• শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিজেপির বেহাল দশা, দেড় বছরে ৬ রাজ্যে ভরাডুবি

  এস এম সায়েম

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:৩০
মোদী ও অমিত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (ছবি : এনডিটিভি)

নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) চরম দুঃসময় যাচ্ছে। ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি), নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধনের (এনপিআর) মতো বেশ কয়েকটি বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিজেপি সরকার। এ কারণে সরকারের প্রতি মানুষের মনে জন্ম নিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। আর সেই ক্ষোভের জবাব যেন ভোটের মাঠেই দিচ্ছে জনগণ।

গত দেড় বছরে ছয়টি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। রাজ্যগুলো হলো- মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা ও দিল্লি।

মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড ও তেলেঙ্গানার বিধানসভা নির্বাচনে হারের গ্লানি দিল্লিতে বিজয় পাওয়ার মাধ্যমেই কাটাতে চেয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর দল। এজন্য চেষ্টার কোনো কমতি রাখেনি বিজেপি। এমনকি প্রচারণার মাঠে নেমেছিলেন ৭০ জন মন্ত্রী। তবে তাদের এই প্রচারণা কোনো কাজে আসেনি।

গত শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন হয় ভোটগ্রহণ। তবে এই নির্বাচনের ফলাফল দেখে ভাঁজ পড়ে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের কপালে। কেননা মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড ও তেলেঙ্গানার মতো দিল্লিতেও যে বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে।

চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির কাছে লজ্জাজনক ব্যবধানে ধরাশায়ী হয়েছে মোদী-অমিতের বিজেপি। দিল্লিতে মোট আসন আছে ৭০টি। এর মধ্য ৬৩টিতেই জয় পেয়েছে আম আদমি পার্টি। অন্যদিকে বিজেপি জয় পেয়েছে মাত্র ৭টি আসনে।

ক্ষমতাসীন বিজেপিকে ভারতের জনগণ কেন প্রত্যাখ্যান করছে তা নিয়ে ওঠেছে নানা প্রশ্ন। বিজেপি নেতারাও ভাবছেন তা নিয়ে। ইতোমধ্যে অবশ্য বিজেপির পরাজিত হওয়ার কয়েকটি কারণও সামনে এসেছে।

বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রক্ষ্মণ্যম স্বামীর মতে, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দলের কাঠামো খতিয়ে দেখা উচিত। তার অভিযোগ, বহু রাজ্যে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। নির্বাচনে ভরাডুবি সেটারই ফল।

দিল্লির বিজেপি প্রার্থী কপিল মিশ্রের মন্তব্যও একই। তিনি মনে করেন, বিজেপি নেতারা তাদের পদক্ষেপগুলো জনগণের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেননি। এ কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোকসভা, বিধানসভা কিংবা পৌরসভা যে নির্বাচনই হোক না কেন, বিজেপির সবচেয়ে বড় ভরসা মোদী-অমিত জুটি। মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বত্রই বিজেপি নেতারা তাদের নাম ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন। নির্বাচনি প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছুটে যান। কিন্তু রাজ্যের নেতৃত্ব যাদের কাঁধে তারা প্রচারণায় সক্রিয় নন। এর ফলে রাজ্যে কোনো নেতাই তৈরি হচ্ছে না। আবার পুরনো নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জড়ো হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনে লড়ার জন্য প্রার্থীতা দেওয়ার সময় এসব বিষয় বিবেচনায় নিচ্ছে না বিজেপি। ফলে সাধারণ মানুষের সমর্থন হারাচ্ছে দলটি।

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি নেতারা নির্বাচনি প্রচারণায় বারবার পাকিস্তান বিরোধিতা ও ধর্মীয় ভেদাভেদের কথা বলেন। কয়েকজন বিজেপি নেতা হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠার কথা বলে হিন্দু ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু রাজ্যে যেসব সমস্যা বিরাজমান সেগুলো সমাধানের ব্যাপারে তারা একটি শব্দও উচ্চারণ করেন না। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জনমত গঠনের ক্ষেত্রে। এ কারণেই বিধানসভা নির্বাচনে বারবার বিজেপির ভরাডুবি হচ্ছে।

এ দিকে দিল্লির নির্বাচনে হারের পর বিজেপি নেতাদের মধ্যে অনৈক্য তৈরি হয়েছে। কয়েকজন সিনিয়র নেতা এমন ভরাডুবির জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করেছেন। তার কিছু ভুল পদক্ষেপের কারণেই দল হেরেছে বলে দাবি এসব নেতার।

আরও পড়ুন : ইরানের পরমাণু কার্যক্রমে আপত্তি নেই জাতিসংঘের

অপরদিকে আরেক দল বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা কেউ কারও মুখ পর্যন্ত দেখতে চান না। তাই দিল্লির নির্বাচনে তারা কাজ করেননি। এটাই দলের হারের অন্যতম প্রধান কারণ।

ওডি/এসসা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড