• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চীন নয়, করোনা আবিষ্কার করে মার্কিন বিজ্ঞানী! 

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২০, ১৬:২০
করোনা
ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে পরস্পরকে দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। শুরু থেকেই মার্কিন মিডিয়ার সন্দেহ, চীনে উহান শহরের জীবাণু অস্ত্র গবেষণাগার থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে বেইজিংয়ের দাবি, মার্কিন সেনারাই চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আলোচনায় চলে আসেন চার্লস লিবার নামে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিজ্ঞানী। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় তথ্য গোপনের অভিযোগে।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যায়, চীনের পক্ষ হয়ে উহানে করোনাভাইরাস তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন চার্লস লিবার। এমনকি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগারে করোনাভাইরাস তৈরি করে চীনের কাছে বিক্রি করেছেন এমনটিও পাওয়া যায়। যার কারণে এফবিআই তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপে এই দাবি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এতে মার্কিন নিউজ চ্যানেল ‘ডাব্লুসিভিবি’র একটি ভিডিও ক্লিপও ব্যবহার করা হয়। 

গত বছরের শেষের দিকে চীনে ভয়াবহ আকারে ছড়াতে শুরু করে করোনাভাইরাস। এর মধ্যে জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ড. চার্লস লিবারকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো তার গ্রেপ্তারের সংবাদ প্রকাশ করে।

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর ফ্যাক্ট চেকে দেখা গেছে, হার্ভার্ডের কেমিস্ট্রি অ্যান্ড ক্যামিক্যাল বায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. লিবারকে গ্রেপ্তারের সঙ্গে করোনাভাইরাস ছড়ানোর কোনো সংযোগ নেই।

ড. লিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, একাধিক চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সম্পর্কের তথ্য তিনি গোপন করেছিলেন। তবে তার গ্রেপ্তারের সঙ্গে করোনাভাইরাস বিক্রির যে সম্পর্ক নিয়ে তথ্য ছড়িয়েছে তা বিভ্রান্তিমূলক হয়ে থাকতে পারে।

বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্টে জানায়, তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোও অসত্য প্রমাণিত হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে চীনা তহবিল গোপন করার অভিযোগ রয়েছে। গুপ্তচরবৃত্তির জন্য বা চীনে সংবেদনশীল তথ্য প্রেরণের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক ফ্যাক্ট চেকেও এমন তথ্য উঠে আসে। দাবি করা হয়, ড. লিবারের গ্রেপ্তারের সঙ্গে করোনাভাইরাস উৎপাদন করে বিক্রি করার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক নেই।

ড. লিবারকে গ্রেপ্তারের পর মার্কিন আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগনামায় বলা হয়, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘লিবার রিসার্চ গ্রুপে’ গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউট ও প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে দেড় কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি অনুদান পাওয়া অধ্যাপক লিবার ২০১১ সালে চীনের উহান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন। হার্ভার্ডকে না জানিয়ে উহানের ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি প্রতি মাসে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার করে নিতেন।

উহান বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি খরচ করে অধ্যাপক লিবারের তত্ত্বাবধানে একটি গবেষণাগারও খোলা করা হয়।

এ ছাড়া ‘থাউজেন্ড ট্যালেন্ট প্ল্যানে’ জড়িত ছিলেন অধ্যাপক লিবার। বিদেশি মেধাবীদের গবেষণার সুযোগ দিতে আয়োজন করা এই প্রতিযোগিতা নিয়েও আপত্তি রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।

মার্কিন আদালতে অভিযোগনামাতেও এই বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে করোনাভাইরাস তৈরি নিয়েও কোনো কিছু দাবি করা হয়নি।

এদিকে নেচার মেডিসিন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, কোনো গবেষণাগার থেকে এই করোনাভাইরাস তৈরি হয়নি।

নভেল করোনা ভাইরাস সার্স-কো ভি-২ বা কোভিড-১৯ ও তার সম্পর্কিত ভাইরাসগুলির জিনের গঠন সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আমেরিকার স্ক্রিপস রিসার্চ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা।

ভাইরাসটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে বলে গবেষণায় কোনো প্রমাণ মেলেনি। গবেষণাপত্রটির অন্যতম লেখক স্ক্রিপস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান অ্যান্ডারসেন বলেন, 'পরিচিত করোনা ভাইরাসের স্ট্রেইনগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, সার্স-কভি-২ বা কভিড-১৯ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে।'

ওডি/

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড