• মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

ইরান-রাশিয়া ইস্যুতে ভারতের ‘কাবুল-তাস’

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২১, ১৪:৫২
ইরান-রাশিয়া ইস্যুতে ভারতের ‘কাবুল-তাস’
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উপ পররাষ্ট্র সচিব উইন্ডি শেরম্যান (ছবি : দ্য ডন)

রাশিয়ার সঙ্গে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ২০১৮ সালের অক্টোবরে এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেমের পাঁচটি ইউনিট কেনার চুক্তি করেছিল দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতাধর দেশ ভারত। গুরুত্বপূর্ণ সেই চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরেই ভারতের হাতে আসার কথা এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রথম চালান।

রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের এই এস-৪০০ মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়টিকে মোটেই ভালো চোখে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দিক থেকে বলা হচ্ছে, ইরান এবং রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিংবা যুদ্ধাস্ত্র কিনলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষিদ্ধ তালিকায় ভারতকেও চলে যেতে হবে। অপর দিকে নয়াদিল্লি বলছে, দেশের স্বার্থে যা সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাই নেবে ভারত।

দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ভারতও শুরু থেকেই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা নিয়ে দায়বদ্ধ ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যদিও দেশের সুরক্ষার স্বার্থে কোনো চাপের কাছে মাথা নত করতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এই ব্যাপারে মার্কিন চাপ পাত্তা দিতে রাজি নয় ভারত।

এরই মধ্যে আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ব্যাপক পালাবদল দেখা দিয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনার সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইন্ডি শেরম্যানের সঙ্গে বৈঠকে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তাই হাতে থাকা ‘কাবুল-তাস’ খেলল মোদীর ভারত।

যুক্তরাষ্ট্রকে ভারত আসলে বোঝানোর চেষ্টা করেছে আফগানিস্তানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গুরুত্ব বেড়েছে ইরান ও রাশিয়ার। নয়াদিল্লি বলতে চাচ্ছে- এ দেশ দুটিকে কাজে লাগানোর এখনই সময়।

আরও পড়ুন : আফগান ইস্যুতে আলোচনায় বসছে রাশিয়া

শেরম্যানের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা তাকে বলেছিলেন, আফগানিস্তান ইস্যুতে ইরান ও রাশিয়া আন্তর্জাতিক মানচিত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিক এবং রাজনৈতিক, দুদিক থেকেই তালেবান সরকারের সঙ্গে দর কষাকষির ক্ষেত্রে তেহরান এবং মস্কোর ভূমিকা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তার মতে, সন্ত্রাস-প্রসঙ্গে যখন আফগানিস্তানের আরেক পড়শি দেশ পাকিস্তানকে বিশ্বাস করা যায় না, তখন এই দু’টি দেশ তালেবান নৈরাজ্য সামলানোর প্রশ্নে কাজে আসতে পারে।

এর পাশাপাশি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে যে ভারতের ঘনিষ্ঠ একটা সম্পর্ক আছে, ফলে এভাবেও দেশ দুটিকে কাজে লাগানো সম্ভব। সে কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের স্বার্থেই তাদের উচিত ভারতের সঙ্গে রাশিয়া এবং ইরানের সম্পর্কে নাক না গলানো।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচটি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের চুক্তি করেছিল ভারত। ২০২৫ সালের মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের চুক্তিটির ভেতর নয়াদিল্লি এরই মধ্যে মস্কোকে ৮০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে।

এর আগে এস-৪০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনায় তুরস্কের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। আর তাই তুরস্কের মতো ভারতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন : পর্যটন ভিসা দিচ্ছে ভারত

ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল এবং ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে রাশিয়ার ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা এবং গোয়েন্দা বিভাগও ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুশ অস্ত্র কিনলে সংশ্লিষ্ট দেশকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে হতে পারে।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড