• শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নেটের অভাবে ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় ক্লাস চলছে পাহাড়ের চূড়ায়

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৯ জুন ২০২১, ১২:২৯
নেটের অভাবে ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় ক্লাস চলছে পাহাড়ের চূড়ায়
ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ক্লাস চলছে পাহাড়ের চূড়ায় (ছবি : দৈনিক বর্তমান)

মহামারি করোনা ভাইরাসের থাবায় দিশেহারা ভারতে অনলাইনে চলছে লিখিত পরীক্ষা। রুটিন মাফিক ক্লাসও হচ্ছে দেশের সর্বত্র। অথচ মোবাইলে নেটওয়ার্ক নেই। বাধ্য হয়েই পাহাড়ের চূড়ায় উঠে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ক্লাস করতে হচ্ছে পড়ুয়াদের।

অস্থায়ী শিবিরে চলছে পরীক্ষা কিংবা ক্লাসের কার্যক্রম। শিবির বলতে কোথাও বাঁশের কঞ্চির কাঠামো। তার উপর কলাপাতার ছাউনি। কোথাও আবার পাহাড়ে গাছগাছালির ছায়ায় মাথা গুঁজে চালানো হচ্ছে ক্লাস। প্রকৃতির প্রতিকূলতার কারণে অন্ধকারের নামার আগেই পরীক্ষা দিয়ে নেমে যেতে হয় সকলকে। ফের পরের দিন সকাল থেকে শুরু হয় পাহাড়ে উঠার তোড়জোড়।

এটাই ভারতের মধ্যে অন্য এক ‘ভারত’। একই ছবি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র দুই প্রান্তে। একটি মিজোরামের সইয়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম মাওহারেই। যা রাজধানী আইজল থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আর অন্যটি কাশ্মীরের বারামুলার লিম্বার গ্রাম। যা শ্রীনগর থেকে দূরত্ব মাত্র ৯০ কিলোমিটার।

পরীক্ষার্থীরা সকলেই মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তাদের স্নাতক স্তরের সেমিস্টার চলছে। করোনা মহামারির কারণে সবাইকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে অনলাইনে। আর সেটা দিতে গিয়ে ওই গ্রামের ছাত্রদের এখন নাজেহাল অবস্থা। পরীক্ষার প্রস্তুতির চেয়ে তাদের বেশি ঘাম ঝরাতে হচ্ছে মোবাইলে নেটওয়ার্ক ধরতে। সেটা ধরা পড়ছে একমাত্র পাহাড়ের উপরে। গ্রাম থেকে সামান্য দূরে পাহাড়।

কে এল ভবেইরুয়াসা নামে এক ছাত্র বলছিলেন, আমাদের জেলাটি ছোট-বড় পাহাড় দিয়ে ঘেরা। জেলার অধিকাংশ গ্রামেই নেটওয়ার্ক থাকে না। আমাদের গ্রামের অবস্থাও তথৈবচ। পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে নেট পাওয়া যায়। স্পিড খুব একটা ভালো নয়। তা নিয়েই কোনো রকমে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন : গাঁজার গাছ রোপণ করে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন

পরীক্ষার্থীদের সমস্যা দেখতে মঙ্গলবার (৮ জুন) পাহাড়ে উঠেছিল মিজোরামের ‘মারা স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের’ এক প্রতিনিধি দল। নেতৃত্বে থাকা এন বেইরাসাচাইয়ের কথায়, অত্যন্ত দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে তাদের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। পাহাড়ের চূড়ায় নেটওয়ার্ক যে ভালোভাবে মিলছে, এমনটা নয়। তবে কানেকটিভিটি অনেকটাই স্থিতিশীল। সুরাহার পথ খুঁজতে সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

কাশ্মীরের বারামুলা গ্রামে অনলাইন ক্লাস করতে গিয়ে চূড়ান্ত সমস্যা পোহাতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। ঝিলম নদীর পার্শ্ববর্তী গ্রাম বারামুলা। প্রতিদিনই অনলাইনে পাঠ নিতে পাহাড়ে চড়তে হয় ছাত্রছাত্রীদের। গাছগাছালির ছায়ায় কোনো রকমে মাথা গুঁজে এক সঙ্গে ক্লাস করে তারা। ক্লাস নিতে গিয়েও ততোধিক সংকটের মধ্যে পড়ছেন শিক্ষকরা। বারামুলার একটি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন মঞ্জুর আহমেদ চক। প্রতিদিন তিন কিলোমিটার দুর্গম পথ উজিয়ে পাহাড়ে ওঠেন তিনি। সেখান থেকেই ভার্চুয়ালি চলে তার পাঠদান।

মঞ্জুর বলছিলেন, রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পোর্টালে সিলেবাস আপলোড করাই রয়েছে। সেখান থেকে ক্লাস ওয়ার্ক বাছাই করে পাহাড়ে উঠি। তার পর নেটওয়ার্ক পেলে অনলাইনে ক্লাস শুরু করি। অন্যান্য পাহাড়ের উপরে সেই ক্লাস অনুসরণ করে পড়ুয়ারা। এটা বড্ড কঠিন লড়াই। তবুও ছাত্রদের ভবিষ্যৎ গড়তে এভাবে ক্লাস করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

আরও পড়ুন : বিশ্বে আলঝেইমারের ওষুধ অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

লিম্বার গ্রামের বাসিন্দা এক অভিভাবক সাজাদ আহমেদের কথায়, পাহাড়ে ওঠার রাস্তা শুধু দুর্গমই নয়, বন্য জন্তু-জানোয়ারের হামলার ভয়ও রয়েছে। প্রতিদিন বিকালের পর সেখানে থাকা বেশ বিপজ্জনক। ফলে বাড়ির ছেলে-মেয়েদের একা একা পাহাড়ে পাঠান না সাজাদরা। সঙ্গে যান তারাও। ক্লাস শেষের পর তড়িঘড়ি নেমে আসাই চ্যালেঞ্জ।

ওডি/কেএইচআর

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড