• সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন

হৃদপিণ্ডের সমস্যার ইঙ্গিত দেয় শরীরচর্চা

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি ২৭ মে ২০১৯, ০৮:১৮

হৃদপিণ্ড
ছবি : প্রতীকী

শরীরচর্চা করা আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। এটি শুধু আমাদের মন ভালো করে না। একইসাথে শরীরকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। এই ছোট্ট অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ফলাফল রাখে আমাদের শরীরে। 

যেসব মানুষ নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাদের ৮০ বছর বয়স পর্যন্তও হৃদপিণ্ডজনিত কোনো সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা একেবারেই কম থাকে। এজন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। 

কিন্তু, শরীরচর্চা যেমন আমাদের হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে, তেমনই, এটি আমাদের হৃদপিণ্ডের কোনো সমস্যা সম্পর্কেও ইঙ্গিত দেয়। আপনার যদি কোনো হৃদপিণ্ডজনিত সমস্যা থাকে, সেটি শরীরচর্চা করার সময় প্রকাশ পেতে পারে। 

অনেক সময়, আপনার হৃদপিণ্ডে কোনো সমস্যা আছে কি না সেটা বোঝানোর জন্যই চিকিৎসকেরা নানা রকম ব্যায়ামকে ব্যবহার করেন পরীক্ষার অংশ হিসেবে। আপনি যদি শরীরচর্চা করার সময় এমন কোনো শারীরিক সমস্যা বোধ করেন, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।

শরীরচর্চার সময় কার্ডিয়াক সমস্যা, কীভাবে বুঝতে পারবেন?

সাধারণত শরীরচর্চার সময় শারীরিক সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম থাকে। তবে আপনার হৃদপিণ্ডে যদি আগে থেকেই কোনো সমস্যা থেকে থাকে তাহলে এক্ষেত্রে খানিকটা সতর্ক থাকা ভালো।

এছাড়া শরীরচর্চার সময় যদি-
বুকে অস্বস্তিবোধ হয়
নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়
হৃদপিণ্ডের স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়
মাথা ঘোরে এবং 
শরীরের অন্যান্য অংশ, এই যেমন- মাথা, কাঁধ, বাহু, হাত ইত্যাদিতে ব্যথা ও অস্বস্তিবোধ হয়, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের সাথে কথা বলাটা জরুরি। হতেই পারে যে, আপনার হৃদপিণ্ডজনিত সমস্যার কারণেই আপনি এই লক্ষণগুলো বোধ করছেন। 
 
এ ক্ষেত্রে বয়সের ভূমিকা কী?

৪০ বছরের কমবয়সীদের ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ডের কোনো সমস্যা হলে সেক্ষেত্রে হৃদপিণ্ডের আকৃতিতে কোনো সমস্যা থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বংশগতভাবে কোনো সমস্যা ছোটবেলা থেকেই থাকলে বা হৃদপিণ্ডের দেয়াল ধীরে ধীরে মোটা হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

বয়স বেশি হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে হৃদপিণ্ডে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ব্যায়ামের সময় এই সমস্যাগুলো বেশি প্রকাশ পায়। তবে ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম এবং ইকোকার্ডিওগ্রামের মতো পরীক্ষাগুলো করার মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের সমস্যাগুলো সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। 

কার্ডিওপালমোনারি এক্সারসাইজ টেস্টিং

শরীরচর্চা আপনাকে ক্লান্ত করে দিতেই পারে। বিশেষ করে, আপনি যদি আগে কখনো শরীরচর্চা না করে থাকেন, তাহলে আপনি দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন, এটা স্বাভাবিক। সাধারণত শরীরচর্চা করলে আমাদের রক্তে অক্সিজেন প্রবাহিত হওয়ার পদ্ধতিটি অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়। ফলে একটু একটু করে শরীরচর্চা আমাদের আর খুব বেশি ক্লান্ত করে না। এটি হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য খুব বেশি দরকারি। 

কার্ডিওপালমোনারি এক্সারসাইজ টেস্টের মাধ্যমে হৃদপিণ্ড, ফুসফুস এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা সে সম্পর্কে যথাযথভাবে জানা যায়। আপনার শরীরের অক্সিজেন গ্রহণের ক্ষমতা কতটুকু সেটা সঠিকভাবে বুঝতেও এই পরীক্ষাটি খুব কার্যকর। সাধারণত, নিজের শরীর ফিট আছে কি না সেটা নিয়ে নিশ্চিত হতে এবং অ্যাথলেটদের জন্য এই স্বাস্থ্যপরীক্ষাটি করা হয়। 

শরীরচর্চা সাধারণত শরীরের উপরে খুব বেশি চাপ ফেলে না। তবে আপনার যদি হৃদপিণ্ড সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নিজের শরীরচর্চার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। চেষ্টা করুন ঠিক যতটুকু সময় এবং যেভাবে শরীরচর্চা করতে বলা হয়েছে সেটা মেনে চলতে। তাহলে আপনার হৃদপিণ্ডে কোনো সমস্যা থাকলেও সেটার চিকিৎসা করা করে নেওয়া অনেক বেশি সহজ হবে। 

মূল লেখক- ডক্টর রোহিত খুরানা, গ্লেনাগ্লেস হসপিটাল। 

ওডি/এনএম

স্বাস্থ্য-ভোগান্তি, নতুন পরিচিত অসুস্থতার কথা জানাতে অথবা চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ পেতেই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার পরামর্শ দেবার প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড