• বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ৬ মাঘ ১৪২৭  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

খুকি ও তার টিয়াপাখি

  তারেকুর রহমান

২১ মার্চ ২০২০, ১১:১২
টিয়া পাখি
ছবি : সংগৃহীত

বার্ষিক পরীক্ষার পর গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে খুকি। প্রতিবছর এই সময়ে বাড়ি যায় খুকি। গ্রামের বাড়ি তার খুব ভালো লাগে। গ্রামে আসলে তার খেলার সাথির অভাব হয় না।

তাসফিয়া, তাইবা, ইসরা, ইয়াসা আরও অনেকেই তার বন্ধু হয়ে যায়। সবার সাথে মিলেমিশে খেলাধুলা করতে তার খুব ভালো লাগে। বাড়ির পাশেই রয়েছে একটি বাগান। সেখানে নানা রকমের ফুল ফল রয়েছে। ফুল গুলো দেখতে খুব ভালো লাগে। এই বাগানে রয়েছে নানা রকমের পাখি। ময়না, ঘুঘু, টিয়া, শালিকসহ আরো অনেক পাখি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাগানের পাখিগুলোর সাথে খুকির খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়। আস্তে আস্তে ছুটি শেষ হয়ে গেলো। এবার গ্রাম থেকে শহরে চলে যাওয়ার পালা। খুকির মন খুব খারাপ হয়ে গেলো।

গ্রামটা তার খুব ভালো লেগেছে। সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগছে পাখি গুলোর জন্য। খুকি বাবার কাছে বায়না ধরলো টিয়া পাখিটি নিয়ে যাওয়ার জন্য। এ কথা শুনে খুকির বাবা রাজী হলো না। খুকি খুব কান্নাকাটি করতে লাগলো। সে বাবাকে বললো, - বাবা তুমি এত পচা কেন?

- আমি পচা কেন?

- তুমি আমাকে টিয়া পাখিটা নিয়ে দাও না কেন?

- শোন খুকি, তুমি যেমন আমাদের সাথে মানে তোমার আব্বু আম্মুর সাথে থাকতে চাও। টিয়া পাখিটাও তার আব্বু আম্মুর সাথে থাকতে চায়। তাকে এখান থেকে নিয়ে গেলে সে কান্নাকাটি করবে। তাছাড়া টিয়া পাখি থাকে বাগানে। আবদ্ধ খাঁচায় রাখলে সে খুব কষ্ট পাবে।

- বাবা এই টিয়া পাখিটা আমার চাই চাই। এ কথা বলেই খুকি কাঁদতে শুরু করলো। খুকির কান্না দেখে তার বাবা টিয়া পাখিটাকে ধরে নিয়ে যায়।

বাজার থেকে খুব সুন্দর একটা খাঁচা নিয়ে আসা হলো। এই খাঁচায় রাখা হলো টিয়া পাখিটিকে। প্রতিদিন সকালে টিয়া পাখিকে খাবার দেয় খুকি। ওকে খাবার দিয়ে স্কুলে যায় সে। স্কুল থেকে এসে আবার টিয়া পাখিকে খাবার দেয়। প্রতিদিন তার সাথে কথা বলে খুকি। টিয়া পাখি অত কথা বলতে পারে না। খুকি তাকে আস্তে আস্তে কথা বলা শেখায়। এখন প্রতিদিন টিয়া পাখির সাথে খুকি কথা বলতে থাকে।

একদিন খুকি টিয়া পাখিকে বললো, আচ্ছা টিয়া এখানে তোমার কেমন লাগে?

টিয়া বললো, একটুও ভালো লাগে না। এ কথা শুনে খুকির মন খারাপ হয়ে গেলো। কেন ভালো লাগে না? জিজ্ঞেস করে টিয়াকে।

টিয়া জবাবে বলে, আমি আম্মুর কাছে যাবো। আর এই আবদ্ধ জীবন খুবই কষ্টকর। আমাকে আমার আম্মুর কাছে দিয়ে আসো। খুকি টিয়াকে খুব ভালোবাসে। টিয়াকে না দেখলে তার খুব কষ্ট হবে।

একদিন স্কুলের পাশে নতুন এক আইসক্রিমওয়ালাকে দেখতে পায় খুকি। তার কাছে নানা রকমের আইসক্রিম রয়েছে। আইসক্রিম দেখে খুকির খুব খেতে ইচ্ছে করলো।

সে আইসক্রিমওয়ালাকে বললো, আংকেল আমাকে একটা আইসক্রিম দিন। লোকটি খুকিকে বললো, আমার কাছে আরো নানা রকম আইসক্রিম আছে। তুমি কি খেতে চাও? খুকি বললো, আংকেল আমি সব রকম আইসক্রিম খেতে চাই। লোকটি খুকিকে আইসক্রিম দেওয়ার কথা বলে তার সাথে নিয়ে যায়। তাকে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখে। খুকি খুব কান্নাকাটি করে। খুকি তখনও জানতোনা আইসক্রিম ওয়ালা একটা ছেলেধরা।

এদিকে খুকিকে না পেয়ে তার বাবা মা কান্নাকাটি শুরু করে দিলো। তারা পুলিশে খবর দিল। পুলিশ খুকিকে উদ্ধার করতে বের হলো। খুকি বাবা মাকে না দেখে কান্নাকাটি করতে লাগলো। আইসক্রিম ওয়ালা তাকে অনেক ভয় দেখাচ্ছে। কান্নাকাটি করলে তাকে আর বের হতে দেবে না। এ কথা শুনে খুকি ভয় পেয়ে যায়। সে তার আম্মুর কাছে যেতে চায়। এই আবদ্ধ ঘরে তার ভালো লাগছে না। অনেকক্ষণ পর্যন্ত খুকি একা একা কাঁদছিল। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে হাজির। পুলিশ এসে ছেলে ধরাকে ধরে নিয়ে গেলো। আর খুকিকে তার বাবা মায়ের কাছে দিয়ে গেল।

যাওয়ার সময় পুলিশ খুকিকে বলে যায়, অপরিচিত কারো কিছু খাবে না। এরকম কেউ কোথাও যেতে বললে যাবে না। ছেলে ধরা ধরলে জোরে চিৎকার করবে। তাহলে আশেপাশের সবাই তোমাকে সাহায্য করবে।

খুকি বাসায় এসে টিয়া পাখিটার কাছে গেল। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বাবার কাছে গেল। বাবাকে বললো, বাবা আমরা কালকে গ্রামে গেলে কেমন হয়? হঠাৎ করে গ্রামে কেন? বাবা জিজ্ঞেস করে খুকিকে।

খুকি বললো, টিয়া পাখিটাকে তার মায়ের কাছে দিয়ে আসতে চাই। খুকির বাবা বললো, কেন তাকে দিয়ে আসবে? খুকি বললো, ছেলে ধরা যখন আমাকে একটা বদ্ধ ঘরে আটকে রাখে তখন আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। আর আমি তোমার জন্য, আম্মুর জন্য অনেক কান্নাকাটি করি। টিয়া পাখিটারও তার মায়ের জন্য খারাপ লাগে তাই তাকে তার মায়ের কাছে দিয়ে আসবো। খুকির বাবা তার কথায় রাজী হলো। পরেরদিন সকালে গ্রামে গিয়ে হাজির হলো তারা। খুকি খাঁচা থেকে টিয়া পাখিটাকে ছেড়ে দিল। টিয়া পাখিটা উড়ে গিয়ে মায়ের কাছে চলে গেল। গাছের ওপর থেকে খুকিকে টিয়া পাখি বললো, ধন্যবাদ খুকি। টিয়াকে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দিতে পেরে খুব খুশি খুকি।

ওডি/এএস

jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড