• শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইউরোপ ইস্যুতে জার্মানি-ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি দিল তুরস্ক

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩০ জুলাই ২০২০, ১২:১৮
ইউরোপ ইস্যুতে জার্মানি-ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি দিল তুরস্ক
তুরস্কের সেনাবাহিনী (ছবি : আনাদোলু এজেন্সি)

সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যুতে ইউরোপের সঙ্গে আঙ্কারার বিরোধ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনটা চলতে থাকলে দ্রুত শত্রু পক্ষ সুবিধা পাবে বলে জার্মানি ও ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয় দেশ তুরস্ক।

বুধবার (২৯ জুলাই) তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুস ওগলু বলেছেন, ভূমধ্যসাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক অভিযান এবং এর প্রতি লিবিয়ার বিদ্রোহী নেতা খলিফা হাফতারের সমর্থন লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা।

তিনি স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অরানচা গুঞ্জালেসের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভূমধ্যসাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক অভিযান ও এর প্রতি খলিফা হাফতারের সমর্থনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এর ফলে লিবিয়ায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক উপায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে।

বাস্তবতা হচ্ছে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাস দ্বীপ থেকে লিবিয়া পর্যন্ত বিশাল অঞ্চল জুড়ে তুরস্কের তৎপরতার ফলে ইউরোপীয় সরকারগুলো খুবই অসন্তুষ্ট এবং উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

তুরস্ক সরকার এক দিকে, পূর্ব ভূমধ্যসাগর এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কর্মসূচি জোরদারের মাধ্যমে এই এলাকার নিজের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছে। অন্য দিকে লিবিয়ায় ফাইজ আল সেরাজের নেতৃত্বে ন্যাশনাল ওয়াফাক সরকারের সঙ্গে দুটি চুক্তি সই করে আঙ্কারা নজিরবিহীনভাবে লিবিয়ায় তাদের উপস্থিতি বজায় রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত প্রায় এক বছর ধরে তুরস্ক সরকারের এ ধরণের তৎপরতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশ গ্রিস ও সাইপ্রাস দ্বীপ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলো গত দুই বছর যাবত তুরস্কের কর্মকাণ্ডকে উস্কানিমূলক বলে অভিহিত করেছে। এ কারণে তুরস্কের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সমালোচনা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

আরও পড়ুন : এবার জার্মানি থেকে ১২ হাজার সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি তুরস্কের এসব পদক্ষেপের ব্যাপারে উপযুক্ত জবাব না দেয় তাহলে তারা অনেক বড় ভুল করবে।

তিনি আরও বলেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের তৎপরতা ইউরোপের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর এবং প্যারিস আঙ্কারাকে এ সুযোগ কখনোই দেবে না।

আরও পড়ুন : পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননাকারীকে আদালতেই গুলি করে হত্যা

অপর দিকে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও তুরস্ককে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আঙ্কারা যেন এ অঞ্চলে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে। ইউরোপের এসব হুমকির জবাবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের অনুসন্ধানী জাহাজের তৎপরতার ব্যাপারে কারো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন আমাদের নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক আইন মেনে এবং আমাদের নিজস্ব সমুদ্র এলাকার মধ্যে থেকেই তেল, গ্যাস অনুসন্ধান কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

আরও পড়ুন : মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা (ভিডিও)

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, লিবিয়ায় অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের বিষয়টি তদারকির অজুহাতে ইউরোপ ভূমধ্যসাগর এলাকায় সামরিক অভিযানের উদ্যোগ নিয়েছে। এ কারণে তুরস্ক ইউরোপের সমালোচনা করেছে।

এমন অবস্থায় তুরস্কের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে উত্তেজনা নয় বরং তুরস্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে আরও বেশি পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।

আরও পড়ুন : ইরানের বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভিডিও ভাইরাল

মোট কথা তুরস্ক ও ইউরোপের মধ্যকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থেকে বলা যায়, দুপক্ষেরই উচিত হুমকি ধমকি না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনে পদক্ষেপ নেওয়া।

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড