• মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

যেসব সাধারণ কাজ কখনো মার্কিন প্রেসিডেন্টরা করেন না

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৮ এপ্রিল ২০২১, ১৩:২৩
যেসব সাধারণ কাজ কখনো মার্কিন প্রেসিডেন্টরা করেন না
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (ছবি : ফক্স নিউজ)

আমরা সকলেই জানি দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর এই ভূমিকা পালনের জন্যে তাদেরকে অনেক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়। তবে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট হয়েও এমন কিছু অতি সাধারণ কাজ আছে যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কখনো করতে পারেন না। চলুন দেখা যাক কি সেসব কাজ।

১) বন্ধুদের কল করা- আপনার কাছে দিনের যে কোনো সময় ফোনকল করে বন্ধুদের সাথে আলাপ করা বা দেখা করতে বলা খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষে এটা এতটা সহজ কিছু না মোটেই।

ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধ্যাপক ম্যাট পিংক্সারের মতে, প্রেসিডেন্ট কেবলমাত্র একটি ব্যক্তিগত লাইনে ফোন করতে পারেন। সুতরাং তিনি যদি কোনো বন্ধুকে কল করতে চান তবে তাকে প্রথমে সিক্রেট সার্ভিসকে জানাতে হবে।

২) সিনেমা হলে যাওয়া- মার্কিন রাষ্ট্রপতি কখনো সিনেমা হলে যেতে পারবেন না। তবে তাদের যদি কখনো সিনেমা দেখার ইচ্ছা হয়, সে ক্ষেত্রে সিনেমাগুলো হোয়াইট হাউসে আনা হয় এবং তাদের ব্যক্তিগত থিয়েটারের প্লে করা হয়।

৩) বাইরে খেতে যাওয়া- বাইরে খেতে যাওয়ার ব্যাপারটি পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ নয়। তবে এ ধরনের পরিকল্পনা থাকলে সেটি আগে থেকেই সিক্রেট সার্ভিসকে জানাতে হয়। তারা আগে থেকেই সেখানে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। উল্লেখ্য যে বাইরের খাবারটি নিরাপদ কিনা সেটা নিশ্চিত করার জন্য একটি 'ফুড টেস্টার' রয়েছে।

আরও পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রে মাস্ক ছাড়াই ঘুরতে পারবেন টিকা গ্রহীতারা

৪) গাড়ি চালানো- গাড়ি চালানো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তিনি একটি উচ্চ সাঁজোয়া গাড়ীতে চালককে নিয়ে ভ্রমণ করেন এবং সেই চালক হয়ে থাকে অবশ্যই উচ্চ প্রশিক্ষিত।

ভিলানোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের লেখক ডঃ জিম রোনানের মতে, প্রেসিডেন্টকে ব্যক্তিগত জায়গায় হাঁটা বা বাইক চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্স হারিয়ে যাওয়া অনেক প্রেসিডেন্টের জন্য বড় ধরনের একটি ক্ষতি ছিল। তবে অতীতে রাষ্ট্রপতি রেগান এবং জর্জ ডব্লিউ বুশকে নিরাপদ অঞ্চলে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

৫) সন্তানদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ফাংশনে অংশ নেওয়া- সাবেক প্রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে পরিবারের বড় ধরনের একটি নেতিবাচক প্রভাব ছিল। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, কোনো প্রেসিডেন্টের বাচ্চার স্কুলের ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়া। পরবর্তীকালে এটি সমাধানের জন্য অনেক বাচ্চাদের হোয়াইট হাউসেও প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা করানো হয়েছিল। অন্যথায় প্রেসিডেন্টের সুরক্ষার ব্যাপারটি না থাকলে সাধারণ স্কুলেই পড়তে পারত তাদের বাচ্চারা।

৬) সুরক্ষা ছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহার করা- সকল ধরনের নতুন প্রযুক্তি এবং এগুলোর গোপন বিষয়ের হুমকির যেসব ব্যাপার রয়েছে সেগুলো প্রেসিডেন্টের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সিক্রেট সার্ভিসের তত্ত্বাবধান ছাড়া এসব প্রযুক্তি থেকে প্রেসিডেন্টদের বিরত থাকতে হয়। পূর্বে এ কারণে ওবামার ব্ল্যাকবেরি এবং ট্রাম্পের টুইটার অ্যাকাউন্ট নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা উত্থাপিত হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এমন একটি জায়গা যেখানে প্রত্যেকে তার নিজের মতামত শেয়ার করতে পারে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। এছাড়া রাষ্ট্রপতিদের অ্যাকাউন্টে কাউকে ব্লক করার অনুমতি দেওয়া হয় না।

আরও পড়ুন : করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্বে সামরিক ব্যয়ে তৃতীয় ভারত

৭) বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার- সাইবার সিকিউরিটি গবেষক ডক্টর কারলা মাস্টারচিও বলেছেন, সাধারণ বাণিজ্যিক বিমানগুলো কোন প্রেসিডেন্টের জন্য যথাযথ বিকল্প হতে পারে না। তারা চাইলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিয়ে আলাদাভাবে বিমান ব্যবহার করতে পারেন।

তার থেকেও বড় কথা হলো, 'এয়ার ফোর্স-১' প্রেসিডেন্টের জন্যে বরাদ্দ থাকার পরেও সাধারণ বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার করা অনর্থক একটি ব্যাপার।

৮) জানালা খোলা- যদিও এটি মোটেই কোন বড় ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে না, কিন্তু এটাই সত্য যে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য ঘরের জানালা খোলা নিষিদ্ধ। এছাড়াও গাড়ির জানালা খোলাও তাদের জন্য নিষিদ্ধ। আর এসব নিয়ম তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্যই তৈরি হয়েছে। সাবেক ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামার ক্ষেত্রে অবশ্য একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ছিল। হোয়াইট হাউস থেকে ক্যাম্প ডেভিড যাওয়ার পথে তাকে ৫ মিনিটের জন্য গাড়ির জানালা খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। এটি অবশ্য আমাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক।

৯) অফিস পরিষ্কার করা- মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেয়া হয় যেন তারা কোনো অফিসিয়াল কাগজপত্র ফেলে না দেয়। বাইরে কোনো কিছু ফেলে দেয়ার আগে অবশ্যই তা অন্যান্য কর্মীদের দ্বারা ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখে নেয়া হয়।

১০) নিষেধ অমান্য করে কৌশল ব্যবহার করা- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য অনেক ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে যা তাদেরকে মেনে চলতে হয়। তবে এসব বিধিনিষেধের পরেও তাদের ইচ্ছার প্রাধান্য দেয়ারও ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সেখানেও তাদেরকে নিয়ম মেনে কাজটি করতে হবে।

আরও পড়ুন : করোনায় শনাক্ত-মৃত্যুতে নতুন রেকর্ড ভারতে

তিনি যদি এমন কিছু করতে চান যেটা নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনুমোদিত নয় যেমন কোনো অনিরাপদ অঞ্চল ঘুরে দেখার ইচ্ছা হলে তখন সেটা কৌশলে ব্যবস্থা করা যাবে। কিন্তু অবশ্যই সেক্ষেত্রে সিক্রেট সার্ভিসকে পূর্ব থেকেই এই পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়ে রাখতে হবে যেন তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার প্রস্তুতি নিতে পারে। এক্ষেত্রে তাকে সর্বদা সিক্রেট সার্ভিসের সাথে সাথেই থাকতে হবে।

ওডি/কেএইচআর

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড