• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অযোধ্যায় মসজিদ বানাতে মুসলিমদের পাশে থাকবে হিন্দুরা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২৮
বাবরি মসজিদ
অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ও রাম মন্দির (ছবিসূত্র : ইন্ডিয়া টুডে)

ভারতের বহু প্রতীক্ষিত অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ও রাম মন্দির নিয়ে করা মামলার রায় এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে বাবরি মসজিদের বিরোধপূর্ণ জমি রামজন্মভূমি ট্রাস্টকে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। সেক্ষেত্রে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণে আলাদা বিকল্প কোনো জমি বরাদ্দের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৯ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করা হয়। যেখানে প্রধান বিচারপতি ছাড়াও বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি এসএ বোবদে, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ এবং এস আব্দুল নাজির। খবর ‘এনডিটিভির’।

এ দিকে বিতর্কিত এই মামলাটির রায় ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন দেশটির যোগগুরু বাবা রামদেব। তার ভাষায়, ‘সর্বোচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক এই রায়ে দেশে ন্যায়বিচার পুনরায় প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।’

গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাবা রামদেব বলেছেন, ‘দেশ-বিদেশের কোনো চাপ কিংবা প্রভাব ছাড়াই সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক এই ন্যায়বিচারটি করেছে। অযোধ্যায় এবার রাম মন্দির নির্মিত হবে। তাছাড়া মুসলিমদের জন্য বিকল্প জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্তকেও আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, অযোধ্যায় মসজিদ নির্মাণে হিন্দুরাও তাদের পাশে থেকে সহায়তা করবে।’

যদিও সংশ্লিষ্ট সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী জাফরিয়াব জিলানী আদালতের বিতর্কিত এই রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই মামলা পুনর্বিবেচনার জন্য আমরা আবেদন করব।’ তবে এই বিষয়ে বাবা রামদেবকে প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে রিভিউ পিটিশন দায়েরের কোনো অর্থই নেই।

এর আগে গত ১৬ অক্টোবর ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের একটি যৌথ বেঞ্চ অযোধ্যা জমি বিতর্কের শুনানি সম্পন্ন করেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সে সময় আর রায় ঘোষণা করা হয়নি।

যদিও তখন থেকেই গুঞ্জন উঠছিল আগামী ১৭ নভেম্বর অবসরে যেতে পারেন রঞ্জন গগৈ। যে কারণে এর আগেই যেকোনো দিন ঐতিহাসিক এই মামলাটির রায় হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছিল। মূলত এসব বিষয় বিবেচনা করেই অতি স্পর্শকাতর মামলার রায় ঘোষণার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে প্রশাসন।

অপর দিকে গত শুক্রবার (৮ নভেম্বর) রাতে প্রধান বিচারপতি গগৈ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এমনকি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ প্রধানের সঙ্গেও তার বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত সেই বৈঠকেই গগৈ অন্য বিচারকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি অযোধ্যা মামলায় রায় ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন :- মসজিদ ভেঙে মন্দির বানানোর পক্ষেই ভারতীয় সর্বোচ্চ আদালত

রায় ঘোষণার পর রাজ্যটিসহ গোটা ভারতে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সে জন্য এরই মধ্যে গোটা দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সব রাজ্যে বিশেষ সতর্কতাও জারি করতে বলা হয়েছে।

সূত্র : ‘কলকাতা টাইমস’

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড