• শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রাজকুমারী লতিফা বাড়িতে যত্নে আছে : আমিরাত

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০১
শেইখা লতিফা
দুবাইয়ের রাজকুমারী শেইখা লতিফা। (ছবি: সংগৃহীত)

দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের মেয়ে রাজকুমারী লতিফা বাড়িতে যত্নে আছে বলে দাবি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের লন্ডন দূতাবাস। তাদের দাবি, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকৃত পরিস্থিতি প্রতিফলিত হয়নি। লতিফা দ্রুতই সামাজিক জীবনে ফিরবেন।

নতুন জীবনের আশায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুবাই থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন লতিফা। পরে বন্ধুদের কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় নিজের বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। বলেছিলেন তাকে ‘জিম্মি’ করে রাখা হয়েছে এবং জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

সম্প্রতি বিবিসির প্যানোরামা অনুষ্ঠানে সেই ভিডিও প্রচার করা হয়। শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র লিজ থ্রোসেল জানান, এরইমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে লতিফার বেঁচে থাকার প্রমাণ চাওয়া হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ‘তার (লতিফার) পরিবার নিশ্চিত করছে, বাড়িতে রাজকুমারীর দেখাশোনা করা হচ্ছে, তাকে তার পরিবার ও চিকিৎসা পেশাদাররা দেখভাল করছেন। তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং উপযুক্ত সময়ে তিনি সামাজিক জীবনে ফিরবেন বলে আশাবাদী আমরা।’ তবে লতিফার জীবিত থাকার প্রমাণ হিসেবে কোনো ছবি বা ভিডিও দেওয়া হয়নি।

লতিফার পিতা শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম বিশ্বের ধনী রাষ্ট্রপ্রধানদের একজন। তিনি দুবাইয়ের শাসক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট। মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করে থাকেন, শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদের শাসন ব্যবস্থায় ভিন্নমতের প্রতি কোনও সহনশীলতা নেই এবং বিচার ব্যবস্থাও নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক। লতিফার দাবি, এ কারণেই তিনি পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তবে জিম্মি করা হয়েছে তাকে।

এর আগে জাতিসংঘে লতিফার মামলা উপস্থাপনকারী আইনজীবী রোডনি ডিক্সন বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি রাজকুমারী লতিফাকে শেষ পর্যন্ত মুক্ত করতে জাতিসংঘের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাকে যারা আটকে রেখেছে তাদের সঙ্গে জাতিসংঘের সরাসরি বৈঠক হওয়া প্রয়োজন। এর মধ্য দিয়ে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে যেন তাকে মুক্ত করা যায়।’

উল্লেখ্য, বিবিসির প্যানোরামা অনুষ্ঠানকে ওই ফুটেজ সরবরাহ করেন রাজকুমারী লতিফা আল মাকতুমের বন্ধুরা। সেখানে রাজকুমারী বলেন, তিনি নৌকায় করে পালিয়ে যাওয়ার পর ভারত মহাসাগর থেকে কমান্ডোরা তাকে অচেতন করে আবার বন্দিশালায় নিয়ে আসে। তখন থেকে তিনি সেখানেই আছেন। বাথরুম থেকে বন্ধুদের কাছে গোপনে ভিডিও পাঠিয়ে তিনি তার বন্দিদশার কথা জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন : গালওয়ানে ভারত-চীন সংঘর্ষের ভিডিও প্রকাশ

২০১৯ সালে দুবাইয়ের ক্ষমতাসীন পরিবারের উত্তেজনার বিষয়টি ইংল্যান্ডের হাইকোর্টের সামনে উন্মোচিত হয়, যখন শাসক শেখ মোহাম্মদের স্ত্রী ও লতিফার সৎমা প্রিন্সেস হায়া তার দুই সন্তান নিয়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে আসেন। তিনি নিজেদের সুরক্ষা ও নিপীড়িত না হওয়ার অধিকার চেয়ে শেখের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেন।

গত বছর হাইকোর্ট বেশ কয়েকটি রায় দেয়, যেখানে বলা হয় শেখ মোহাম্মদ ২০০২ এবং ২০১৮ সালে লতিফাকে জোর করে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ এবং পরিকল্পনা করেছিলেন। এছাড়া ২০০০ সালে তার বোন রাজকুমারী শামসাকেও যুক্তরাজ্য থেকে বেআইনিভাবে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনিও পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।

ওডি

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড