• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনা সংক্রমিত সব দেশই কেন মাস্ক ব্যবহার করছে না?  

  বিশেষ প্রতিবেদক

২৬ মার্চ ২০২০, ১৭:২৪
মাস্ক
কিছু দেশে লোকে মাস্ক পরছে আর কিছু দেশে পরছে না (ছবি : সংগৃহীত)

করোনায় আক্রান্ত হবার পর পুরো বিশ্ব এখন সতর্ক। এ সময় আপনি যদি হংকং, সোল কিংবা টোকিওর রাস্তায় মুখে মাস্ক না পরে বাইরে বের হন, তাহলে লোকজন আপনার দিকে বাঁকা চোখে তাকাতে পারে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই এটা হয়ে আসছে - এমনকি মাস্ক না পরা একজন ব্যক্তিকে অনেকেই সামাজিকভাবে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

কিন্তু এমন পরিস্থিতি সবখানে হচ্ছে না। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সিডনি কিংবা সিঙ্গাপুরে আপনি চাইলেই মাস্ক না পরে খোলামুখে কোন সংকোচ ছাড়া ঘুরে বেড়াতে পারেন। এখন যখন করোনাভাইরাস একটা ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে, তখন মাস্ক নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কি বদলাচ্ছে? ব্যাপারটা যে সরকারি আদেশ কিংবা উপদেশ থেকে এসেছে তা নয়, এটা সম্পূর্ণ সংস্কৃতির ব্যাপার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী বলছে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যখন থেকে শুরু হয় তখন থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে যে শুধু মাত্র দুই ধরণের মানুষের জন্য মাস্ক পরা আবশ্যক। এক, যারা অসুস্থ এবং যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে। দুই, যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের দেখাশোনা করছেন।

এর বাইরে কারো জন্য মাস্ক পরার খুব বেশী প্রয়োজনীয় নয় বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

তবে মাস্ক পরার চেয়ে হাত ধোয়া বেশি কার্যকরী বলছেন বিশেষজ্ঞরা। মাস্ক সুরক্ষা দেয় এমন একটা ধারণা মানুষের মধ্যে থাকলেও ব্যাপারটা ততটা সরল নয় বলে মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। প্রথমত, কোভিড-১৯ রোগের ভাইরাসটি ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়। দ্বিতীয়ত, এটা বাতাসে ভাসে না। মাস্ক সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটা মিথ্যা বিশ্বাসও তৈরি করে।

তবুও এশিয়ার একটা বড় অংশ মাস্ককে এক রকম শরীরের অংশ করে নিয়েছে। মনে করা হচ্ছে মাস্ক ব্যবহার করাটাই একটা নিয়ম।

চীনের মূল ভূখন্ডে, হংকং, জাপান, থাইল্যান্ড এবং তাইওয়ানে একটা ধারণা আছে যেকেউ এই ভাইরাস বহন করতে পারে। এমনকি যিনি সুস্থ, তিনিও। তাই মাস্ক পরাটা সবার দায়িত্ব - এতে করে আপনি ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে একাত্মতা পোষণ করছেন।

কোনো কোনো দেশের সরকার তার মানুষকে মাস্ক পরতে বলছে। এমনকি চীনের কোথাও কোথাও মাস্ক না পরলে আপনি গ্রেফতারও হতে পারেন। ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপিন্সে অনেকের মধ্যেই এই সন্দেহ দানা বেঁধেছে যে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত যথেষ্ট সংখ্যক মানুষকে পরীক্ষা করা হয়নি, অর্থাৎ তারা আক্রান্ত মানুষের সঠিক সংখ্যাটি জানেন না। এজন্য অন্যদের থেকে বাঁচতে এসব দেশের অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করেন।

আবার হংকং এমন একটি দেশ যেখানে মাস্কের ব্যবহার তাদের সংস্কৃতিরই অংশ। করোনাভাইরাস সংক্রমণের বহু আগে থেকে তারা এটা ব্যবহার করে আসছে এবং এটা তাদের ফ্যাশনের অংশ।

হংকংয়ের রাস্তার পাশের দোকানে আপনি দেখতে পাবেন 'হ্যালো কিটি' মাস্ক। পূর্ব এশিয়ার অনেক মানুষ আগে থেকেই অসুস্থ হলে মাস্ক পরতেন। সেখানে উন্মুক্ত স্থানে কফ ফেলা বা হাচি দেয়াকে এক ধরণের অভদ্রতা মনে করা হয়।

২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন এই জীবাণু যেসব দেশে আঘাত হানে তার অন্যতম হলো হংকং। ওই অঞ্চলে তখন থেকেই মাস্ক পরাটা সংস্কৃতির একটা অংশ হয়ে গেছে। তখন হংকংয়ে বহু মানুষ মারা গিয়েছিল।

হংকং-য়ে বিভিন্ন ডিজাইনের মাস্ক পাবেন আপনি।  এক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তাদের একটা বড় পার্থক্য হলো, এই অঞ্চলের মানুষ সংক্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তাদের স্মৃতি এখনো তাজা।

তারা এই কষ্ট অনুভব করেছেন বলেই বাড়তি সতর্ক থাকেন। মানুষের ঘনবসতি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি, ফলে অনেকে কেবল দূষণ থেকে বাঁচতেই মাস্ক পরে ঘুরে বেড়ান। কিন্তু এশিয়ার সব জায়গায় যে মাস্ক পরতে দেখা যায়, ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়।

সিঙ্গাপুরে এখন সরকারের পক্ষ থেকে বলে দেয়া হয়েছে সবাইকে মাস্ক না পরতে, যাতে করে স্বাস্থ্যকর্মীরা যথেষ্ট পরিমাণে মাস্ক পান। সিঙ্গাপুরে জনগণ সরকারের ওপর ভরসা করে এবং উপদেশ মেনে চলে।

ওডি 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড