছেন।

ইরান যেভাবে তার শক্তি বৃদ্ধি করছে

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানও সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিজস্ব নৌ মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন এবং অন্যান্য পশ্চিমা নৌবাহিনীর উপস্থিতির ঘোর বিরোধিতা করছে তেহরান।

শাহয়ের শাসনামলে এলাকাটিতে নৌ সামরিক শক্তিতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ ছিল ইরান। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীকে বহিষ্কারের জন্য প্রায়শই আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

আরব দেশগুলোকে ইরান বলার চেষ্টা করেছে যে, উপসাগরীয় এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বাভাবিকভাবে তেহরানের সঙ্গেই জোটে তাদের অংশীদার হওয়া উচিৎ। যদিও ইরানের এই আহ্বানকে কখনোই তারা কর্ণপাত করেনি। ছয়টি আরব রাষ্ট্রের প্রত্যেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দেশে সামরিক ঘাঁটি তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে দিয়েছে।

আরও পড়ুন : ইসরায়েলে ব্যাপক সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে ‘মুসার লাঠি’

মূলত ইরান ও তার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্পর্কে গভীরভাবে সন্দিহান সৌদি আরব, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সফলভাবেই অগ্রাহ্য করে যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী বিকল্প মিলিশিয়া বাহিনীর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, তার ওপরেও তারা উদ্বেগের সঙ্গে নজর রেখেছে।

সৌদি আরবের নেতৃত্বে ইয়েমেনে আক্রমণ

সৌদি আরবের নেতৃত্বে নির্যাতিত রাষ্ট্র ইয়েমেনের ওপর ছয় বছরের বেশি সময় যাবত চালানো বিমান হামলা ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীদের পরাজিত করতে পারেনি। এমনকি লেবাননে হিজবুল্লাহ আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র ইরাক-সিরিয়াতে মিলিশিয়াদের অর্থ ও অস্ত্রের যোগান দিয়ে এবং সিরিয়াতে তাদের নিজস্ব বাহিনী পাঠিয়ে তেহরান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ প্রশাসনের হাত শক্ত করে এই দুটি দেশে তাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।

ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভার আরও উন্নত করেছে এবং এসব মিসাইল উপসাগরের যে কোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনীও দ্রুত তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের নৌ অস্ত্র সম্ভারে যুক্ত করেছে দ্রুত আঘাত হানার এবং মাইন পাতার উপযোগী জাহাজ।

এ দিকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর উদ্বেগের সঙ্গে সহমত ইসরায়েল। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তারা ক্রমশই আরও বেশি উদ্বিগ্ন উঠছে। বিশেষ করে ২০১৫ সালে তথাকথিত যৌথ সার্বিক কর্ম পরিকল্পনা (জেসিপিওএ) নামে যে পরমাণু চুক্তি হয়েছিল, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরে ইরান সেই চুক্তির প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার পর।

তেল আবিবের সন্দেহ- ইরান পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। যা ইরান অস্বীকার করে আসছে।

রহস্যজনক সব আক্রমণ

ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে অঘোষিত একটা চাপা নৌ সংঘাতও চলেছে সাম্প্রতিক সময়ে। এমনকি লোহিত সাগর এবং ওমান উপসাগরেও জাহাজের ওপর রহস্যজনক হামলা হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসে ওমান উপকূলের অদূরে ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী জাহাজের ওপর একটি বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন হামলায় একজন ব্রিটিশ নিরাপত্তা রক্ষী ও একজন রোমানিয়ান নাবিকের মৃত্যুর জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়েছে। তেহরান অবশ্য ঘটনাটির জন্য তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আরও পড়ুন : ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ি পুড়িয়ে দিল হিন্দুত্ববাদীরা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কার্যকলাপের নিন্দা জানানোর ব্যাপারে ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে সোচ্চার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব। বিশেষ করে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সাউদ ২০১৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সৌদি ইরানের সমালোচনায় আরও মুখর হয়েছে।

যদিও ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ঘটা একটি ঘটনা রিয়াদে কৌশল পরিকল্পনাকারীদের সব হিসাব নিকাশ আমূল বদলে দেয়। সেদিন ভোরের আলো ফোটার আগে অন্ধকারের মধ্যেই সৌদি আরবের আবকেইক ও খুরাইশে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধন স্থাপনার ওপর এসে আঘাত হানে সুনির্দিষ্ট নিশানায় ছোঁড়া এক ঝাঁক ড্রোন ও মিসাইল। ওই একটি মাত্র হামলায় সৌদি আরবের তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে অর্ধেকে নেমে যায়।

যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা আক্রমণের দায় স্বীকার করে। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোঁড়া হয়েছিল উত্তর দিক থেকে এবং পরবর্তীকালে তদন্তের মাধ্যমে জানা যায় সীমান্তের অপর পারে দক্ষিণ ইরাক থেকে ইরানের প্রক্সি মিলিশিয়ারা ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছুঁড়েছিল।

ইরানের স্পষ্ট বার্তা

ইরানের পক্ষে বার্তাটা ছিল স্পষ্ট : ইরান চাইলে সৌদি আরব এবং তার মিত্র দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিসাধনে সক্ষম। যার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পানি লবণ-মুক্ত করার স্থাপনা এবং অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রগুলো।

সৌদি আরব সেই আক্রমণের জবাব দিতে মুখর হয়ে ওঠেনি, যেটা ছিল উল্লেখযোগ্য এবং সাম্প্রতিক কয়েক মাসে ইরানি এবং সৌদি কর্মকর্তারা উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কথাবার্তা বলেছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, তেহরান আর রিয়াদ তাদের মধ্যে সহসা একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে।

আরও পড়ুন : ‘জনগণ চাইলে’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ব : লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী

এর অর্থ হলো ভবিষ্যতে কোনো সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দুই দেশই যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা স্বীকার করে নেওয়া। এছাড়াও তাদের মধ্যে বিভেদ সত্ত্বেও ওই অঞ্চলে একটা স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা মেনে নিয়ে একটা সমঝোতার পথ বের করার গুরুত্ব অনুধাবন করা।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড