• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কাবুল কারাগারের পাহারায় এখন তালেবান বন্দিরা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:৪৪
কাবুল কারাগারের পাহারায় এখন তালেবান বন্দিরা
কাবুল কারাগারে অস্ত্র হাতে মোতায়েন তালেবান যোদ্ধারা (ছবি : আফগান টাইমস)

যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র আফগানিস্তানের বৃহত্তম ও কুখ্যাত কারাগার পুল-ই-চারকি। সেই কারা প্রাঙ্গণে হেঁটে বেড়াচ্ছেন কয়েকজন তালেবান যোদ্ধা। যাদের অধিকাংশের মাথাতেই আছে পাগড়ি, আর কাঁধে ঝুলছে বন্দুক। কাবুলের উপকণ্ঠের কারাগারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও পরিচালনার দায়িত্ব এখন তাদেরই।

আইসিআরসির তথ্য অনুসারে, তালেবান যোদ্ধারা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে কারাগারটিতে ৯ হাজারের অধিক বন্দি ছিল। তখন ১১টি ব্লকে ভাগ করা এই কারাগারে প্রায়ই একটি ছোট কক্ষে ১২-১৫ জন বন্দিকে রাখা হত।

১৯৮০-র দশকে চালু হওয়া পুল-ই-চারকি নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য পরিচিতি পায়। পরবর্তীকালে ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র গুয়ানতানামো বে বন্দি শিবির থেকে প্রায় ২৫০ জন কয়েদীকে এখানে স্থানান্তর করে। কিন্তু ১৫ আগস্ট তালেবান যোদ্ধারা কারাগারটি ঘিরে ফেলে এবং বন্দিদের মুক্তি প্রদান করে। মুক্তি পাওয়াদের মধ্যে ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্যও রয়েছে। যদিও তালেবানের পক্ষ থেকে বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে অস্বীকার করা হয়েছে। তারা বলছে, আগের আফগান সরকারই কারাগারের দরজা খুলে দিয়েছে।

কারাগারের তালেবান রক্ষী জানান, এখনো কয়েকশ’ বন্দি আছে এবং তালেবানরাই পাহারা দিচ্ছে। অপরাধের কারণে অনেক নতুন মানুষকে বন্দি রাখা হয়েছে।

২০২০ সালের আগস্টে পুল-ই-চারকি থেকে মুক্তি পান হেকমতুল্লাহ হেকমত। তালেবানের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরুর শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আমি সব সময় জানতাম যখন কারাগার থেকে মুক্তি পাব তালেবানের হয়ে আবার লড়াই করব। যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান সরকার আমাদের শত্রু।

আরও পড়ুন : ‘পুরুষের সঙ্গে নারীদের কাজ করা উচিৎ নয়’

তিনি আরও বলেন, তারা যদি আবার ফিরে আসে আমরা ফের যুদ্ধ করব। আমাদের দেশ দখল করা হয়েছিল এবং বিদেশি শক্তি ও তাদের আদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমরা দেশ, ধর্ম ও জনগণকে রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তালেবান যোদ্ধা হিসেবে মানুষকে হত্যা করেছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা যুদ্ধ। আমার বন্ধুদের হত্যা করা হয়েছে এবং আমি একজন যোদ্ধা।

হেকমত এই কারাগারে তিন বছর বন্দি ছিলেন। একটি কক্ষে তার সঙ্গে ১৩ জন বন্দি ছিল। ১৫ আগস্ট গেট উন্মুক্ত হলে বন্দিরা নিজেদের জিনিসপত্র না নিয়েই পালায়। অনেক কিছু এখনো পড়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন : তালেবানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া বিকল্প পথ নেই ইইউর

পালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে ছিলেন ৩৩ বছর বয়সের কুদরতুল্লাহ নাজিম। তার বিরুদ্ধে আশরাফ ঘানি সরকারের মৃত্যু পরোয়ানা রয়েছে। এক দশকের বেশি কারাগারে কাটানো এই গেরিলা কমান্ডার এখন মুক্ত বিচরণ করছেন।

সূত্র : দ্য ন্যাশনাল

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড