• মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মার্কিন সমর্থিত হাফতারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন এরদোগান

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:২১
এরদোগান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান (ছবি : আরব নিউজ)

ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে হাফতার বাহিনীর বিরোধের জেরে উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। যেখানে ফাইয়াজ আল সেরাজের নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর সমর্থন রয়েছে জাতিসংঘের। আর জেনারেল খলিফা হাফতারের বাহিনীর ওপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন। অন্যদিকে একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে মার্কিন সমর্থিত হাফতারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

২০০৪ সালের এপ্রিলে লিবিয়ার জাতীয় ঐক্যমতের সরকারকে হটিয়ে রাজধানী ত্রিপোলি দখলের অভিযানে নামেন জেনারেল খলিফা হাফতার। এ সময় ত্রিপোলির জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের সঙ্গে সশস্ত্র সহিংসতায় জড়ায় হাফতার বাহিনী। ফলে দেশ সম্মুখীন হয় ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধের কারণে এখন পর্যন্ত অসংখ্য হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাশিয়ার মস্কোতে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কথা ছিল জেনারেল হাফতার ও ফাইয়াজ আল সেরাজের। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ওইদিনই জাতিসংঘ সমর্থিত লিবিয়ান সরকারের প্রধান খসড়া চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন। তবে চুক্তিতে সইয়ের জন্য পরদিন (১৪ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত সময় চান হাফতার। কিন্তু চুক্তিতে স্বাক্ষর না করেই মস্কো ত্যাগ করেন তিনি।

এ ধরনের আচরণে হাফতারের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এরদোগান। যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সই না করে জেনারেল হাফতারের দেশে ফিরে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এক বিবৃতিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, হাফতার দীর্ঘদিন ধরে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি যদি লিবিয়ার বৈধ প্রশাসন এবং আমাদের ভাইদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখেন তাহলে আমরা তাকে উচিত শিক্ষা দিতে মোটেই দ্বিধা করব না। যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে তার সই না করাটা খুবই হতাশাজনক। ফের সহিংসতা চালালে খলিফা হাফতারকে মারাত্মক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।

তবে হুঁশিয়ারি দিলেও হাফতারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র কোনো পদক্ষেপ নেওয়াটা এরদোগানের পক্ষে খুব একটা সহজ হবে না। কারণ হাফতার ও তার বাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশের সমর্থন রয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশরের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান যে হালচাল তাতে বলা যায়, সহিংসতায় জড়ালে ইরান, ইরাক ও কাতারের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো তুরস্ককে সমর্থন দেবে। তবে এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার অবস্থান কি হবে তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে অনেকের মধ্যে। ‘পার্সটুডে’ ও ‘মিডল ইস্ট মনিটরের’ মতো মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যমগুলোর মতে, লিবিয়া ইস্যুকে ঘিরে তুরস্ক সহিংসতায় জড়ালে রাশিয়া হাফতারকে সমর্থন করবে। কিন্তু মার্কিনিদের সঙ্গে রুশদের দীর্ঘদিনের যে বিরোধ তাতে এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

প্রসঙ্গত, জেনারেল হাফতারের স্বঘোষিত লিবিয়া ন্যাশনাল আর্মি (এনএলএ) বর্তমানে লিবিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাধর মিলিশিয়া গোষ্ঠী। লিবিয়ার সাবেক সেনাবাহিনীর বেশ কিছু ইউনিট রয়েছে এই বাহিনীতে। এছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং রক্ষণশীল সালাফি মিলিশিয়ারাও হাফতারের বাহিনীকে সমর্থন করে।

আরও পড়ুন- ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জারিফ

অন্যদিকে রাজধানী ত্রিপোলি নিয়ন্ত্রণকারী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সহাবস্থান এবং সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। তবে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়ায় এসব গোষ্ঠী।

সূত্র- বিবিসি, রয়টার্স, আল-জাজিরা, পার্সটুডে ও মিডল ইস্ট মনিটর

ওডি/এসসা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড