• বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ৬ মাঘ ১৪২৭  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ওআইসি’র বৈঠকে কাশ্মীর প্রস্তাব, নিন্দা ভারতের 

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৮:০৭
করোনা
ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) বৈঠকে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে যৌথ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশগুলো।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী রোববার ভারত ওআইসি’র প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করে বলেছে, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণের কোনো অধিকার অন্য কোনো দেশের নেই।

বিবৃতিতে দিল্লি আরও বলেছে, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অখণ্ড অংশ এবং এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

নাইজারে গত ২৭ থেকে ২৯ নভেম্বর ৪৭তম ওআইসি সম্মেলনে মিলিত হয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

করোনা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কাশ্মীরের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে ভারত সরকার। ফলে কাশ্মীর এতদিন যে বিশেষ অধিকার পেত, তা এর মাধ্যমে খারিজ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যটিকে ভেঙে দুইটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়েছে। এর একটি হলো লাদাখ এবং অপরটি জম্মু-কাশ্মীর।

ভারতের এই সিদ্ধান্তের পর বিতর্ক কম হয়নি। দেশটির বিরোধীরা এর প্রতিবাদ করেছেন। দেশের বাইরেও এর প্রভাব পড়েছে। পাকিস্তান গোড়া থেকেই এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে এ বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে ইমরান খানের সরকার। কিন্তু জাতিসংঘ থেকে শুরু করে একাধিক মঞ্চে পাকিস্তানের আবেদন সেভাবে গুরুত্ব পায়নি।

ভারত বারবার বলছে, কাশ্মীর তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্য রাষ্ট্রের এ বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার নেই।

এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরাসরি কাশ্মীর নিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নাইজারের সম্মেলনে কাশ্মীর প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এর পরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে। সেখানে বলা হয়, কাশ্মীর নিয়ে প্রস্তাব গ্রহণের কোনো অধিকার কোনো রাষ্ট্র বা অর্গানাইজেশনের নেই।

একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে সব রাষ্ট্র ওই প্রস্তাবের অংশীদার, তাদের নিজেদের দেশেই সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সুরক্ষিত নয়। এসব দেশেও সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হয়। নাম উল্লেখ না করলেও ভারতের ওই বিবৃতিতে পাকিস্তানের দিকেই অঙ্গুলিনির্দেশ করা হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

জাতিসংঘে চীনের সমর্থনে পাকিস্তান কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপনের একাধিক চেষ্টা করলেও তা বিশেষ কার্যকরী হয়নি। পরবর্তীকালে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক। ভারতের কাশ্মীর নীতির নিন্দা করেছেন এরদোয়ান।

আরব বিশ্বেও কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি আরবের জি-২০ নোটে ভারতের যে মানচিত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে কাশ্মীরকে বাদ দেয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে ওআইসি-র বৈঠকে কাশ্মীর প্রসঙ্গে প্রস্তাব গ্রহণ অভূতপূর্ব ঘটনা।

ওডি/

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড