• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

লন্ডন ব্রিজ হামলার প্রভাব পড়বে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:২০
জনসন ও করবিন
বরিস জনসন ও জেরেমি করবিন (ছবি : সংগৃহীত)

ওসমান খান নামের এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক গত শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের লন্ডন ব্রিজে হামলা চালায়। যেখানে তার অতর্কিত ছুরিকাঘাতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তীকালে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় ওসমান। লন্ডন ব্রিজের মতো জায়গায় এ ধরনের হামলার ঘটনা যুক্তরাজ্যের আসন্ন নির্বাচনে বেশ ভালোভাবেই প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আগামী ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের জন্য অনেক বড় এক পরীক্ষা। তার দলের নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে লন্ডন ব্রিজে হামলার ঘটনা। খবর ‘ডয়চে ভেলে’।

এর পেছনে অবশ্য কারণ রয়েছে। আগেই বলা হয়েছে যে, লন্ডন ব্রিজে হামলাকারী ওসমান খান একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ২০১২ সালে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তাকে। জনসুরক্ষার জন্য তাকে কমপক্ষে ৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

তখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, সে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বোমা হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তার সঙ্গে ছিল আরও আটজন। মোট নয়জনের ওই গ্রুপটি আরও কিছু হামলার পরিকল্পনা করেছিল। ২০১৩ সালে আদালত ওই রায় বাতিল করে তাকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেন।

যেখানে উল্লেখ করা হয় যে, অন্তত অর্ধেক সময় কারাগারে কাটাতে হবে ওসমানকে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শর্ত সাপেক্ষে কারাগার থেকে মুক্তি পায় সে। আর এটাই এখন অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

অনেকের মতে, শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কারাগার থেকে মুক্তি পায় ওসমান নামের ওই ব্যক্তি। পুরো মেয়াদই যদি কারাগারে কাটাত, তবে সে এ ধরনের ভয়ানক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারত না।

আসন্ন নির্বাচনে জিততে এই ইস্যুটাকেই কাজে লাগাতে চাচ্ছেন বরিস জনসন। লন্ডন হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্যে বিদ্যমান কারাবিধিতে সংশোধন আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বলেছেন নির্বাচনে জয়ী হলে এমন আইন তৈরি করবেন, যাতে শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার একদিন আগেও কোনো আসামি কারাগার থেকে মুক্তি না পায়।

তার ভাষায়, আদালত অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করেই শাস্তির রায় ঘোষণা করেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কারাগার থেকে মুক্তির কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।

এ দিকে আগামী ১২ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলো। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে ভোটার নিবন্ধন। চলমান নির্বাচনি প্রচারণা ও বিতর্কে ইসলাম বিদ্বেষ ও ইহুদি বিদ্বেষের অভিযোগ উঠেছে কনজারভেটিভ ও লেবার পার্টির মতো বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ জরিপে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের দল কনজারভেটিভ পার্টি এগিয়ে আছে। অবশ্য জেরেমি করবিনের লেবার পার্টির সঙ্গে তাদের ব্যবধান বেশি নয়, মাত্র ৬ পয়েন্ট। ধারণা করা হচ্ছে, লন্ডন ব্রিজ হামলাকে কেন্দ্র করে বরিস জনসনের মন্তব্যের পর আরও বাড়বে তার দলের সমর্থন। 

ওডি/এসসা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড