• বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কট্টর চীনা ব্লগারদের লক্ষ্য এখন পশ্চিমারা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২২ অক্টোবর ২০২১, ১৬:২৮
কট্টর চীনা ব্লগারদের লক্ষ্য এখন পশ্চিমারা
কট্টর চীনা ব্লগাররা (ছবি : প্রতীকী)

হাস্যোজ্জ্বল ব্লগার গুয়ানমুচান চীনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ওয়েইবোর খুব পরিচিত একটি মুখ। টুইটারের আদলে গড়া এশিয়ার পরাশক্তি খ্যাত রাষ্ট্র চীনের এই সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই তরুণীর ফলোয়ারের সংখ্যা বর্তমানে ৬৪ লাখের অধিক। চলমান বিশ্বের খবরাখবরের ওপর ওয়েইবোতে তিনি নিয়মিতভাবে নিজের মন্তব্য এবং ভিডিয়ো পোস্ট করে থাকেন।

যদিও তার ব্র্যান্ডের নরম-সরম চেহারার সঙ্গে তিনি যেসব ঝাঁঝালো মন্তব্য করেন, তার কোনো মিলই নেই।

ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) ''কুকুরের রশি'' দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে যুক্তরাষ্ট্র; সম্প্রতি এক পোস্টে এমনই মন্তব্য করেছেন গুয়ানমুচান। আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ‘গৃহযুদ্ধের’ প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিনিরা জীবাণু অস্ত্র দিয়ে একে অন্যকে হত্যা করছে।

চীনের একদল নতুন প্রজন্মের ব্লগার, যাদের মূলত ‘যিগানউ’ নামে ডাকা হয়, গুয়ানমুচান তাদের মধ্যেই একজন। কিন্তু চীনের সোশাল মিডিয়ায় তার খ্যাতি বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার প্রসারের একটা যোগাযোগ রয়েছে।

কাজের দিকে থেকে তার মিল 'উমাও'দের সঙ্গে রয়েছে। এরা হলো ভাড়া খাটা একদল কুখ্যাত ট্রল। চীনে সরকারি প্রোপাগান্ডা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় তাদের ব্যবহার করা হয়। কিন্তু উমাওদের সঙ্গে গুয়ানমুচানোর মতো 'যিগানউ‌'র পার্থক্য হলো তিনি এসব কাজ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করে থাকেন।

এরা কঠোর মন্তব্য দিয়ে যেসব পোস্ট করেন, তাদের হাজার হাজার ফ্যান-ফলোয়াররা আবার সেগুলোকেই শেয়ার করেন। এরা প্রায়শই পশ্চিমা দেশ এবং মিডিয়াগুলোর তীব্র সমালোচনা করেন। নারীবাদ, মানবাধিকার, বহু-সংস্কৃতি, গণতন্ত্র ইত্যাদি ইস্যুগুলোকে চীনা সমাজ ব্যবস্থার ওপর পশ্চিমা দেশের নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে গণ্য করা হয়। আর তারা প্রধানত সেগুলোর সমালোচনাই করেন।

তাইওয়ানের স্বাধীনতা কিংবা হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত অধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবী এবং বিশেষজ্ঞরাও তাদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু।

‘যিগানউ’দের মতো ব্লগাররা যার ওপর আক্রমণ চালিয়েছে তাদের একজন হলেন লেখিকা ফ্যাং ফ্যাং। উহানে মহামারি করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শুরুর দিকে তিনি সেই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির যে বর্ণনা দিয়েছিলেন। মূলত এর জন্য তিনি সারা বিশ্বে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন।

যদিও শ্যাংডিযিইং নামে একজন ব্লগার তার সম্পর্কে লিখেছেন, তিনি আমাদের পিঠে ছুরি মেরেছেন এবং আমাদের ওপর কালিমা লেপন করতে চীন বিরোধী শক্তির হাতে বিশাল একটি অস্ত্র তুলে দিয়েছেন।

দেশটির শীর্ষ মেডিকেল বিশেষজ্ঞ ঝ্যাং ওয়েনহংও অতি সম্প্রতি যিগানউর আক্রমণের মুখে পড়েন। তিনি শুধু বলেছিলেন- চীনাদের কোভিড-১৯ এর সঙ্গে বসবাস করা শিখতে হবে। দৃশ্যত এটা ছিল সরকারি বক্তব্যের পুরোপুরি বিপরীত। আর সে জন্যই তার বিরুদ্ধে শুরু হয় সমালোচনা আর কুৎসা রটনা।

পরবর্তীকালে কয়েকজন ব্লগার তার পুরনো একটি গবেষণাপত্র খুঁজে বের করেন। এরপর তারা অভিযোগ করে বলেন, ঝ্যাং ওয়েনহং অন্যের লেখা থেকে চুরি করেছেন। পরে অবশ্য তার বিশ্ববিদ্যালয় এসব অভিযোগ খারিজ করে দেয়। শিশুদের নিয়মিত সকালে দুধ খাওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেও বিপাকে পড়েছিলেন তিনি। কেননা চীনা জনগণ সকালের নাস্তায় কখনো দুধ খায় না এবং এটা সম্পূর্ণ চীনা সংস্কৃতির বিরোধী।

আরও পড়ুন : চীনা আক্রমণ থেকে তাইওয়ানকে রক্ষার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

পিনমিংওয়াশিয়াওশি নামে একজন ব্লগার বিষয়টির সম্পর্কে লিখেছিলেন, এটা খুব বেশি পশ্চিমা-পূজা আর বিদেশি তোষণ হয়ে যাচ্ছে না-কি?

একজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের ডজন ডজন পোস্ট প্রকাশিত হয়। এসব পোস্ট সাধারণত ছোট এবং আবেগপূর্ণ হয়ে থাকে। আর সে জন্যই এগুলো সহজে ভাইরাল হয়ে যায়।

চীনা সোশাল মিডিয়া বিশ্লেষক ম্যানিয়ে কেৎসে দাবি করেন, এগুলো হলো জাতীয় আবেগের ফাস্ট-ফুড। মানুষ এর এক কামড় খায়, অন্যের সাথে শেয়ার করে এবং কিছুক্ষণ পর এর কথা বেমালুম ভুলে যায়।

বিস্ফোরক মিশ্রণ

অনেকেই বিশ্বাস করেন, পশ্চিমা দেশের সঙ্গে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের বিবাদের ফল হিসেবে বাড়ছে দেশপ্রেমী কট্টর চীনা সেন্টিমেন্ট। যদিও কথাটি অর্ধেক সত্য।

বিশ্বায়নের এই যুগে বিশ্বের বহু রাষ্ট্রই উগ্র জাতীয়তাবাদী ভাবধারার প্রসার ঘটেছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চীনে এটা বেড়েছে চীনা পরিচয়কে জোরেশোরে তুলে ধরা এবং সোশাল মিডিয়ার সর্বব্যাপী ব্যবহারের মধ্য দিয়ে।

যিগানউদের মধ্যে অনেকেই বয়সে তরুণ। তারা বড় হয়েছেন এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে যেখানে তাদের মাথা পরিপূর্ণ করা হয়েছে দেশপ্রেম এবং চীনা অহংকার দিয়ে। মিস কেৎসে বলছেন, ফলে বিদেশ বিরোধী এবং চীনা প্রীতির এক বিস্ফোরক মিশ্রণে তৈরি হয়েছে নতুন এই চীনা সংস্কৃতির পরিচয়।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনে অনলাইনে বক্তব্য রাখার ব্যাপারে আইন ক্রমাগতভাবে কঠোর করার পরও এসব ব্লগারের খ্যাতি অবাক করার মতো। অ্যাক্টিভিস্ট কিংবা সাধারণ নাগরিকদের কথা বার্তা চীনে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এমনকি ওয়েইবো কিংবা উইচ্যাটে ''স্পর্শকাতর'' পোস্ট নিয়মিতভাবে মুছে ফেলা হয়।

একজন পর্যবেক্ষক বলছেন, সরকারি লাইনের বক্তব্য যারা তুলে ধরেন তাদের উৎসাহ প্রদান করা হয় এবং তাদের ব্যাপারে আইন থাকে শিথিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব ব্লগারের বক্তব্য চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমেও তুলে ধরে তা প্রচারিত হয়।

যদিও সরকারের সঙ্গে এসব যিগানউর কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি-না, তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। কিন্তু এদের অনেককেই সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং প্রাদেশিক সরকার থেকে তাদের সম্মানসূচক খেতাবও প্রদান করা হয়।

গুয়ানমুচানের আসল নাম শু চ্যাঙ। ‘আপনি একজন চীনা’ ২০১৪ সালে এই শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখে তিনি প্রথম সবার নজরে আসেন। সে সময় দেশটির প্রধান প্রধান মিডিয়াগুলোতে তাকে নিয়ে খবর প্রচারিত হয়েছিল। মূলত এরপর থেকে ইয়নতাই পৌর কর্তৃপক্ষের আয়োজিত ব্লগার সম্মেলনে তাকে নিয়মিত দেখা যায়। এমনকি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তরুণদের নিয়ে অনুষ্ঠানে তিনি ভাষণ দিয়েছেন। গুয়াংডং প্রদেশের সরকার গত জুলাই মাসে কয়েকজন ব্লগারকে 'ইন্টারনেট দূত' খেতাব দিয়ে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানেও শু চ্যাঙয়ের নাম রয়েছে।

ব্রিটিশ মিডিয়া বিবিসি নিউজের পক্ষ থেকে তার কাছে কিছু প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। যদিও তিনি এর যথাযথ কোনো জবাব দেননি।

চীনের সোশাল মিডিয়ায় দেশপ্রেম সম্পর্কিত যেসব কথাবার্তা হয় তা মূলত নিয়ন্ত্রণ করে প্রধান কয়েকটি সরকারি সংবাদমাধ্যম। তারা যেমন একটি হ্যাশট্যাগ তৈরি করে দেশব্যাপী আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে। একই সঙ্গে সেই আলোচনা ঠিক কোন দিকে এগুবে তাও তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

যদিও এর বাইরেও রয়েছে বহু ছোট ছোট গ্রুপ, ডিজিটাল আর্টিস্ট, ছোট মিডিয়া কোম্পানি, শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক এবং এমনকি বিদেশি ব্লগার পর্যন্ত। এরা সবাই একযোগে সরকারের দেওয়া আগুনে ঘি ঢালে।

আরও পড়ুন : মিশিগানে বিনামূল্যে ওয়াটার ফিল্টার বিতরণ শুরু

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডাবলথিংক ল্যাবের একজন বিশ্লেষক হারপ্রি কে দাবি করেছেন, শাসক কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে যারা প্রচারণা চালায় চীনের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রকরা তাদের খুব উৎসাহ দিয়ে থাকে।

তার মতে, এখানে আপনাকে সুযোগ সন্ধানী হতে হবে। আপনি যদি সোশাল মিডিয়ায় প্রভাবশালী হতে চান, তাহলে কট্টর জাতীয়তাবাদী এই পরিবেশের মধ্যে থেকেই আপনাকে খ্যাতি অর্জন করতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব সোশাল ইনফ্লুয়েন্সাররা সরাসরিভাবে সরকারের পয়সায় না চললেও জাতীয় সংবাদমাধ্যমের কাঁধে ভর করে এরা বেড়ে ওঠেন। একই সঙ্গে সেই স্বীকৃতিকে বিক্রি করে তারা তাদের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের পরিচিতিকে বাড়িয়ে তোলেন।

এরপর ভক্ত সংখ্যা বেড়ে গেলে তাদের সাইটের বিজ্ঞাপন এবং পেইড কন্টেন্ট থেকে এরা বহু অর্থ আয় করেন। সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়ক শিক্ষক ড. ফ্যাং কেচেং জানিয়েছেন, ১০ লক্ষ ফলোয়ার রয়েছেন এমন কারও সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে বছরে কয়েক লক্ষ ডলার উপার্জন করা সম্ভব।

ড. ফ্যাং বলছেন, এর পরিবর্তে চীনা সরকারেরও লাভ হয়। যেমন, যিগানউদের কোনো বিষয়ে বক্তব্য রাখার আমন্ত্রণ জানিয়ে সরকার মূলত তাদের দিয়ে আদর্শিক প্রচার চালায়। ফলে একজন ব্লগার নিজে যেমন বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে প্রোপাগান্ডা চালানোর কাজে তিনি হয়ে উঠেন একজন রোল মডেল বা অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।

তিনি আরও বলেন, কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি যারা বেশি অনুগত ওয়েইবো এবং উইচ্যাটের মতো সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের পোস্টকে বেশি বেশি প্রচার করে। এতে তাদেরও লাভ হয়। সোশাল পোস্টের এনগেজমেন্ট এবং ইউজার অ্যাক্টিভিটি বেড়ে গেলে তারা আরও বেশি অর্থ মুনাফা করে। ফলে এটা তাদের জন্য এক লাভজনক কৌশল।

যদিও চীনের সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের পথ চলতে হয় অত্যন্ত সরু সূতার ওপর ভর করে। কখনো কখনো কখনো তারা কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজন হয়ে পড়েন।

গত ক‌য়েক মাসে ঝ্যাং ওয়েনহংকে আক্রমণ করেছিলেন যারা এবং কোভিড যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাগার থেকে ছড়িয়েছে, এমন কথা প্রচার করেছিলেন যে কয়েকজন যিগানউ তাদের সে সব পোস্ট মুছে ফেলা হয়। চীনে কঠোর কমিউনিস্ট সংস্কারের ওপর আবেগপূর্ণ এক লেখা অনলাইনে ছাপা হওয়ার পর তা নিয়ে প্রবল হৈচৈ শুরু হলে সেটিও সেন্সর করা হয়।

কেৎসে বলেছেন, আপনি কী করতে পারবেন, আর পারবেন না, তার নিয়মনীতি বেশ ঘোলাটে। ওয়েইবোতে একটি পোস্ট দিয়ে একজন ব্লগার অদৃশ্য হয়ে যেতে পারেন। সরকারি বক্তব্য প্রচারে এরা সহায়ক হলেও যে মুহূর্তে দেখা যাবে কাউকে দিয়ে আর কাজ হচ্ছে না কিংবা সরকার মনে করবে সে সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে, তখন সঙ্গে সঙ্গেই তাকে বিদায় নিতে হবে। যদিও চীনে এই জুয়া খেলতে রাজি অনেকেই।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গুয়ানমুচানকে ওয়েইবো থেকে ১৫ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। বলা হয়েছিল, তিনি সামাজিক যোগাযোগের নীতিমালা ভঙ্গ করেছেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরেকটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তার প্রতিদিনের পোস্টের ধারা চালিয়ে যেতে থাকেন।

আরও পড়ুন : সড়ক থেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক, পরে মুক্তি

কেৎসের ভাষায়, এই ছোট অ্যাকাউন্টটি আমি আগেই তৈরি করে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম যদি কখনো কিছু একটা ঘটে যায়।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড