• বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রাষ্ট্রদূত বহিষ্কারের হুমকি প্রত্যাহার করলেন এরদোগান

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:২১
রাষ্ট্রদূত বহিষ্কারের হুমকি প্রত্যাহার করলেন এরদোগান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান (ছবি : ইউরো নিউজ)

যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, জার্মানিসহ বিশ্বের ক্ষমতাধর ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত দূতের নোটিস জারি করেছিল ইউরোপের মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্ক। যদিও সোমবার (২৫ অক্টোবর) নিজেদের সেই অবস্থান থেকে সামান্য সরে এসেছেন প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

জার্মান মিডিয়া ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূতদের প্রসঙ্গে ইতোপূর্বে বলা ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ কথাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। বিশ্বের কোনো দেশের রাষ্ট্রদূতকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করার অর্থই হচ্ছে- তাকে সে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। সাধারণত নোটিশটি জারি করা হলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রদূত নিজে থেকেই নিজ দেশে ফিরে যান।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছিলেন, বিশ্বের দশ দেশের রাষ্ট্রদূত এখন তুরস্কে অবাঞ্ছিত। কূটনীতিকদের অনেকেই মনে করেছিলেন, তুর্কি প্রেসিডেন্টের ওই মন্তব্যের পর ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতদের দেশে ফিরে যেতে বলা হবে। যদিও সোমবার এরদোগান জানিয়েছেন, আপাতত ওই রাষ্ট্রদূতদের ফিরে যেতে হবে না। তাদের ওপর জারি করা নোটিশও ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এবার প্রশ্ন উঠছে, কেন নিজের অবস্থান পরিবর্তন করলেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। তুর্কি প্রেসিডেন্ট নিজেই বলেছেন, ওই ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত এরই মধ্যে নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলেছেন। মূলত সে কারণেই আমি তাদের বিষয়ে কিছুটা নরম হয়েছি।

আঙ্কারার দাবি, ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত নতুন একটি বিবৃতি জারি করেছেন। সেখানে তারা বলেছেন- তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা আর কোনো মন্তব্য করতে চান না। বস্তুত আন্তর্জাতিক কূটনীতির নীতি অনুযায়ী- কোনো রাষ্ট্রদূত সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার রাখেন না। অভিযুক্ত সেই রাষ্ট্রদূতরা এরই মধ্যে তা স্বীকার করেছেন। মূলত এরপরই বরফ কিছুটা গলেছে বলে জানিয়েছে তুর্কি প্রশাসন।

আরও পড়ুন : কট্টর চীনা ব্লগারদের লক্ষ্য এখন পশ্চিমারা

রাষ্ট্রদূতদের ওই বিবৃতির পরেই প্রেসিডেন্ট এরদোগান পারসোনা নন গ্রাটার নোটিশ প্রত্যাহার করে নেন বলে জানানো হয়েছে।

কূটনীতিকদের বক্তব্য, নোটিশটি জারি থাকলে ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফিরতে হতো। যা তুরস্কের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক কার্যত তলানিতে নিয়ে যেত। এমনিতেই তুর্কি সরকারের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক ক্রমশ জটিলের দিকে যাচ্ছে।

তার মধ্যে প্রেসিডেন্ট এরদোগান এ ধরনের কাজ করলে কার্যত সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতো বলেই ধারণা করছেন কূটনীতিকরা। প্রেসিডেন্ট এরদোগানও ইতোমধ্যে বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন বলেই সামান্য হলেও নরম হয়েছেন বলে দাবি কূটনীতিকদের। অপর দিকে ১০টি দেশও প্রকাশ্যে সংঘাতের পথে হাঁটতে চায়নি। তাই নতুন বিবৃতি জারি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, তুরস্কের কারাগারে দীর্ঘদিন যাবত বন্দি রয়েছেন মানবাধিকার কর্মী ওসমান কাভালা। মূলত তার মুক্তির দাবিতে বিবৃতি জারি করেছিলেন সেই ১০টি দেশের রাষ্ট্রদূত। আর তারপরই শুরু হয় তীব্র বিতর্কের।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৩ সালে দেশজুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদে অর্থায়ন এবং ২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে সংশ্লিষ্টতার দায়ে গেল চার বছর যাবত কারাবন্দি অবস্থাতে আছেন কাভালা। যদিও তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ এরই মধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন ওই মানবাধিকার কর্মী।

আরও পড়ুন : ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত ২৬৪

যে কারণে গেল ১৮ অক্টোবর এক যৌথ বিবৃতিতে কানাডা, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতরা কাভালার মামলার ন্যায়বিচার, দ্রুত সমাধান এবং ‘জরুরি মুক্তি’র আহ্বান জানান। মূলত এরপর সেই বিবৃতিকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত তাদের তলব করে।

তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এসকিসেহির শহরে দেওয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছিলেন, আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এখনই প্রয়োজনীয় আদেশ দিয়েছি এবং বলেছি কী করতে হবে। সেই ১০ রাষ্ট্রদূতকে অবশ্যই একেবারে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করতে হবে। আপনি এটি দ্রুত করবেন।

তার ওই বক্তৃতার সময় উপস্থিত জনতা উল্লাস প্রকাশ করেন। এ সময় এরদোগান দাবি করেন, তুরস্ককে তাদের জানতে এবং বুঝতে হবে। যেদিন তারা তুরস্ককে জানবে না এবং বুঝবে না, সেদিন তারা দেশ ছেড়ে চলে যাবে।

আরও পড়ুন : মুক্তিপণ না দিলে অপহৃত মিশনারিদের হত্যার হুমকি

যদিও উভয়পক্ষ কিছুটা ছাড় দেওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র : ডয়েচে ভেলে

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড