• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার পরীক্ষা চালিয়েছে তুরস্ক 

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৩৯
করোনা
ছবি : সংগৃহীত

তুরস্কের কৃষ্ণ সাগর উপকূলের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার একটি ভিডিও হাতে পেয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। শুক্রবার উপকূলীয় শহর সিনোপ থেকে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। ওই শহরটিতে তুরস্ক রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা চালাবে বলে আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিলো। ভিডিওতে নীল আকাশের উঁচুতে ধোঁয়ার সরু সারি উঠে যেতে দেখা গেছে। তুরস্কের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম পরীক্ষা চালানোর কথা প্রকাশ করলেও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এসব খবর স্বীকার বা অস্বীকার কোনওটিই করেনি। সপ্তাহ খানেক আগে কৃষ্ণ সাগরের নির্দিষ্ট এলাকায় জাহাজ ও বিমান চলাচলের বিষয়ে সতর্কতা জারি করে তুরস্ক। ওই এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছিলো এই সপ্তাহেই সেখানে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা চালাবে দেশটি। শুক্রবার তুর্কি সরকারের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম হাবের টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়, পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়েছে। আরও কয়েকটি তুর্কি সংবাদমাধ্যমও একই খবর দেয়। তবে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা শুরুর কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মস্কোর কাছ থেকে আঙ্কারা এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ন্যাটো প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য হয়েও তুরস্ক মস্কোর কাছ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।গত বছর রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের হাতে আসার পর আঙ্কারাকে এফ-৩৫ যুদ্ধ বিমান কর্মসূচি থেকে বের করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দেওয়া হয়।

শুক্রবার ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা চালানোর খবর সামনে আসার পর হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হলে তুরস্কের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্কের ওপর ‘সম্ভাব্য মারাত্মক পরিণতি’র বিষয়ে সতর্ক করা হয়। পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মরগান অর্তাগাস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যদি সত্যি হয়, তাহলে আমরা এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণকে কঠোরতম ভাষায় নিন্দা জানাবো কারণ ন্যাটো মিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সহযোগী হিসেবে তুরস্কের দায়বদ্ধতার সঙ্গে এই আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক তুরান ওগাজ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ধোঁয়ার রং, তীব্রতা, কৌনিক দূরত্ব ও পথ প্রাথমিকভাবে বিশ্লেষণ করে এটিকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র বলে মনে হয়েছে। তিনি বলেন, ধোঁয়ার কৌনিক দূরত্ব দেখে মনে হয়েছে লক্ষ্যবস্তু নিশ্চিতভাবে খুব বেশি উঁচুতে ছিলো না।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে রাশিয়ার সঙ্গে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষর করে তুরস্ক। গত বছরের জুলাইতে আড়াইশ’ কোটি ডলার মূল্যের চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারির সরবরাহ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয় এ বছরের এপ্রিল থেকে এস-৪০০ সক্রিয় করা হবে। তবে তারপর থেকে এখন পর্যন্ত তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আর কোনও তথ্য জানানো হয়নি।

ওডি/

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড