• শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

যেসব ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ইরানকে ভয় পায় যুক্তরাষ্ট্র 

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:১১
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র (ছবি : মিডল ইস্ট মনিটর)

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধ কয়েক দশকের। সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ চরম রূপ ধারণ করেছে। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে বিরাজ করছে যুদ্ধাবস্থা। সারা বিশ্বের মানুষের দৃষ্টিই এখন দেশ দুটির দিকে।

সামরিক দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিঃসন্দেহে বিশ্বের যে কোনো দেশের জন্যই আতঙ্ক। এ কারণেই ইরাকের বাগদাদে জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার সাহস পেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে ট্রাম্পের সেই হুমকিতে নতি স্বীকার করেনি ইরান। উল্টো সোলাইমানি হত্যার কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও সামরিক কর্মকর্তারা। 

মাত্র পাঁচ দশক আগেও সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর তালিকায় উচ্চারিত হতো না ইরানের নাম। অথচ সেই ইরানই এখন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশকে পাল্টা হুমকি দিচ্ছে। শুধু হুমকি দিচ্ছে বললে ভুল হবে, ইতোমধ্যে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণও দিয়েছে ইরান।

গত ৩ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরাকের বাগদাদে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে মার্কিন সেনারা। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে গত ৮ জানুয়ারি ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আইন আল-আসাদে টানা দুই ঘণ্টা ধরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। আর ইরানি সেনাদের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

সে দিকে ইঙ্গিত করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্টে গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মাত্রার অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্রই ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় পারস্য উপসাগরে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে মুহুর্তেই বিধ্বস্ত করে দেওয়ার সামর্থ্য আছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির।

২০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এমন বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ইরানের সংগ্রহে। দূরপাল্লার এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মাধ্যমে খুব সহজেই পারস্য উপসাগরে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো সম্ভব।

ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, স্বল্প, মাঝারি ও দূরপাল্লার হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ইরানের। এর মধ্যে শাহাব-১, ২ ও ৩ ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বনিম্ন পাল্লা ২০০০ কিলোমিটার।

এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আনা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- খলিজ ফার্স ক্ষেপণাস্ত্র, শাহাব ক্ষেপণাস্ত্র, ফাতেহ-১১০, কদর-১১০ ও সেজিল। 

ইরানের দাবি, খলিজ ফার্স ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির। তিন হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি। এটির গড় ওজন ৬৫০ কিলোগ্রাম। 

ইরানের কাছে মোট ৬টি শাহাব ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এগুলো তৈরি করা হয়েছে রাশিয়ার ‘এস এস-১’ ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে। এর মধ্যে শাহাব-৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি তিন হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শত্রুদের ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি ইরানের। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের মতে, ইরানের কাছে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে শাহাব-৫ ক্ষেপণাস্ত্রটিই সবচেয়ে শক্তিশালী।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে ফাতেহ-১১০ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্র থেকে ভূপৃষ্ঠ এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে সমুদ্রে এটি অনায়াসেই ব্যবহার করা যায়। 

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে শুত্রুদের জন্য অন্যতম হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয় কদর-১১০। ইরানের দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এ ক্ষেপনাস্ত্রটি শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে অনায়াসে আঘাত হানতে পারে। শত্রুদের রাডার অনেক ক্ষেত্রে এটিকে ধরতে সক্ষম হবে না বলে দাবি ইরানের।

আরও পড়ুন : শত্রুরা ইরান-ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে : রুহানি 

এছাড়া ইরান সম্প্রতি আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্রের কথা জানিয়েছে। এটির নাম সেজিল। নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য ৫৯ মিটার। ইরানে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র আছে সেগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। নতুন এই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রটির ১ হাজার ২৫০ মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা রয়েছে।

সূত্র- দ্য হিল, দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট, জেরুজালেম পোস্ট, মিডল ইস্ট মনিটর ও পার্সটুডে। 

ওডি/এসসা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড