• মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রাশিয়ার টিকা ‘স্পুটনিক ফাইভ’ নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৮ এপ্রিল ২০২১, ১৫:৫৯
রাশিয়ার টিকা ‘স্পুটনিক ফাইভ’ নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
রাশিয়ার তৈরি ‘স্পুটনিক ফাইভ’ করোনার ভ্যাকসিন (ছবি : তাস)

রাশিয়া ‘স্পুটনিক ফাইভ’ টিকা আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছিল গত বছরের ১১ অগাস্ট। যদিও তখন এই খবরটি প্রায় সকলেরই নজর কেড়েছিল।

প্রায় ছয় দশক আগে ১৯৫৭ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক নামে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে মহাকাশ জয়ের প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করার কথা ঘোষণা করেছিল। এবার তার সাথে মিলিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাদের গবেষণার এতোটাই অগ্রগতি হয়েছে যে কোভিড-১৯ রোগের টিকা তৈরির প্রতিযোগিতাতেও তারা জিতে গেছে।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে এবং কোনো রকম তথ্য প্রকাশ না করেই অগাস্ট মাসে স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের জন্য টিকার লাইসেন্স দেয় রাশিয়া। যদিও এই টিকা নিয়ে তখন অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটির সক্ষমতার বিষয়গুলো এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে।

রাশিয়ার প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস টিকার পরীক্ষা শুরুর পর প্রথম প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে টিকায় ভাইরাস প্রতিরোধের সক্ষমতা তৈরির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী দা ল্যান্সেটে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাদের সবার শরীরে করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার মতো অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে এবং বড় কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

ফাইজার, অক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মর্ডানার মতো টিকাগুলোর মতো এটিও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষমতার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

স্পুটনিক ফাইভ টিকা আবিষ্কার নিয়ে যা জানিয়েছে রাশিয়া

স্পুটনিক ফাইভ নামের টিকাটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে গত জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে।

দা ল্যান্সেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৮ জন স্বাস্থ্যবান স্বেচ্ছাসেবীর ওপর টিকার প্রয়োগ করা হয় এবং তিন সপ্তাহ পরে তাদের আবার বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ১৮-৬০ বছরের মধ্যে। তাদের পরবর্তী ৪২ দিন ধরে নজরদারিতে রাখা হয়।

আরও পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রে মাস্ক ছাড়াই ঘুরতে পারবেন টিকা গ্রহীতারা

তাদের সবার শরীরে পরবর্তী তিন সপ্তাহের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে। বেশিরভাগের ক্ষেত্রে সাধারণ যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তা হলো মাথা ব্যথা এবং হাড়ের সন্ধিস্থলে ব্যথা। এই টিকা নিয়ে কারো গুরুতর অসুস্থ হওয়া বা মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

তৃতীয় দফায় বিভিন্ন বয়সের ও ঝুঁকি শ্রেণীর ৪০,০০০ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর পরীক্ষা করা হবে। সাধারণ সর্দিকাশি তৈরি করে, সেই অ্যাডেনোভাইরাসের উপাদান ব্যবহার করে রাশিয়ার এই টিকা তৈরি করা হয়েছে।

শরীরে প্রয়োগের পর করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা তৈরি করতে শুরু করে এই টিকা। এই টিকা দুই থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস (সবচেয়ে ভালো ৩-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় রাখা যায়। ফলে এটি পরিবহন ও সংরক্ষণ করা সহজ।

২১ দিনের মধ্যে দুই ডোজের পার্থক্য

অন্যান্য অনেক টিকায় দুটি ডোজ দেয়া হলেও, রাশিয়ার টিকার দুটি ডোজে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

এখানে দুটি ডোজে সামান্য কিছু পার্থক্য রয়েছে। দুই ডোজই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে, কিন্তু তারা আলাদা ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে। দুই ধরনের ফর্মুলা ব্যবহার করায় এটি শরীরের ভেতরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও ভালোভাবে তৈরি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা দিতে পারে।

রুশ গবেষকরা বলছেন, এই টিকা দুটি ডোজে প্রয়োগ করার প্রয়োজন হবে এবং যারা স্বেচ্ছায় এই ট্রায়ালে অংশ নিচ্ছে তাদের মধ্যে প্রথম ডোজটি দেবার ২১দিন পরেও অপ্রত্যাশিত কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

গবেষকরা দাবি করেছেন, ৫০টির বেশি দেশ থেকে তাদের কাছে ১২০ কোটি ডোজের বেশি স্পুটনিক ভ্যাকসিন সরবরাহের অনুরোধ এসেছে।

আরও পড়ুন : যেসব সাধারণ কাজ কখনো মার্কিন প্রেসিডেন্টরা করেন না

তারা দাবি করছেন, বিশ্ব বাজারের চাহিদা মেটাতে তারা প্রতি বছর তারা ৫০ কোটি ভ্যাকিসন উৎপাদন করতে পারবেন।

রাশিয়ার টিকার সাফল্য দাবি

স্পুটনিক ফাইভ টিকাটি তৈরি করেছে মস্কোর গামালেয়া রিসার্চ সেন্টার।

নভেম্বর মাসে রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, টিকার যে ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কাজ চলছিল তা ৯২% সফল বলে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে।

ব্রিটিশ মিডিয়া বিবিসি নিউজের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংবাদদাতা ফিলিপ্পা রক্সবি জানাচ্ছেন, ১৬ হাজার মানুষ স্বেচ্ছায় এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন তাদের এক অংশকে স্পুটনিক ভি নামের এই টিকা দেওয়া হয়েছিল এবং বাকিদের যে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল তাতে কোনো ভ্যাকসিনের ওষুধ ছিল না। এদের মধ্যে ২০ জনের শরীরে এই টিকা ৯২% সফলতা দেখিয়েছে।

কোনো কোনো বিজ্ঞানী এই খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মত দিয়েছেন খুব দ্রুত এই পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

তার কয়েকদিন আগেই ফাইজার এবং বায়োএনটেক কোম্পানি জানায় তাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ৯০% সাফল্য দেখিয়েছে। তারা ৪৩,৫০০ মানুষের ওপর তাদের টিকা পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করেছিল।

স্পুটনিক ভ্যাকসিন তুলনামূলকভাবে কম মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, ফলে এর তথ্য উপাত্তও কম সংখ্যক পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে দেওয়া, এবং পরীক্ষার আওতায় কম মানুষকে রাখার কারণে ট্রায়ালের সময় কোভিড-১৯ সংক্রমণের কেসও তুলনামূলকভাবে কম ছিল। কিন্তু তারপরও প্রাথমিক এই গবেষণার ফলাফল নিশ্চিতভাবে ইতিবাচক।

মস্কোর গামালেয়া রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক আলেকজান্ডার গিন্টসবার্গ বলেছেন, স্পুটনিক টিকা খুব শিগগিরিই ব্যাপকভাবে ব্যবহারের জন্য বাজারে পাওয়া যাবে এবং এই টিকা প্রথমে রাশিয়ায় এবং পরে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার কমিয়ে আনতে পারবে।

আরও পড়ুন : অবশেষে মাদকের ট্রানজিট নিয়ন্ত্রণকারী সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

অগাস্ট মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লামিদির পুতিন বলেছেন, প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে টিকাটি। তার এক কন্যাকেও টিকা দেওয়া হয়েছে।

আরও যেসব দেশে ‘স্পুটনিক ফাইভ’ টিকা দেওয়া হচ্ছে

এই মুহূর্তে রাশিয়া ছাড়াও অন্তত ৬০টি দেশে ‘স্পুটনিক ফাইভ’ টিকা দেওয়া হচ্ছে।

এসব দেশের মধ্যে আছে- আর্জেন্টিনা, ফিলিস্তিনি, ভেনিজুয়েলা, হাঙ্গেরি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, স্লোভাকিয়া, মেক্সিকো, ইসরায়েল, ফিলিপিন্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারতসহ অনেক দেশই এই টিকার জন্য চাহিদা জানিয়েছে।

বৈশ্বিক অনুমোদন পায়নি ‘স্পুটনিক ফাইভ’

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি, যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যেসব টিকার অনুমোদন দিয়েছে, তার মধ্যে নেই রাশিয়ার তৈরি 'স্পুটনিক ফাইভ'। তা সত্ত্বেও বিশ্বের অন্তত ৬০টি দেশ এই টিকার জরুরি অনুমোদন দিয়ে চাহিদা জানিয়েছে।

বাংলাদেশের অনুমোদন দেওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল রহমান বলছেন, আমাদের ড্রাগ রেগুলেটরের যে নিয়ম রয়েছে, দেশে যে নিয়ম রয়েছে, তা মধ্যে থেকেই দিয়েছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন না থাকলেও আমরা দিতে পারি। জরুরি অনুমোদন হিসাবে আমরা দিয়েছি।

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ

জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পক্ষ থকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে রুশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পশ্চিমা দেশগুলোতে টিকা তৈরির ব্যাপারে যেসব গবেষণা চলছে সেগুলো হ্যাক করে সেখান থেকে তথ্য চুরি করেছে। এই অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে ক্রেমলিন।

টিকা আবিষ্কার করার এই দৌড়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে এটা করতে গিয়ে পরীক্ষার স্বাভাবিক যেসব প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয় সেখানে কি কোন ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে? সময় কমাতে ধরা হচ্ছে শর্ট কাট রাস্তা?

যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশেন্সে বিশ্ব স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক টমাস বলিকি বলেন, এটা নিশ্চিত যে প্রক্রিয়াটি শর্টকাট করা হয়েছে, বিশেষ করে রাশিয়ার ক্ষেত্রে।

আরও পড়ুন : টঙ্গীতে নকল প্লানে বাড়ি নির্মাণের হিড়িক

তিনি আরও বলেন, টিকা তৈরি করা খুব কঠিন কিছু নয়। কিন্তু সেই টিকা যে নিরাপদ ও কার্যকর সেটা প্রমাণ করাই কঠিন। কোনো দেশ যদি শুধু টিকা তৈরি করাকেই মুখ্য কাজ বলে ধরে নেয় তাহলে তারা শর্ট কাট রাস্তা নিতেই পারে।

গবেষণার তথ্য প্রকাশ না করে এবং শেষ পর্যায়ের বড় ধরনের পরীক্ষার আগেই রাশিয়া যে তার স্পুটনিক টিকা নিবন্ধনের ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিমা বিশ্বে তার সমালোচনা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসে করোনা ভাইরাস টাস্ক ফোর্সের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা ড. অ্যান্থনি ফাউচি বলেছেন এই টিকা কতোটা কার্যকর ও নিরাপদ এবং রাশিয়া সেটা কতোটা প্রমাণ করতে পেরেছে এনিয়ে তার "গুরুতর সন্দেহ" আছে।

এসব কথায় কান দিচ্ছে না মস্কো। রুশ কর্মকর্তারা বলছেন, ঈর্ষা পরায়ণ হয়েই তাদের টিকার ব্যাপারে এধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। টিকাটি তৈরির পেছনে যেসব গবেষক যুক্ত আছেন তারা আশ্বস্ত করেছেন যে খুব শীঘ্রই প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে তাদের গবেষণার তথ্য প্রকাশ করা হবে।

বাংলাদেশে রাশিয়ার টিকা উৎপাদন

রাশিয়ার তৈরি ‘স্পুটনিক ফাইভ’ টিকা ব্যবহারে মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। মে মাস নাগাদ টিকা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত বছরের অগাস্ট মাসে রাশিয়া বলেছে, বাংলাদেশের যদি সক্ষমতা থাকে তাহলে দেশটিকে তাদের আবিষ্কৃত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উৎপাদনের অনুমতি দেবে। ওদিকে বাংলাদেশ বলছে, তাদের এই সক্ষমতা আছে।

মঙ্গলবার ‘স্পুটনিক ফাইভ’ টিকার অনুমোদন দেয়ার ঘোষণা দেয়ার সময় বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেছেন, 'এ বিষয়ে এখন কথাবার্তা হচ্ছে। আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশে ভ্যাকসিন ম্যানুফ্যাকচারিং ক্যাপাবিলিটি আমাদের রয়েছে। আমাদের দেশে তিনটি ফার্মাসিউটিক্যাল ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন : হারিয়ে যাচ্ছে ‘গাড়িয়াল ভাই’ ও গরু-মহিষের গাড়ি

এ সময় বাংলাদেশে ভ্যাকসিন তৈরির সক্ষমতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ওডি/কেএইচআর

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড