• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আফগান তালিবানেই ভরসা পাকিস্তানের

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:১৩
আফগান তালিবানেই ভরসা পাকিস্তানের
অস্ত্র হাতে তালিবান যোদ্ধারা (ছবি : প্রতীকী)

অনেক প্রতীক্ষার পর অবশেষে আফগান সরকার এবং তালিবানের মধ্যে ‘ঐতিহাসিক’ শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। উপসাগরীয় দেশ কাতারে আফগান সরকার ও তালিবান প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথমবারের মতো শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে আশার আলো দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঐতিহাসিক এ আলোচনা ঘিরে যতটা না আগ্রহ কাজ করছে আফগান জনগণের, তার চেয়েও মুখিয়ে আছে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের প্রত্যাশা, আফগানিস্তানে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের সঙ্গে যেন তালিবানের সুসম্পর্ক থাকে। কারণ পাকিস্তান মনে করে, তালিবান ভারতের চেয়ে পাকিস্তানকে প্রাধান্য দেবে।

ইসলামাবাদের নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসান আসকার রিজভি ঠিক এমনটিই মনে করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজকে তিনি বলেন, পাকিস্তান এখন সত্যিই আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা চাইছে। কিন্তু তারা চায় এমন একটি সরকার কাবুলে ক্ষমতায় থাকবে যাদের সঙ্গে ভারতের চেয়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা বেশি হবে। পাকিস্তান চায় ভবিষ্যতে কাবুলে যে সরকারই আসুক না কেন তালিবান যেন তার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়।

আরও পড়ুন : বাহরাইনের ‘জল্লাদ শাসককে’ কঠিন প্রতিশোধের হুঙ্কার ইরানি সেনাবাহিনীর

কেন তালিবানের ওপর পাকিস্তান এত ভরসা করছে? এমন প্রশ্নে হাসান আসকার রিজভি বলেন, যদিও বিষয়টি এমন নয় যে তালিবান এখন পাকিস্তানের কথায় ওঠাবসা করে, তারপরও পাকিস্তান মনে করে তালিবান ভারতের চেয়ে পাকিস্তানকে প্রাধান্য দেবে।

তার মতে, তালিবানের কাছে ভারত একটি অমুসলিম দেশ। তাদের কাছে বিষয়টা খুব স্পষ্ট। পাকিস্তানের দৃঢ় বিশ্বাস যে, আফগানিস্তানে গত এক দশকে ভারতের যে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব যেভাবে বাড়ছে তা তাদের নিরাপত্তার জন্য গভীর হুমকি তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন : সোলাইমানির মতো সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকেও হত্যার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

ইসলামাবাদের এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেছিলেন, পাকিস্তান বিশ্বাস করে আফগান গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশে ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে। বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাহায্য করছে। পাকিস্তান এই অবস্থার পরিবর্তন চায়।

বিবিসি নিউজ বলছে, তালিবানের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘদিনের। ১৯৯০-এর দশকে আফগান গৃহযুদ্ধে তালিবানকে সমর্থন দেয় পাকিস্তান। ১৯৯৬-তে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর যে মাত্র তিনটি দেশ তাদের বৈধ সরকার বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল তাদের একটি ছিল পাকিস্তান।

আরও পড়ুন : শত্রুদের সব ষড়যন্ত্রকে গুড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি হামাসের

তালিবানের নেতারা পাকিস্তানের আশ্রয় পেয়েছেন। এমনকি ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালিবানের যে শান্তি চুক্তি সম্ভব হয়, তার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল পাকিস্তানের। যুক্তরাষ্ট্রও সেটা একবাক্যে স্বীকার করেছে। তাই পাকিস্তানের এখন ভরসা তালিবানই।

তবে ভিন্ন কথা বলছেন গবেষক ফাহাদ হুমায়ুন। কূটনীতিবিষয়ক বিশেষ মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসিতে তিনি লিখেছেন, তালিবানের শীর্ষ নেতৃত্বে এখন এমন কেউ কেউ উঠে আসছেন যারা তাদের পুরোনো নেতাদের মতো পাকিস্তানের সঙ্গে তেমন ঘনিষ্ঠ নয় এবং সেই সম্পর্কের ইতিহাসও তেমন তারা জানেন না।

আরও পড়ুন : আমিরাত-বাহরাইনের সঙ্গে চুক্তির মাঝেই ইসরায়েলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত

ফাহাদ হুমায়ুন মনে করন, নতুন একদল তালেবান নেতা এখন তাদের স্বার্থ রক্ষায় ইসলামাবাদের চাইতে দোহার দিকেই বেশি তাকান।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসান আসকার রিজভির দাবি, আফগানিস্তানে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তালিবানের একটি অংশ যেভাবে কট্টর অবস্থান নিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যে তা নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে। পাকিস্তান হয়তো এখন পুরোপুরি একটি তালিবান সরকারও চায় না।

আরও পড়ুন : ইসলামের শত্রু ইসরায়েলকে কখনো বন্ধু না বানানোর হুঁশিয়ারি কাতারের

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের মধ্যে একটি আশঙ্কা এখন কাজ করছে যে, আফগানিস্তানে তালিবান যদি পূর্ণ ক্ষমতায় চড়ে বসে তাহলে এক সময় পাকিস্তানের জন্য তা হুমকি তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরিকে তালিবানের (টিটিপি) মতো পাকিস্তানি তালিবান গোষ্ঠীর সঙ্গে আফগান তালিবানের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতিসংঘের এক হিসাবে কমপক্ষে ৬০০০ পাকিস্তানি তালিবান এখন আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধে সামিল রয়েছে। তারপরও পাকিস্তান মনে করছে, আফগানিস্তানে ক্ষমতায় তালিবানের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ তাদের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে ভালো বিকল্প।

আরও পড়ুন : ইসরায়েলি চুক্তির ফাঁদে আমিরাত-বাহরাইন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আতঙ্ক

গত শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় আফগান সরকারের সঙ্গে প্রথমবারের মতো তালিবানের সরাসরি আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে তালিবানরা সবসময়ই আলোচনার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে আফগান সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল আখ্যা দিয়ে আসছিল। তবে দু’পক্ষই এখন সহিংসতার অবসান আশা করছে যা ১৯৭৯ সালে শুরু হয়েছিল।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড