• রোববার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আদৌ শান্তি ফিরবে আফগানিস্তানে?

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৯ জুলাই ২০২১, ১০:৩১
আধিপত্য বিস্তার শুরু করেছে তালেবান
আধিপত্য বিস্তার শুরু করেছে তালেবান। (ছবি: সংগৃহীত)

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার ঘোষণার পর থেকে বিশ্ববাসীর কাছে এক ধরনের স্বস্তি কাজ করছিল। ধারণা করা হচ্ছিল এবার মনে হয় শান্তি ফিরবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি!

এ বছরের ১ মে থেকে শুরু হয়েছে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার কার্যক্রম। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব বিদেশি সেনা আফগানিস্তান ছেড়ে যাবে। কিন্তু তার আগেই আধিপত্য বিস্তার শুরু করেছে তালেবান। তালেবান বাহিনী গত কয়েক সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি আফগান সৈন্য ও তালেবানদের সংঘর্ষ চলাকালে সংবাদ ও ছবি সংগ্রহের সময় নিহত হয়েছেন সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকী।

তালেবানের হামলার মুখে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। যদিও আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজতে শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবান বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছে আফগান সরকার। দুই পক্ষের মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় পৌছানোর চেষ্টা চলছে।

রয়টার্স জানায়, আফগানিস্তানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত বাড়ার মধ্যেই শনিবার দোহায় আফগান সরকার ও তালেবান প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা চললেও বাস্তব কোনো অগ্রগতি নেই বললেও চলে।

আফগান সরকারের জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণ উচ্চ পরিষদের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বলেন, শান্তি প্রক্রিয়া চালু করার জন্য আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে, সেটা হল সাধারণ মানুষকে হত্যা বন্ধ করা।

তালেবান যোদ্ধারা এরইমধ্যে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের কয়েকটি ক্রসিং এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানান, শনিবার সীমানা ক্রসিং খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে লড়াইয়ের সময় আটকে পড়া আফগানরা নিজ এলাকায় ফিরতে পারেন।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার হিসাবে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২৭ হাজার আফগান নিজের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। সব মিলিয়ে সেদেশে এ পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৩৫ লাখের বেশি। যে তালেবানকে পরাজিত করতে মার্কিন সেনারা তৎপর ছিল সেই তালেবানই এখন দ্রুতগতিতে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকা দখল করে নিচ্ছে।

তালেবান নামের মৌলবাদী ইসলামপন্থী মিলিশিয়া বাহিনীটি ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল - যখন মার্কিন-নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তানে অভিযান চালায়। এরপর দেশটিতে গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়, এবং একটি নতুন সংবিধান গৃহীত হয়।

কিন্তু তালেবান এরপর এক দীর্ঘ বিদ্রোহী তৎপরতা শুরু করে। ক্রমান্বয়ে তারা আবার শক্তি সঞ্চয় করে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো বাহিনীকে আরও বেশি করে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলে। এখন মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে তাদের সবশেষ সৈন্যদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। আর ঠিক এ সময়টিতেই তালেবান বহু জেলা পুনর্দখল করে নিচ্ছে, এবং সেখানে তাদের কঠোর শরিয়া আইন পুনরায় বলবৎ করছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, আফগানিস্তানের এখন এক তৃতীয়াংশ তালেবানদের দখলে। যদিও তালেবানের দাবি, তারা দেশটির ৮৫ শতাংশের বেশি এলাকা দখলে নিয়েছে।

২০০১ থেকে ২০২১, ২০ বছরের লড়াইয়ে দেশটিতে সামরিক আধা সামরিকের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা।

বছরের পর বছর ধরে চলা সহিংস সংঘাতের কারণে লাখ লাখ মানুষ ভিটা ছাড়া হয়েছেন। অনেকে আফগানিস্তানের ভেতরেই ছিন্নমূল এবং গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। আরও বহু মানুষকে ব্যাপক দুর্ভোগ ও অনাহারের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক দফতর বলছে, আফগানিস্তানের ৩০ শতাংশেরও বেশি লোক খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতি বা সংকটের মধ্যে বসবাস করছে।

ওডি/জেআই

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড