• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

৫ ভারতীয়কে অপহরণ : আরও উত্তেজনা বাড়ল চীন-ভারতের মাঝে

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৫৭
করোনা
ছবি : সংগৃহীত

সীমান্ত সংলগ্ন অরুণাচল প্রদেশ থেকে পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে চীনের সামরিক বাহিনীর অপহরণের খবরে নয়াদিল্লি এবং বেইজিংয়ের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে প্রতিবেশি পারমাণবিক অস্ত্রধারী এ দুই দেশের চলমান উত্তেজনায় নতুন পারদ যুক্ত করেছে অপহরণের এ খবর।

গত সপ্তাহে এই ভারতীয়রা অপহৃত হলেও বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে ৫ সেপ্টেম্বর; ওইদিন অরুণাচল প্রদেশের একজন বিধায়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক বার্তায় ভারতীয় পাঁচ নাগরিককে চীনা সৈন্যরা ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন।

এ ঘটনার পর ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একজন সদস্য বলেছেন, চীনের সামরিক বাহিনীর কাছে হটলাইনে বার্তা পাঠানো হয়েছে। চীন এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

অরুণাচলের বিধায়ক তাপির গাও এক টুইটে বলেন, সীমান্তের কাছ থেকে গত ৩ সেপ্টেম্বর ভারতীয়দের অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে আর কোনও বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

ভারতীয়দের অপহরণের ব্যাপারে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছে এক সাংবাদিক জানতে চাইলে বলেন, চীনের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে বার্তা পাওয়ার অপেক্ষা করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। অরুণাচলের এই ঘটনায় চীন-ভারতের মাঝে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত মাসে দুই দেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলএসি) চীনের সামরিক বাহিনী মাত্র এক সপ্তাহে অন্তত দু'বার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে বলে অভিযোগ তোলে ভারত। যদিও বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চীনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। দুই দেশের মাঝে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে; সেই সময় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

চীন বলছে, সীমান্তের এই মুখোমুখি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্য ভারতই পুরোপুরি দায়ী। নিজ ভূখণ্ডের এক ইঞ্চিও হারাতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং।

এদিকে, ভারত অভিযোগ করে বলেছে, সীমান্তে ব্যাপক সৈন্য সমাবেশ করে আগ্রাসী আচরণ এবং একপাক্ষিকভাবে সীমান্ত এলাকায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে চীন।

গত জুন থেকে লাদাখ এলাকা সীমান্তে দুই দেশের সৈন্যদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত গয় গত ১৫ জুন। ওইদিন হাতাহাতি, কিল-ঘুষি লাথিতে ভারতের অন্তত ২০ সৈন্য নিহত হয়।

কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম প্রাণঘাতী এই সংঘাতে চীনা সৈন্যরাও হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ভারত। যদিও বেইজিং এ ব্যাপারে কোনও তথ্যই প্রকাশ করেনি।

হিমালয় অঞ্চলে প্রতিবেশি দুই দেশের সীমান্ত বিরোধ কয়েক দশক ধরে চলেও কোনও সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি বেইজিং-দিল্লি। গত জুনের ওই সংঘাতের পর থেকে সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে দফায় দফায় বৈঠক হলেও উত্তেজনা কমেনি; বরং সময়ে সময়ে উত্তেজনায় যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।

জুনে কী ঘটেছিল?

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ মিটার ওপরের লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সৈন্যদের সংঘাত হয় জুনে। এ সময় চীনা সৈন্যদের কিল-ঘুষি, লাঠির আঘাতে বিশাল উচ্চতা থেকে গালওয়ান নদীতে পড়ে যান ভারতীয় সৈন্যরা।

এতে ২০ ভারতীয় সৈন্যের প্রাণহানির পাশাপাশি আহত হন আরও প্রায় ৭৬ জন। তবে সংঘাতে চীনা কোনও সৈন্য হতাহত হয়েছে কিনা বেইজিং সেব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

১৯৯৬ সালে দ্বিপাক্ষিক এক চুক্তির মাধ্যমে উপত্যকায় অস্ত্র ও বিস্ফোরকের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে রাজি হয় উভয় দেশ। কোনও ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ছাড়া সংঘর্ষে এতসংখ্যক ভারতীয় সৈন্যের প্রাণহানি গত কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম।

সৈন্যদের সংঘাত কেন?

দুই দেশের মাঝে বিবাদমান সীমান্ত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) হিসেবে পরিচিত। নদী, হ্রদ এবং প্রবল তুষারপাতের কারণে এই সীমান্ত এলাকা একদিক থেকে অন্যদিকে স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দুই সেনাবাহিনীর দেশের সৈন্যদের উপস্থিতি রয়েছে সীমান্তের উভয় পাশেই। সীমান্তের অনেক এলাকায় মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে সৈন্যরা। লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীন হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে বলে অভিযোগ করেছে ভারত।

শুধু তাই নয়, ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৩৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা চীন দখলে নিয়েছে বলেও অভিযোগ নয়াদিল্লির। গত তিন দশকে উভয় দেশের মাঝে দফায় দফায় আলোচনা হলেও সীমান্ত বিরোধ নিয়ে কোনও সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি কেউই।

এ দুই দেশের মাঝে মাত্র একবারই যুদ্ধ হয়েছিল ১৯৬২ সালে; সেই যুদ্ধে ভারতের শোচনীয় পরাজয় ঘটে।

তবে বর্তমানে দেশ দুটির মাঝে ক্রমবর্ধমান হারে উত্তেজনা বৃদ্ধির বেশ কিছু কারণ রয়েছে। কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত দুই দেশ সীমান্ত উত্তেজনার জন্য পরস্পরকে দায়ী করছে।

ভারত লাদাখ অঞ্চলে নতুন একটি সড়ক তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অত্যন্ত প্রত্যন্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কোনও ধরনের সংঘাত তৈরি হলে ভারত এই সড়ক ব্যবহার করে দ্রুত সেখানে সৈন্য এবং সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করতে পারবে। এতে সীমান্তে ভারতের সক্ষমতা ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে। সীমান্তে ভারতের এ ধরনের পদক্ষেপ চীনকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন। সূত্র: বিবিসি।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801721978664

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড