• সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আশা-নিরাশার জালে বন্দি মালয়েশিয়ায় থাকা অবৈধ বাংলাদেশিরা

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া

০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:০৯
মালয়েশিয়া
বিভিন্ন জটিলতার কারণে বৈধ হতে পারছেন না মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিকরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

আশা নিরাশার জালে বন্দি হয়ে পড়েছেন মালয়েশিয়ায় থাকা অবৈধ বাংলাদেশিরা। দেশটিতে প্রতিনিয়তই পরিবর্তন হচ্ছে অভিবাসন নীতি। তাছাড়া দেশটির ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াও এখন বেশ জটিল। অভিবাসন আইনের এ জটিলতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছে হাজার হাজার অবৈধ বাংলাদেশি। 

গত আড়াই বছর ধরে চলতে থাকা সে দেশের সরকারের লিগ্যালাইজেশনের সুযোগের পরও বাংলাদেশ, মায়ানমার, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের যে সব বিদেশি কর্মীরা বৈধতার নামে প্রতারিত হয়েছেন, সে সব কর্মীদের বৈধতা দিতে সবকটি দেশের দূতাবাস থেকে মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। উল্টো চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে ‘ব্যাক ফর গুড’ কর্মসূচী শুরু করেছে দেশটির সরকার।

এর আওতায় অনেকেই নিজ নিজ দেশে ফিরছেন। আবার নানান জটিলতার কারণে অনেকেরই দেশে ফিরতে বিলম্ব হচ্ছে। অনেকেই আবার বৈধতার ঘোষণা আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। এ আশা-নিরাশার জালে আটকে থাকা প্রবাসীরা কি দেশে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন না? এমন প্রশ্ন সবার। 

এ দিকে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়া সফর করেছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকও করেছেন তিনি। তবে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে দুদেশ একমত হলেও অবৈধদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী অবৈধদের বিষয়ে প্রস্তাব রাখলে সে দেশের সংশ্লিষ্টরা কেবল বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। এর বেশি কিছু নয়।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ার বিগত সরকার দেশটিতে অবস্থান করা অবৈধ বিদেশিদের বৈধ হওয়ার জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিল। তখন সরকার মাই-ইজি, ভুক্তি মেঘা ও ইমান এ তিনটি ভেন্ডর কোম্পানিকে দায়িত্ব দিয়েছিল অবৈধ বিদেশি কর্মীদের নাম নিবন্ধন করতে। সে সময় এ ভেন্ডর কোম্পানিগুলো কোন কোম্পানিতে কতজন শ্রমিক প্রয়োজন সেটা যাচাই না করে ঢালাওভাবে নিবন্ধন শুরু করে।

এ তিনটি ভেন্ডরের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিবন্ধিত হয়েছিলেন। নিবন্ধিতদের মধ্যে প্রায় তিন লাখের অধিক শ্রমিক ভিসা পেয়েছেন। তারপরও অনেকেই বৈধ হতে পারেননি। কারণ কারো নাম জটিলতা, কারো বয়স জটিলতা। অনেকে আবার স্থানীয় এজেন্ট ও দালালকে পাসপোর্ট ও রিঙ্গিত দিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়ার কারণে বৈধ হতে পারেননি।

এ ব্যাপারে প্রতারিত কর্মীদের মন্তব্য, ইচ্ছে করে কেউ অবৈধ হয়নি। দালালদের কবলে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়ে তারা অবৈধ হয়েছেন।

এ দিকে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের কর্তারা বলেছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিভাগটি কাজ করছে। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার তাগিদে কোনো পক্ষের সঙ্গে আপোষ করা হবে না।

ওডি/এসসা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪, ০১৯০৭৪৮৪৮০০ 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড