• বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কাশ্মীরে নির্বাচন : একপাশে বিজেপি, অন্যপাশে সবাই

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ নভেম্বর ২০২০, ১৫:৩০
কাশ্মীরে নির্বাচন : একপাশে বিজেপি, অন্যপাশে সবাই
কাশ্মীরে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ভোটাররা (ছবি : কাশ্মীর টাইমস)

সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের পর এবারই প্রথম নির্বাচন হতে যাচ্ছে ভূস্বর্গ খ্যাত উপত্যকা কাশ্মীরে। ডিসট্রিক্ট কাউন্সিলের ২৮০ সদস্য নির্বাচিত করবেন ভোটদাতারা। জেলাস্তরের নির্বাচন হলেও বিভিন্ন কারণে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জম্মু-কাশ্মীরে আগামী ২৮ নভেম্বরের এই নির্বাচন ঘিরেই তৈরি হয়েছে প্রবল কৌতূহল।

গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে প্রতিটি আসনে এক দিকে আছে বিজেপি, অন্য দিকে বিরোধী জোট, যার মধ্যে ওমর আবদুল্লার ন্যাশনাল কনফারেন্স, মেহবুবা মুফতির পিডিপি এবং কাশ্মীরের অন্য দলগুলো রয়েছে। কংগ্রেস তাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে। গুপকর জোটের ঘোষিত অবস্থান হলো, তারা ৩৭০ ধারা বিলোপের বিরোধী।

এবারের নির্বাচন শুধু যে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর প্রথম নির্বাচন তাই নয়, আরও কিছু দিক থেকে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। ৩৭০ ধারা বিলোপর পর কাশ্মীরের নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতিরা কেউ প্রায় এক বছর, কেউ তারও বেশি সময় ধরে বন্দি অবস্থায় কাটিয়েছেন।

মুক্তি পাওয়ার পর তারা একজোট হয়েছেন। এই প্রথমবার হাত মিলিয়েছেন ওমর আবদুল্লা ও মেহবুবা মুফতি। তাদের জোটে সিপিএমও আছে। তারা ৩৭০ ধারা বিলোপের বিরুদ্ধে এবং জম্মু-কাশ্মীরকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার বিরোধী। জেলার নির্বাচন হলেও সেই বিষয়গুলোই তারা তুলবেন।

আরও পড়ুন : করোনার খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিকের ৫ বছরের কারাদণ্ড

সম্প্রতি কাশ্মীর থেকে ঘুরে এসেছেন ডয়চে ভেলের সাংবাদিক সালাউদ্দিন। তার বক্তব্য, এমনিতে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ ও দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা নিয়ে মানুষের মনে প্রচণ্ড রাগ রয়েছে। সেই ক্ষতে এখনো প্রলেপ পড়েনি।

তিনি বলেছিলেন, গুপকর জোট লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই কারণে যে, তারা না লড়লে বিজেপি প্রার্থীরাই জিতে যেতেন। পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। বিরোধী দলগুলো বয়কট করায় বিজেপি প্রার্থীরাই সব আসনে জিতেছে। জেলার ক্ষেত্রে সেটা হতে দিতে চায়নি গুপকর। কাশ্মীরে এমনিতে খুব কম ভোট পড়ে। দুই-তিন শতাংশের মতো। সেক্ষেত্রে গুপকর জোটের প্রার্থীদেরই জয়ের সম্ভাবনা প্রবল।

দিল্লির সাংবাদিক ও অধিকার রক্ষা কর্মী আশিস গুপ্ত জানিয়েছেন, গুপকর লড়ছে বলেই জেলাস্তরের নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর ৩৭০ ধারা বিলোপের পর প্রথম নির্বাচনে কাশ্মীরিরা কিরকম প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন : বাগদাদে দফায় দফায় ভয়ঙ্কর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত

বিশ্লেষকদের মতে, গুপকরের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়ছে কংগ্রেস। আর সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি প্রচার শুরু করেছে, কংগ্রেস জাতীয়তাবিরোধী। কারণ গুপকর জোটের সঙ্গে হাত মেলানো মানেই জাতীয় স্বার্থের বিরোধিতা করা।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গুলাম আহমেদ মির বলেছেন, আমরা গুপকরের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছি। কিন্তু একই কর্মসূচির ভিত্তিতে লড়ব কি না, তাদের জোটে শামিল হয়ে লড়ব কি না, তা এখনো ঠিক হয়নি। হঠাতই ভোটের ঘোষণা হয়েছে। তাই সেই সময় পাওয়া যায়নি।

প্রথম পর্যায়ের আসনগুলোতে কংগ্রেস নিজের প্রার্থী আলাদাভাবে জানিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বের প্রার্থীর নাম গুপকরের হয়ে ফারুক আবদুল্লা ঘোষণা করেছেন। সেখানে কংগ্রেস প্রার্থীদের নামও আছে। তবে বিজেপির প্রচারের পর কংগ্রেস গুপকরের সঙ্গে কি রকম সম্পর্ক রাখবে তা নিয়ে কিঞ্চিত দ্বিধায় ফারুক।

আরও পড়ুন : ইরাক-আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা ট্রাম্পের

এই প্রথমবার কাশ্মীরে ভোট দিতে পারবেন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আসা উদ্বাস্তুরা। ১৯৪৭ সালে জম্মুর সীমান্তবর্তী এলাকায় এসেছিলেন এই হিন্দু ও শিখ উদ্বাস্তুরা। কিন্তু ৩৭৯-এর জন্য তারা কখনো ভোট দিতে পারেননি। এবার পারবেন। তাদের সংখ্যা এখন প্রায় চার লাখ।

মূলত এসব কারণেই কাশ্মীর জেলা কাউন্সিলের ভোটও রীতিমতো গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের নজর এখন সে দিকে।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড