• বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দুর্ঘটনার দিন তড়িঘড়ি করে বেরিয়েছিলেন পাইলট

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১১ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:১০
দুর্ঘটনার দিন তড়িঘড়ি করে বেরিয়েছিলেন পাইলট
ইন্দোনেশিয়ায় দুর্ঘটনার শিকার বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন আফওয়ান (ছবি : বিবিসি নিউজ)

ইন্দোনেশিয়ায় বিধ্বস্ত শ্রীবিজয়া উড়োজাহাজে থাকা ৬২ আরোহীর এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি। উদ্ধারকারীরা বলছেন, সাগরে বিধ্বস্ত বিমানের কোনো যাত্রীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।

এ দিকে উড়োজাহাজের যাত্রী কারা, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি কর্তৃপক্ষ। পরিবার ও বন্ধুর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি লগহর তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করেছে। এই গণমাধ্যমটি তুলে ধরেছে ভুক্তভোগী কয়েকজনের কথা।

ফার্জা মাহারধিকার চাচা ওই বিমানের পাইলট ছিলেন। ফার্জা জানান, দুর্ঘটনার দিন তার চাচা ক্যাপ্টেন আফওয়ান (৫৪) তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি খুব পরিপাটি থাকতেন। কিন্তু সেদিন তার পোশাক ইস্তিরি করা ছিল না। আবার ছেড়ে যেতে হচ্ছে বলে তিন সন্তানের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে যান।

১৯৮৭ সালে পেশাগতভাবে পাইলটের দায়িত্ব পালনের আগে থেকেই বিমানবাহিনীতে কাজ শুরু করেন ক্যাপ্টেন আফওয়ান। তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। পরিবার ও সহকর্মীরা বলছেন, তিনি বেশ ধার্মিক ছিলেন। পশ্চিম জাভার বোগোর শহরের বাসিন্দা আফওয়ান প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের কাজে সহযোগিতা করতেন।

আরও পড়ুন : সাইবারস্পেস নিয়ন্ত্রণে চীনের ‘নয়া হাতিয়ার’ সাবমেরিন ক্যাবল

অপর দিকে ২৯ বছরের আনগা এখনো বেঁচে আছেন বলে মনে করেন মা আফরিদা। পশ্চিম সুমাত্রার বাসিন্দা আফরিদা বলেন, জাকার্তায় থাকা পরিবারের সদস্যরা আনগার খোঁজ করছেন। আমিও সেখানে যেতে চাই। কিন্তু মহামারির কারণে যাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে নাবিক আনগা প্রথম সন্তানের বাবা হয়েছেন। ছেলের নাম রেখেছেন আলভানো ফায়েজা আলিনগা। মা জানালেন, বাবা হওয়ার পর আরও পরিশ্রমী হন আনগা। মা শান্তভাবে বললেন, যদি ছেলে মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে তার মরদেহ বাড়ি নিয়ে আসবেন। ঠিকভাবে দাফন করবেন। সে সময় তার হাতে আনগার ছবিটি ধরা ছিল।

ওই উড়োজাহাজে ছিলেন নবদম্পতি ইহসান আদহালান হাকিম ও পুত্রি ওয়াহিয়ুনি। ইহসানের ছোট ভাই আরউইন আমরু হাকিম জানান, সোয়েকারনো হাতা বিমানবন্দর থেকে তার ভাইকে ফোন করে ফ্লাইট দেরিতে ছাড়ার কথা জানানো হয়েছিল। পনতিয়ানাকে বিয়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ওই দম্পতি যাচ্ছিলেন।

আরও পড়ুন : ট্রাম্পের ভুলে অনুদান হারাল রিপাবলিকানরা

শ্রীবিজয়ার ওই ফ্লাইটে ইয়ুসরিলানিতার মেয়ে ইনদাহ হালিমা পুত্রি, জামাই মোহাম্মদ রিজকি ওয়াহিউদি ও তাদের সন্তান ছিলেন। সেই ফ্লাইট বিধ্বস্তের খবরে জ্ঞান হারান তিনি। ইনদাহ জাভায় বাবার কাছে এসেছিলেন। সেখানেই সন্তানের জন্ম হয় তার। পরে সন্তানকে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে যাচ্ছিলেন পনতিয়ানাকে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ফ্লাইট উড়ানের আগে ইনদাহ হোয়াটসঅ্যাপে উড়োজাহাজের পাখাসহ একটি ছবি পাঠান পরিবারকে। ভারী বৃষ্টির কারণে তিনি পরিবারকে প্রার্থনা করতে বলেন।

আরও পড়ুন : পরিবেশ রক্ষায় গাড়িশূন্য নগরী গড়ছে সৌদি

পুলিশের সহকারী জ্যেষ্ঠ কমিশনার ইয়ানি পারমানা বলেন, স্বজনদের নমুনা সংগ্রহের জন্য ৫১ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে কমপক্ষে আরও দুদিন সময় লাগবে। স্বজনদের থেকে নেওয়া নমুনা মিলিয়ে পরিবারের অন্যদের শনাক্ত করা হবে।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড