• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আশ্রয়কেন্দ্রে আগুন, রাস্তায় অভুক্ত হয়ে ঘুরছে হাজার হাজার শরণার্থী 

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:১৭
করোনা
ছবি : সংগৃহীত

খালি পায়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল আট বছরের শিশু ভ্যালেন্সিয়া। এক সাংবাদিককে দেখতেই এগিয়ে গিয়ে কাতর অনুনয় তার, ‘আমাদের ঘর পুড়ে গেছে, আমার জুতা পুড়ে গেছে। আমাদের কোনও খাবার নেই, পানি নেই।’ খিদার জ্বালা মেটাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ওই সাংবাদিকের কাছে একটা বিস্কুট চেয়ে বসে কঙ্গোলিজ মেয়েটি।

পাশেই ছিলেন ভ্যালেন্সিয়ার মা, কোলে এক নবজাতক শিশু। তিনিও কাতরকণ্ঠে বলেন, ‘কোথাও খাবার নেই, বাচ্চাটার জন্য দুধও নেই।’ এভাবে অভুক্ত অবস্থাতেই রাস্তার পাশে রাত কাটছে তাদের।

ভ্যালেন্সিয়াদের মতো এমন দুরবস্থা গ্রিসের লেসবস দ্বীপের মোরিয়া আশ্রয়কেন্দ্রের হাজার হাজার শরণার্থীর। আশ্রয়কেন্দ্র আগুনে পুড়ে যাওয়ায় গত দুই রাত কেউ কাটিয়েছেন রাস্তার পাশে, কেউ মার্কেটের পার্কিংলটে, কেউ খোলা মাঠে।

২০১৫-১৬ সালে ইউরোপের অভিবাসী সংকটের সম্মুখভাগেই ছিল গ্রিসের এ দ্বীপটি। সেখানকার আশ্রয়কেন্দ্রটিতে অন্তত ১৩ হাজার শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার রাতে হঠাৎই আগুন লেগে যায় মোরিয়া শিবিরে। এতে আশ্রয়কেন্দ্রের একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ভিড় জমে গিয়েছিল আরেক পাশে। রহস্যজনকভাবে পরের রাতেই বাকি অংশও আগুনে পুড়ে যায়। ফলে পুরো আশ্রয়কেন্দ্রটি এখন পরিণত হয়েছে গলিত লোহা আর তাবুর ধ্বংসাবশেষে।

আশ্রয়কেন্দ্রের শরণর্থীরা আগুনের হাত পালাতে পারলেও তাদের আসলে যাওয়ার কোনও জায়গা নেই। অনেকেই ছোট ছোট বাচ্চার হাত ধরে এসে দাঁড়িয়েছেন খোলা রাস্তায়। কেউ কেউ মাইলের পর মাইল হেঁটে পাশের গ্রামগুলোতে যাচ্ছেন খাবার-পানির সন্ধানে।

তবে শরণার্থীদের দ্বীপের প্রধান শহর মাইটিলেনে যাওয়ার পথে আটকে দিচ্ছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। তাদের রাস্তার পাশে বা মাঠের মধ্যেই আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে লেসবসে চার মাসব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণার পাশাপাশি পাঠানো হয়েছে বাড়তি দাঙ্গা পুলিশও।

গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লেসবসের পরিস্থিতি দেখতে যাচ্ছেন ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্জারাইটিস শিনাস। এর আগেই কয়েশ’ শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে সেখানে একটি ফেরি পাঠানো হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিনিধি জন পারোপোলোস বলেন, আমাদের বলা হয়েছে, শিশুসহ সবচেয়ে অরক্ষিত কয়েক হাজার শরণার্থীর আশ্রয় হিসেবে তিনটি জাহাজ আসছে। তবে এরপরও কয়েক হাজার মানুষ অযত্নেই থেকে যাবে। এটা বিশাল সমস্যা, কারণ তাদের সাহায্য করার মতো অবকাঠামো নেই পৌর কর্তৃপক্ষের।

অগ্নিকাণ্ডের কয়েকদিন আগে আশ্রয়কেন্দ্রটিতে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় সব শরণার্থীকেই কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। সেখানে এ পর্যন্ত ৩৫ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন।

গ্রিসের স্থানীয় সংবাদ সংস্থা এএনএ বলছে, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আইসোলেশন সেন্টারে যেতে অনীহা প্রকাশের পরেই সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছে কি না তা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: আল জাজিরা

ওডি/

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড