• মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ডাক যোগে ভোট

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিপাকে ট্রাম্প

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৮:২৪
অধিকার
ছবি : সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবির। ট্রাম্প মেইল ইন বা ডাক ভোটের বিরোধিতা করে আসলেও নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ডাক যোগে পাঠানো ভোট নির্বাচনের ছয় দিন পরও গ্রহণের পক্ষে সম্মতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।

নিম্ন আদালতের দেওয়া এই সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল গত বুধবার রাতে খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত। এই সিদ্ধান্তের কারণে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটিকদের জয় হলো বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের জন্য ডাক যোগের ভোট গ্রহণে অতিরিক্ত তিন দিন সময় অনুমোদনের পক্ষে রায় দেয় উচ্চ আদালত। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটের দিন ৩ নভেম্বর হলেও ৪ সেপ্টেম্ব থেকেই ডাকযোগে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এই দিন নর্থ ক্যারোলিনা রাজ্যের মানুষকে ‘মেল ইন’ ভোটের কাগজপত্র পাঠানো হচ্ছে। করোনা সংকটের প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগুরু ভোটারই ডাকযোগে ভোট দেবেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। সে কারণে একাধিক রাজ্য সব ভোটারের কাছে ‘মেল ইন’ ভোটের ব্যালট পেপার পাঠিয়েছে। কিছু রাজ্যে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে এমন ভোট গণনা করা হয়। বাকি রাজ্যে নির্বাচনের পর সেই কাজ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেকর্ড সংখ্যক ডাকযোগে ভোটের কারণে নির্বাচনের রাতে সার্বিক চিত্র উঠে আসবে না।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ‘মেল ইন’ ভোটের বিরোধিতা করে চলেছেন। তার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় কারচুপির আশঙ্কা বেশি। কোনও তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই তিনি এমন আশঙ্কার উল্লেখ করে আসছেন। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে এখন তিনি দাবি করছেন, ভোটের রাতেই গণনা শেষ করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে দুটি অঙ্গরাজ্যে ডাক ভোট গণনার মেয়াদ বাড়ানো রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন উচ্চ আদালতের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নর্থ ক্যারোলিনার জন্য অতিরিক্ত সময় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বিচারপতিদের ৫-৩ ভোটে। এতে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট অংশ নেননি বলেও জানানো হয় ওই ঘোষণায়। কারণ হিসেবে বলা হয়, প্রস্তাবটি দ্রুত অনুমোদনের দরকার ছিল আর সেজন্য মামলাটি পর্যালোচনার পর্যাপ্ত সময় নতুন বিচারপতি পাননি।

নর্থ ক্যারোলিনার বোর্ড অব ইলেকশন ডাক যোগে ভোটগ্রহণের সময় অনুমোন করলে তার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে যায় রিপাবলিকান শিবির। নিম্ন আদালত ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচার দল এবং রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় এবং অঙ্গরাজ্য শাখার পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচন কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নির্বাচন প্রক্রিয়ার মর্যাদার ওপর তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছে।

নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের আইনসভা ডাক যোগে পাঠানো ভোট পৌঁছানোর সময়সীমা ৬ নভেম্বর নির্ধারণ করে। তবে গত জুলাই মাসে নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ তা ১২ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ায়। কারণ হিসেবে বলা হয়, অঙ্গরাজ্যের ডাক কর্তৃপক্ষের বিলম্বের কারণে ভোট বাতিল হওয়া এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই পরিবর্তনের কারণে এখন নির্বাচনের দিনও যদি কোনও ভোটার ডাক যোগে ভোট দেন তাহলে সেটাও গণনা করা যাবে।

অঙ্গরাজ্যের আইনে করোনা মহামারির মতো জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন সংক্রান্ত নিয়মকানুন সাময়িকভাবে বদলানোর ক্ষমতা নির্বাচনি কর্তৃপক্ষের রয়েছে বলে আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবীরা। গত তিন বছরে নর্থ ক্যারোলিনা উপকূলে হারিকেনের আঘাতের পর দুইবার ডাকযোগে ভোট পাঠানোর নিয়ম বদলানোর উদাহরণও হাজির করেন তারা।

পাল্টা যুক্তি হিসেবে রিপাবলিকানদের তরফে বলা হয়, সংবিধানে বর্ণিত আইনে অঙ্গরাজ্যকে নির্বাচন পরিচালনা করতে নিয়ম বদলের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে একই সময়ে নাগরিকদের সময় মতো ভোট দেওয়ার দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা ঠিক রেখে সেই বদলের কথা হয়েছে বলেও যুক্তি দেন তারা। তবে শেষ পর্যন্ত তা আমলে নেয়নি আদালত।

নর্থ ক্যারোলিনার প্রায় ১৫ লাখ ভোটার এবার ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আবেদন করেছেন। ২০১৬ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ছয়গুণ বেশি। চার বছর আগে অঙ্গরাজ্যটিতে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক লাখ ৭৩ হাজার ৩১৫ ভোটে জয়লাভ করেছিলেন।

পেনসিলভানিয়াতে ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন কিন্তু এবার নির্বাচনি জরিপে এগিয়ে আছেন বাইডেন।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড