• শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বোরকা বিতর্ক

তসলিমাকে খাতিজার দাঁত ভাঙা জবাব

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:৪২
খাতিজা তসলিমা
খাতিজা রহমান ও তসলিমা নাসরিন (ছবি : সংগৃহীত)

উপমহাদেশের বরেণ্য সুরকার, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী এ আর রহমানের কন্যা খাতিজা রহমান এবং বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ চলছে।

গত সপ্তাহে নতুন করে খাতিজা রহমানের বোরকা পরা নিয়ে বাকযুদ্ধ শুরু করেছেন তসলিমা নাসরিন। কিন্তু এবার আর চুপ থাকেননি খাতিজা। তিনি শক্ত ভাষায় ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের আক্রমণের জবাব দিয়েছেন।

খাতিজার বোরকা এবং নেকাব পড়া ছবি টুইটারে পোস্ট করে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, এ আর রহমানের সংগীত আমি খুবই পছন্দ করি। কিন্তু আমি যখনই তার মেয়েকে দেখি, তখন আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও লিখেছেন, একটি সংস্কৃতিবান পরিবারের শিক্ষিত নারী হয়েও যে এভাবে মগজ ধোলাইয়ের শিকার হতে পারে, এটা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। 

তসলিমার করা এই টুইটে ভীষণ চটেছেন এবং চরম বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন খাতিজা রহমান। পরে তিনি ইনস্টাগ্রামে বেশ কয়েকটি পোস্টে শক্ত ভাষায় তসলিমার আক্রমণের জবাব দিয়েছেন। এক পোস্টে খাতিজা লিখেছেন, তসলিমা নাসরিনের যদি এতই দম বন্ধ লাগে, তাহলে উনার উচিত বাইরে গিয়ে তাজা বাতাসে শ্বাস নেওয়া।

অবশ্য খাতিজার বোরকা পড়া নিয়ে ভারতে এটাই প্রথম বিতর্ক নয়। গত বছরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাতিজা রহমানের বোরকা পড়া নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। যদিও গত বছর এ নিয়ে মুখ খোলেননি খাতিজা। এবার তিনি নীরবতা ভেঙে তসলিমার ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দিয়েছেন।

আগুনের শিখার একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন খাতিজা রহমান, ওই ছবির নিচে কারসন কোলহফ বলে একজনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি লিখেছেন, আমার নীরবতাকে অজ্ঞতা বলে ভুল করো না, আমার নিস্তব্ধতাকে ধরে নিও না সম্মতি কিংবা আমার উদারতাকে দুর্বলতা বলে। এরপর তিনি লিখেছেন, যাদের দম বন্ধ হয়ে আসছে বলে মনে হচ্ছে, তারা বাইরে গিয়ে তাজা বাতাসে শ্বাস নিন।

আরও পড়ুন : সীমান্ত হত্যা বন্ধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

পরে তসলিমার টুইটের স্ক্রিনশটসহ আরেকটি পোস্ট দেন এ আর রহমান কন্যা খাতিজা। সেখানে তিনি লিখেছেন, বছরও পার হলো না, এর মধ্যে আবারও একই বিষয় নিয়ে কথা চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেশে এখন কত কী ঘটছে। অথচ মানুষের সব চিন্তা যেন এক টুকরো কাপড় নিয়ে যা একজন নারী পরতে চায়। এতে আসলেই আমি চমকে যাচ্ছি।

প্রতিবাদী খাতিজা রহমান আরও লিখেছেন, এই বিষয়টি নিয়ে যত বার কথা হয়, তত বার আমার মনের ভেতর আগুন জ্বলতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে অনেক কিছু বলতে ইচ্ছা করে আমার। বিগত এক বছরে আমি অন্য এক আমাকে আবিষ্কার করেছি, আমি যাকে আগে কখনো দেখিনি। আমি এতে মোটেই দুর্বল হব না বা আমি যে জীবন বেছে নিয়েছি, তা নিয়ে আমার কোনো অনুতাপ নেই। আমি যা করছি তা নিয়ে আমি সুখী এবং গর্বিত। আমাকে যারা এভাবে মেনে নিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ।

আরেকটি পোস্টে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে সরাসরি আক্রমণ করে খাতিজা লিখেছেন, প্রিয় তসলিমা নাসরিন, আমার পোশাক দেখে যে তোমার দম বন্ধ হয়ে আসে, সেজন্যে আমি দুঃখিত। আমার কিন্তু দম বন্ধ হয় না বরং আমি যা বিশ্বাস করি তার জন্য আমি গর্বিত এবং নিজেকে আমার আরও বলীয়ান মনে হয়। আমার পরামর্শ হচ্ছে, সত্যিকারের নারীবাদ কী জিনিস তা দয়া করে গুগলে সার্চ করে দেখ। নারীবাদ মানে অন্য নারীকে আক্রমণ করা নয়, তাদের বাবাকে বিতর্কে টেনে আনা নয়।

অনুমতি ছাড়া তার ছবি পোস্ট করায় তসলিমা নাসরিনকে খোঁচা মেরে তিনি লিখেছেন, আমার ছবি তোমার কাছে কখনো পাঠিয়েছিলাম বলে আমার তো মনে পড়ছে না।

খাতিজা রহমানের এসব কথার পর তসলিমা নাসরিনও চুপচাপ বসে নেই। তিনি একের পর এক টুইট করে পাল্টা আক্রমণ করেই চলেছেন। তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, প্রিয় খাতিজা, যদি গুগল করো, তাহলে জানতে পারবে গত চার দশক ধরে নারীদের সমান অধিকারের জন্য আমার লড়াই। আরেকটি টুইটে তিনি লিখেছেন, যদি ইসলাম অনুসরণ করতে চাও, তাহলে পুরোপুরি করো। ইসলামে সংগীত, গান গাওয়া, নাচ এগুলো নিষিদ্ধ। ইসলামে মানুষের ছবি পর্যন্ত আঁকা নিষিদ্ধ। ছবি আঁকা, ছবি তোলা বন্ধ করে দাও, এটা একদম সহজ।

এরপর আরেক টুইটে তসলিমা লিখিছেন, বোরকা নিষিদ্ধ করো, মেয়েদের শ্বাস নিতে দাও।

ওডি/টিএএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড