• সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইরান-ইসরায়েলের তিক্ত সম্পর্কে ‘মধু’ রাশিয়া

  দায়িদ হাসান মিলন

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:২২
ইরান-ইসরায়েল-রাশিয়া
হাসান রুহানি, ভ্লাদিমির পুতিন ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, (ছবি : সংগৃহীত)

দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও ইসরায়েল পরস্পর মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত একে-অপরের ওপর হামলা চালানোর হুমকিও দিয়ে আসছে তারা। দেশ দুটির ‘দা-কুমড়ো’ সম্পর্কের মধ্যে উভয়ের সঙ্গেই ‘দারুণ’ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশ রাশিয়া।

নিজেদের স্বার্থ অটুট রেখে মস্কো যেভাবে তেহরান ও তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিচ্ছে তাতে বিস্মিত অনেকে। মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে কৌতূহলীরা জানতে চান, পরস্পরবিরোধী দুই দেশ ইরান ও ইসরায়েল থেকে আসা চাপ কীভাবে সামাল দিচ্ছে রাশিয়া? আর কীভাবেই বা এই জটিল সম্পর্ক এগিয়ে নিচ্ছে মস্কো?

ইহুদি গণহত্যার স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কিছুদিন আগে ইসরায়েল সফর করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত ২৩ জানুয়ারির ওই সফর ছিল প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পুতিনের তৃতীয় ইসরায়েল সফর। এর আগে তিনি ২০০৫ ও ২০১২ সালে ইসরায়েল সফর করেন।

সর্বশেষ ইসরায়েল সফরে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রাশিয়ার অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও ছিলেন। এ সময় তাদের গুরুত্বের সঙ্গে স্বাগত জানায় তেল আবিব কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, নাৎসি শাসন থেকে ইউরোপের মুক্তি ইস্যুতে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর বিবাদের ক্ষেত্রেও রাশিয়ার পক্ষ নিয়েছে ইসরায়েল। এটি পুতিনের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়।

রুশ প্রেসিডেন্টের তেল আবিব সফরের এক সপ্তাহ পর (৩০ জানুয়ারি) মস্কো সফরে যান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গত এক বছরে রাশিয়ায় নেতানিয়াহুর এটি চতুর্থ সফর ছিল। এর আগে গত এপ্রিল ও সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের আগেও তিনি মস্কো সফর করেন। ওই দুটি সফরের উদ্দেশ্য ছিল- নির্বাচনে নিজের জয়ের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তোলা।

সর্বশেষ সফরেও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে হতাশ করেননি ভ্লাদিমির পুতিন। ২০১৯ সালে রাশিয়ায় মাদক চোরাচালানের অভিযোগে আটক ইসরায়েলি নাগরিক নামা ইসাচারকে মুক্তির ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তার আগে রুশ এক হ্যাকারকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করে ইসরায়েল। এরপরও ইসরায়েলি নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। এটিকে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বড় একটি কূটনৈতিক বিষয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া চাচ্ছে, যে করেই হোক ইসরায়েলে যেন আবারও ক্ষমতায় আসেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। কারণ, তার আমলেই মস্কো-তেল আবিব সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো অবস্থায় পৌঁছেছে, যেটা ১৯৯০ এর দশক থেকে চেয়ে আসছে রাশিয়া। মূলত নেতানিয়াহুর জয়ের পথ মসৃণ করতে তার জনপ্রিয়তা বাড়াতেই নামা ইসাচারকে কোনো শর্ত ছাড়াই মুক্তির ঘোষণা দেন পুতিন।

রাশিয়ার প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হয় ইসরায়েল। সে রকম একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা বিভিন্ন কারণে রাশিয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ইউক্রেন যুদ্ধ ও ক্রিমিয়াকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করায় রাশিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করতে চেয়েছিল পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ। এক্ষেত্রে বাধা দিয়েছে ইসরায়েল এবং রাশিয়ার হয়ে বিভিন্নভাবে কাজ করেছে তারা। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যেও মস্কোর কিছু স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে তেল আবিব।

দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েলের একটি বড় প্রভাব আছে। যুক্তরাষ্ট্রের খুব ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এই প্রভাবের মাত্রা অনেক বেশি। ফলে ইসরায়েলকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও সিরিয়ায় নিজেদের একটি অবস্থান গড়ে তুলতে চাচ্ছে রাশিয়া। এরই মধ্যে এই পরিকল্পনায় অনেকটাই সফল মস্কো।

তৃতীয়ত, রাশিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৯ সালে দেশ দুটির মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারে পৌঁছায়। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে রাশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে জায়গা করে নেয় ইসরায়েল।

এখানে সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো- মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর অঞ্চলটিতে সর্বোচ্চ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আর তখনই রাশিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যকার এসব সফর হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার কৌশলগত বন্ধু ইরানের মধ্যে কিছুটা হলেও উদ্বেগ দেখা দেয়।

অবশ্য সোলাইমানি হত্যার ঘটনায় মস্কো যে নীরব থেকেছে তা নয়। বরং সোলাইমানি হত্যার নিন্দা জানিয়েছে তারা। আনুষ্ঠানিকভাবে সোলাইমানি হত্যার নিন্দা জানানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালনের প্রস্তাবও দেয় তারা। সবমিলিয়ে সোলাইমানি হত্যা ইস্যুতে নিন্দা জানালেও পুরো ঘটনায় তুলনামূলক দূরত্ব বজায় রাখতে চেয়েছে রাশিয়া। এতে অনেকে খুবই বিস্মিত হয়েছেন। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক এত ভালো থাকার পরও মস্কোর দূরত্ব বজায় রাখাটিই মূলত বিস্ময়ের কারণ।

কিছু রুশ বিশ্লেষক বলছেন, সোলাইমানি হত্যা ইস্যুতে রাশিয়া যা করেছে তা নিজেদের স্বার্থের জন্যই করেছে। কিন্তু বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে সেরকম নয়। সোলাইমানি হত্যার পর তেলের দাম বাড়ায় খুব বেশি উপকৃত হয়নি রাশিয়া। এমনকি সিরিয়ায় ক্ষমতার শূন্যতা সৃষ্টি হলেও তেমন একটা লাভ হয়নি তাদের। সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর তেলের দাম বাড়ায় মস্কোর যে লাভ হয় সেটিও ভারসাম্যে এসেছে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে তেলের দাম কমে যাওয়ায়।

কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর সিরিয়ার মাটিতে রাশিয়া যে খুব একটা ভালো সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে তা নয়। ইরানের বৈদেশিক বিভিন্ন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সোলাইমানি ছিলেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি নিহত হওয়ার পর পরই কুদস ফোর্সের দায়িত্বে আসা নতুন প্রধান সব কাজই বুঝে নিয়েছেন এবং সোলাইমানি যেখানে রেখে গিয়েছিলেন সেখান থেকেই যাত্রা শুরু করেছেন তিনি।

কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর রাশিয়ার ধারণা ছিল, ইরাক ও পারস্য উপসাগর এলাকায় ইরান নিজেরাই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘প্রতিশোধ’ নিতে পারবে। তখন ইরান যে রকম ক্ষুব্ধ ছিল, ওই অবস্থায় রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থন পেলে ‘লাগামছাড়া’ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল তেহরানের। এমনকি ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও ভয়ংকর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিল তাদের, যা রাশিয়ার স্বার্থবিরোধী।

গত কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে রাশিয়া। ২০১৫ সালের ভেতরেই মস্কো সবাইকে বুঝাতে পেরেছে যে- তেহরান ও তেল আবিবের মধ্য থেকে কারও পক্ষই নেবে না রাশিয়া। বরং তারা উভয়ের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে চায়।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার এই নীতি মাঝেমধ্যেই হুমকিতে পড়ে। কারণ, সিরিয়ায় নিয়মিত সরাসরি সংঘর্ষে জড়ায় ইরান-ইসরায়েল। ২০১৮ সালে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি অনানুষ্ঠানিক চুক্তি করতে সক্ষম হয় রাশিয়া। ওই চুক্তিটা ছিল এরকম- ইরান ও ইরান সমর্থিত যোদ্ধারা সিরিয়া-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে দূরে থাকবে, বিনিময়ে ইরানিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা বন্ধ করবে ইসরায়েল।

এরপর থেকে অসংখ্যবার উভয় পক্ষই তাদের চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তবে উত্তেজনা হ্রাসের জন্য ইরান ও ইসরায়েলের ওপর সমানভাবে চাপ দিয়ে আসছে রাশিয়া। রুশ কর্তৃপক্ষ ইরানের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, উত্তেজনা হ্রাসের উদ্যোগ না নিলে ইরান ও ইরান সমর্থিত সংগঠনগুলোকে আকাশ সহায়তা দেবে না মস্কো। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, সিরিয়ায় ইরানিদের ওপর হামলা চালানো বন্ধ না করলে দামেস্কে আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করবে রাশিয়া। এতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান বড় ধরনের হুমকিতে পড়বে।

ইরান-ইসরায়েলকে ঘিরে রাশিয়ার এই নীতি যেমন মস্কোর স্বার্থ হাসিল করছে তেমনি অঞ্চলটিতে বেড়েছে তাদের মর্যাদাও। অনেকে মনে করনে, রাশিয়ার কৌশলী নীতির কারণে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে পারছে না ইরান-ইসরায়েল। অবশ্য বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের ওপর যে কোনো ইরানি হামলার কারণে পুরো চিত্রটাই পাল্টে যেতে পারে, ব্যর্থ হতে পারে রাশিয়ার নীতি।

ইরান সবসময় বলে আসছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো পদক্ষেপের প্রতিশোধ নেওয়া হবে মার্কিন মিত্রদের ওপর। অর্থাৎ, ইসরায়েল ও সৌদি আরবের ওপর হামলা চালিয়েই মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে ইরান। এমনকি সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের অন্যতম বড় শহর হাইফাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দিয়েছিল ইরান।

আরও পড়ুন : পৃথিবী থেকে ইসরায়েলের নাম মুছে দেওয়ার হুমকি ইরানের

ইরানের ক্রমবর্ধমান শক্তি থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে মুক্ত রাখতে তুলনামূলক কম আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইসরায়েলের ক্ষেত্রে সেটি ব্যতিক্রম হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কাছের বন্ধুর ওপর কেউ হামলা চালালে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হবে মার্কিন প্রশাসন। ফলে এর জবাবও দেবে তারা। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় একটি যুদ্ধ শুরু হবে। মধ্যপ্রাচ্যে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক সেটি কিছুতেই চায় না রাশিয়া। কারণ, যুদ্ধ শুরু হলে নিশ্চিতভাবেই ইরান ও ইসরায়েল থেকে যে কোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে হবে তাদের। এছাড়া শেষ পর্যন্ত সেই যুদ্ধ থেকে ফলাফল কী আসে তা বলা কঠিন।

তেহরানে এখন যে শাসন চলছে সেটিরও পতন চায় না রাশিয়া। বিশেষ করে মার্কিন কোনো পদক্ষেপে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার যেন পরিবর্তন না হয় সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে মস্কো। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করে রুশ প্রশাসন। মার্কিনবিরোধী হওয়ায় রাশিয়ার কাছে ইরানের গুরুত্ব অন্যরকম। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এমন সব পদক্ষেপ নিতে পারে যেগুলোর কারণে রাশিয়ার শতভাগ স্বার্থ হাসিল হবে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার সংকটময় মুহূর্তে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতাও রয়েছে ইরানের।

ইরানের বর্তমান শাসকদের কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতাই পেয়ে আসছে রাশিয়া। এ অবস্থায় ক্ষমতার রূপান্তর ঘটলে বা শাসক পরিবর্তন হলে পরবর্তী শাসক রুশপন্থি না-ও হতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে রাশিয়া, যা তাদের স্বার্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

রাশিয়ার অনেক নেতা বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিষয়টি বেশ উপভোগ করছেন। এমনকি তেল আবিবের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক সুবিধাও পাচ্ছেন তারা। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো পদক্ষেপই ইসরায়েলকে নিতে দেবে না রাশিয়া।

সম্প্রতি সোলাইমানি হত্যার ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয় ইরান এবং কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকিও দেয়। এতে কিছুটা শঙ্কায় পড়ে যায় রাশিয়া। কারণ, ইরান সেই প্রতিশোধ ইসরায়েলের ওপর নিলে বড় সংকটের সৃষ্টি হতো। অবশ্য শেষ পর্যন্ত সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। এরপর ইরানের ক্ষোভ কিছুটা কমে আসে। যে কারণে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে রাশিয়া।

প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তেহরানের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ফলে আগামী এক বছরের মধ্যেই তারা পারমাণবিক বোমার অধিকারী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা আসুক, এটা কিছুতেই চায় না ইসরায়েল, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো ঘোষণাই দিয়েছেন, তিনি যতদিন প্রেসিডেন্ট থাকবেন ততদিন ইরানকে পারমাণবিক বোমা বানাতে দেবেন না। অন্যদিকে ইসরায়েলও ঘোষণা দিয়েছে- তেহরানকে কিছুতেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেবে না তেল আবিব। প্রয়োজনে ইরানের পরমাণু কার্যক্রমে হামলা চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তারা।

সবমিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। রাশিয়া হয়তো কৌশলে ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও যুক্তরাষ্ট্রকে পারবে না। এ কারণে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েই গেছে। ফলে ভবিষ্যতে ইরান ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমানভাবে সম্পর্ক রক্ষা করাটা রাশিয়ার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এমনকি কোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে হলেও গভীরভাবে ভাবতে হবে মস্কোর।

সূত্র : আল জাজিরায় প্রকাশিত নিবন্ধ অবলম্বনে

ওডি/ডিএইচ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড