• রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

যে কারণে ইরান ইস্যুতে দুর্বল যুক্তরাষ্ট্র!

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২২ মার্চ ২০২০, ১৭:৪৭
যে কারণে ইরান ইস্যুতে দুর্বল যুক্তরাষ্ট্র!
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র (ছবি : প্রতীকী)

মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ কয়েক দশকের। সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। দুদেশের মধ্যকার সম্পর্কে বিরাজ করছে যুদ্ধাবস্থা। তাই গোটা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের দিকে।

সামরিক দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিঃসন্দেহে বিশ্বের যে কোনো রাষ্ট্রের জন্য আতঙ্ক। এ কারণে বাগদাদে জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেওয়ার সাহস পেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যদিও ট্রাম্পের সেই হুমকিতে নতি স্বীকার করেনি ইরান। উল্টো সোলাইমানি হত্যার কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এই দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও সামরিক কর্মকর্তারা। 

মাত্র পাঁচ দশক আগেও সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর তালিকায় উচ্চারিত হতো না ইরানের নাম। অথচ সেই ইরানই এখন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশকে পাল্টা হুমকি দেয়। কেবল হুমকি দিচ্ছে বললে ভুল হবে, ইতোমধ্যে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার কয়েকটি বড় প্রমাণও দেখিয়েছে তেহরান।

গত ৩ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ইরাকের বাগদাদে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করেছিল মার্কিন সেনারা। মূলত সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে গত ৮ জানুয়ারি ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আইন আল-আসাদে টানা দুই ঘণ্টা ধরে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। তখন ইরানি সেনাদের সেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

সে দিকে ইঙ্গিত করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে বলা হয়, বিভিন্ন মাত্রার অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্রই ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে পারস্য উপসাগরে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে মুহূর্তেই বিধ্বস্ত করে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির।

২০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এমন বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ইরানের সংগ্রহে। দূরপাল্লার এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মাধ্যমে খুব সহজেই পারস্য উপসাগরে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো সম্ভব।

ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাদের মতে, স্বল্প, মাঝারি ও দূরপাল্লার হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ইরানের। এর মধ্যে শাহাব-১, ২ ও ৩ ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বনিম্ন পাল্লা ২০০০ কিলোমিটার।

এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আনা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- খলিজ ফার্স ক্ষেপণাস্ত্র, শাহাব ক্ষেপণাস্ত্র, ফাতেহ-১১০, কদর-১১০ ও সেজিল। 

ইরানের দাবি, খলিজ ফার্স ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির। তিন হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি। এটির গড় ওজন ৬৫০ কিলোগ্রাম। 

ইরানের কাছে মোট ৬টি শাহাব ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এগুলো তৈরি করা হয়েছে রাশিয়ার ‘এস এস-১’ ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে। এর মধ্যে শাহাব-৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি তিন হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শত্রুদের ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি ইরানের। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের মতে, ইরানের কাছে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে শাহাব-৫ ক্ষেপণাস্ত্রটিই সবচেয়ে শক্তিশালী।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে ফাতেহ-১১০ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্র থেকে ভূপৃষ্ঠ এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে সমুদ্রে এটি অনায়াসেই ব্যবহার করা যায়। 

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে শত্রুদের জন্য অন্যতম হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয় কদর-১১০। ইরানের দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এ ক্ষেপণাস্ত্রটি শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে অনায়াসে আঘাত হানতে পারে। শত্রুদের রাডার অনেক ক্ষেত্রে এটিকে ধরতে সক্ষম হবে না বলে দাবি ইরানের।

আরও পড়ুন : মহাবিপদের সামনে ভারত, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

তাছাড়া ইরান সম্প্রতি আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্রের কথা জানিয়েছে। এটির নাম সেজিল। নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য ৫৯ মিটার। ইরানে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র আছে সেগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। নতুন এই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রটির ১ হাজার ২৫০ মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা রয়েছে।

সূত্র : দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট, জেরুজালেম পোস্ট, দ্য হিল, মিডল ইস্ট মনিটর ও পার্স টুডে

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড