• বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৭  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বৈষম্যই সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে হ্যারি-মেগানকে! 

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:০১
হ্যারি ও মেগান
প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল(ছবি : বিবিসি)

ব্রিটিশ রাজ পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যের দায়িত্ব থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি এবং ডাচেস মেগান মার্কেল। আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য কাজ করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা। তবে রাজ পরিবার ছেড়ে আসার ব্যাপারে তাদের নেওয়া এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জন্ম নিয়েছে নানান রহস্য।

কেউ কেউ বলছেন, যুক্তরাজ্যের ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলোর ক্রমাগত হয়রানিমূলক আচরণের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হ্যারি ও মেগান। অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘বাজফিড নিউজ ডটকম’ দাবি করেছে, ব্রিটিশ মিডিয়ায় কেট মিডলটনের সঙ্গে মেগানের তুলনা করা হচ্ছে। আর এই তুলনার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন মেগান। এ কারণেই হ্যারি-মেগান দম্পতি রাজ পরিবার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

অবশ্য হ্যারি ও মেগানের বক্তব্যেও মিলেছে এমন ইঙ্গিত। তারা বলেছেন, ব্রিটিশ মিডিয়া তাদের প্রতি অন্যায্য আচরণ করছে। তাদের সম্পর্কের কথা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই মিডিয়ার কাছে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন তারা। এছাড়া প্রিন্স উইলিয়াম ও তার স্ত্রী কেটের চেয়ে তাদের ভিন্নভাবে দেখা হয় বলেও দাবি করেছেন হ্যারি ও মেগান।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘বাজফিড নিউজ ডটকম’ এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলো কীভাবে কেটের প্রশংসা ও অযাচিতভাবে মেগানের সমালোচনা করে তা তুলে ধরেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, একই ধরনের ঘটনায় রাজ পরিবারের দুই বধূর (কেট ও মেগান) প্রতি ব্রিটিশ পত্রিকাগুলো বৈষম্যমূলকভাবে সংবাদ প্রকাশ করে।

কয়েকটি সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বিষয়টি প্রমাণও করে দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘বাজফিড নিউজ ডটকম’।

প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী কেট মিডলটন অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালে ২০১৮ সালের ২২ মার্চ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’ তাদের প্রতিবেদনে লিখেছিল, ‘কেট অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই প্রিন্স উইলিয়ামকে বেশ আনন্দিত দেখাচ্ছে। কেটের খুব যত্ন নিচ্ছেন তিনি।’ অন্যদিকে মেগান যখন অন্তঃসত্ত্বা হলেন, তখন  তার একটি ছবি প্রকাশ করে ‘ডেইলি মেইল’ লেখে, ‘গাড়িতে শিশু থাকলে যেমন পেছনে সতর্কতামূলক বার্তা লাগিয়ে রাখা হয়, মেগানকে তার পেটে হাত বোলাতে দেখে তেমনটাই মনে হচ্ছে।’ সংবাদটি প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ। 

অন্তঃসত্ত্বা থাকার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্ত্রী কেটকে সবুজ ফল উপহার দিয়েছিলেন উইলিয়াম। এ ঘটনা নিয়ে ২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ‘এক্সপ্রেস’ তাদের প্রতিবেদনে লিখেছিল, ‘কেটের সুস্থতা কামনায় উইলিয়াম একটি শিশুকে দিয়ে তার কাছে সবুজ ফল উপহার পাঠিয়েছেন।’ 

অপরদিকে ঠিক দেড় বছর পরে মেগান অন্তঃসত্ত্বা থাকার সময় ‘এক্সপ্রেস’ তাদের খবরে লেখে, ‘গোগ্রাসে ফল খাচ্ছেন ডাচেস অব সাসেক্স মেগান। অথচ এই ফল গাছটির কারণে পানির স্বল্পতা, অবৈধভাবে বন উজাড় ও পরিবেশের সামগ্রিক ক্ষতি হচ্ছে।’

২০১৩ সালের শেষ দিকে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট নিজেদের কোম্পানি খোলার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ‘দ্য সান’ লিখেছিল, ‘নিজেদের কোম্পানি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে উইলিয়াম ও কেট বিবেচকের মতো কাজ করেছেন।’ 

কিন্তু একই কাজ যখন হ্যারি ও মেগান করার সিদ্ধান্ত নিলেন তখন ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি ‘দ্য টাইমস’ লেখে, ‘বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যারি ও মেগান রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়তে চাইছেন। আর এ কারণে তারা নিজেদের কোম্পানি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

রীতি অনুযায়ী খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন রাজ পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে উদযাপন করতে হয়। কিন্তু ২০১৬ সালের বড়দিনে কেট রাজ পরিবারের সঙ্গে না থেকে নিজের পরিবারের সঙ্গে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। এমন ঘটনায় রাজ পরিবার সূত্রের বরাতে ১৬ ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনে ডেইলি মেইল লিখেছিল, ‘বড়দিনে উইলিয়াম ও কেটের রাজপরিবারের সঙ্গে না থাকাকে রানি স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন। অনেক তরুণ দম্পতিই এই দোটানায় ভুগে থাকেন। এ ছাড়া নিজের পরিবারের প্রতি কেটের গভীর টানের বিষয়টিও রানির অজানা নয়।’

কিন্তু ২০১৯ সালের বড়দিনে যখন মেগান নিজের পরিবারের সঙ্গে থাকতে চান বলে জানালে তখন ‘ডেইলি মেইল’ লেখে, ‘উৎসবের সময় নিজের পরিবারের সবাইকে রানি পাশে চাইতেই পারেন। এটি রাজ পরিবারের ঐতিহ্যও। হ্যারি ও মেগান বড়দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক হবে।’

আরও পড়ুন : ফের সহিংসতা চালালে হাফতারের পরিণতি হবে ভয়াবহ : এরদোগান

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমগুলোর এই প্রতিবেদনগুলো পড়লে স্বাভাবিকভাবেই হ্যারি-মেগান দম্পতির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বিষয়টি আঁচ করা যায়। তাহলে কি এই বৈষম্যের কারণেই রাজ পরিবার ছাড়ছেন তারা? এ ধরনের প্রশ্ন জাগতেই পারে।

ওডি/এসসা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড