• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

যুক্তরাষ্ট্র-চীন 'যুদ্ধের' মাঝে নতুন সমস্যা মিয়ানমার?  

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:০৯
করোনা
ছবি : সংগৃহীত

চীনের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করার অভিযোগ তুলে বক্তব্য দিয়েছেন আমেরিকান এক কূটনীতিক। এরপরেই মিয়ানমারের মার্কিন ও চীনা দূতাবাস বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি মিয়ানমারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জর্জ এন সিবিলি লিখিত বক্তব্যে বলেন, হংকংয়ের স্বতন্ত্র গণতান্ত্রিক চেতনা নষ্ট করার জন্য দায়ী চীন। সেই সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগর এবং হংকং নিয়ে বেইজিংয়ের নেওয়া পদক্ষেপ এর প্রতিবেশীদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার একটি বড় প্রক্রিয়া।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমারের চীনা দূতাবাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বেইজিংয়ের নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সম্মানহানির পাশাপাশি দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোকে চীনের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে।

হংকং এবং দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে গত ১৯ জুলাই মিয়ানমার নিয়ে নতুন বাকযুদ্ধে জড়িয়েছে পরাশক্তি এই দুই দেশ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বেইজিং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে অবজ্ঞা করছে- যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবির প্রত্যুত্তরে মিয়ানমারে চীনের দূতাবাস বলেছে, বিদেশে ক্রিয়াশীল মার্কিন সংস্থাগুলো চীনকে আটকাতে ‘জঘন্য সব কাজকর্ম করছে’ এবং ‘স্বার্থপর, কপট, ঘৃণ্য ও কুরুচিপূর্ণ চেহারা’ দেখাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক সপ্তাহে দক্ষিণ চীন সাগর বিষয়ে তাদের বেইজিংবিরোধী অবস্থান আরো স্পষ্ট করেছে। বলেছে, তারা সেসব দেশকেই পৃষ্ঠপোষকতা দেবে যারা গুরুত্বপূর্ণ ওই জলসীমার ৯০ শতাংশ নিজেদের বলে দাবি করা চীনের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।

গত ১৮ জুলাই এক বিবৃতিতে ইয়াংগুনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দক্ষিণ চীন সাগর ও হংকং নিয়ে চীনের পদক্ষেপকে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্নের ‘বৃহত্তর প্যাটার্নের’ অংশ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে দক্ষিণ চীন সাগর ও হংকংয়ে চীনের কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মিয়ানমারে চীনের বিশাল বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এতে দেশটি বেইজিংয়ের ঋণের ফাঁদে পড়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে মিয়ানমার থেকে চীনে নারী পাচার এবং চীন থেকে মিয়ানমারে মাদকের প্রবাহের প্রসঙ্গও এসেছে।

জবাবে চীনা দূতাবাস বলেছে, চীন-মিয়ানমারের বিকাশমান সম্পর্কের প্রতি ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি যে ‘আঙ্গুর ফল টক’ ধরনের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বিবৃতিতেই তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে দৃষ্টি অন্য দিকে সরাতে এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র যেসব প্রহসন করছে বিবৃতিটি তারই আরেক নজির। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে আয়নায় তাকানো এবং তাদের এখনো বিশ্বের বড় দেশের মতো লাগছে কিনা তা দেখা।'

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সুচির দলের ক্ষমতায় আরোহন এবং রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়ন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনই মিয়ানমারকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে লড়াইয়ের অন্যতম ময়দানে পরিণত করেছে।

দুই পরাশক্তির সঙ্গে মিয়ানমারের অর্থনৈতিক সম্পর্কের চেয়েও চীনের মূল ভূখণ্ড এবং বঙ্গোপসাগরের মধ্যে সংযোগস্থল হিসেবে দেশটির কৌশলগত গুরুত্বই এক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মনে করেন লেখক ও ইতিহাসবেত্তা থান্ট মিন্ট-উ। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে মিয়ানমার সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চেয়েছে, কিন্তু সামনের দিনগুলোতে পরাশক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান শত্রুতার মধ্যে এই অবস্থা ধরে রাখা যাবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।'

চীনের শিল্প বিপ্লবের চাপ এবং তাদের কয়েকশ কোটি ডলারের অবকাঠামোগত প্রজেক্ট মিয়ানমারকে পুরোপুরি বেইজিংয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও ধারণা মিন্ট উ-র। তিনি বলেন, 'মনে রাখা দরকার, শেষ স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে প্রক্সি যুদ্ধ হয়েছে মিয়ানমার ছিল তার একটি, এর ধারাবাহিকতাই দেশটিকে সামরিক স্বৈরতন্ত্র এবং কয়েক দশক স্ব-আরোপিত বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল।' সূত্র : রয়টার্স।

ওডি/

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড