• বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

গত ২০ বছরে বাংলাদেশে হৃদরোগে মৃত্যুর হার বেড়েছে ৪৭ গুণ

ক্রমশই বাড়ছে বাংলাদেশে হৃদরোগীর সংখ্যা

  স্বাস্থ্য ডেস্ক ২১ মে ২০১৯, ১৪:৪১

হৃদরোগ
ছবি : প্রতীকী

গত ২০ বছরে হৃদরোগে মৃত্যুর হার বাংলাদেশি পুরুষের ক্ষেত্রে ৩২ গুণ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৪৭ গুণ বেড়েছে। সবচেয়ে আতঙ্কের ব্যাপারটি হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা। সম্প্রতি গবেষণায় এমনটা দেখা গেছে বলে জানান জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিওভাস্কুলার ইন্টারভেনশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান। 

গত ২০ মে (সোমবার) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ডা. রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি দ্রুত হাতে হার্ট অ্যাটাকের হার বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তরুণ প্রজন্মের বসে থাকা, বসে কাজ করা, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন, খাবারে ভেজাল ও মানসিক চাপকে দায়ী মনে করেন। 

বিশ্ব জুড়ে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ কার্ডিওভাসকুলার রোগে মারা যায়, যা বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর ৩১ শতাংশ। এই মৃত্যুর মধ্যে ৮৫ শতাংশ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারণে হয়। দক্ষিণ এশিয়ার স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে করোনারি হৃদরোগের কারণে তিন চতুর্থাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে হৃদরোগের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বিপজ্জনক যা প্রায় ১৪.৩১ শতাংশ।

 

ডা. আফজালুর রহমান

ডা. আফজালুর রহমান

বর্তমানে সারাবিশ্বে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকে নারী ও পুরুষের মধ্যে সর্বাধিক মৃত্যুর কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ব্লক হয়ে যাওয়া ধমনী হৃদযন্ত্রের একাংশে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে হার্ট অ্যাটাক হয়। যদি ব্লক হয়ে যাওয়া ধমনীকে দ্রুত পুনরায় চালু করা না যায়, তাহলে সেই ধমনী দ্বারা চালিত হৃদযন্ত্রের অংশটি কর্ম অক্ষম হতে শুরু করে। 

এর ফলে বুকে ব্যথা, বুকের ভেতর চাপ অনুভব, বমি বমি ভাব, বুক জ্বালা ইত্যাদি লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং হার্ট অ্যাটাকের আগে বেশ কয়েক ঘণ্টা, দিন কিংবা সপ্তাহের জন্য চলতে থাকে।

এই বিজ্ঞপ্তিতে ডা. রহমান আরও জানান, মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না। হৃদযন্ত্রের একাংশে রক্তপ্রবাহ আটকে গেলে, সাধারণ রক্ত জমাট বেঁধে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়। স্ট্রোক হলো ব্রেন বা মস্তিষ্কের অ্যাটাক, যেখানে অত্যাবশ্যক রক্তপ্রবাহ আর অক্সিজেন প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। মস্তিষ্কে চলাচলকারী কোন একটি ব্লাড ভেসেল বা রক্তবাহক জমাট বেঁধে গেলে বা ফেটে পড়লে স্ট্রোক হয়। 

অন্যদিকে, হৃদযন্ত্র অস্বাভাবিক ছন্দে চলতে শুরু করলে এবং হঠাৎ করে অচল হয়ে পড়লে আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এক কথায় বলা যায় যে, হার্ট অ্যাটাক হলো সংবহনের সমস্যা আর আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলো একটি ইলেক্ট্রিক্যাল সমস্যা।

বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর ১১.৮ শতাংশ স্ট্রোকের কারণে হয়ে থাকে, যে কারণে বিশ্বজুড়ে হৃদরোগের পরেই স্ট্রোক হয়ে উঠেছে দ্বিতীয় সর্বাধিক মৃত্যুর কারণ। কখনো কখনো, হাত থেকে শরীরের বাম দিকে নিচের অংশ পর্যন্ত একটা উপসর্গমূলক ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে যা বিপদের লক্ষণ। 

বুকে ব্যথা কিংবা চাপ অনুভূতি যদি গলা কিংবা চোয়াল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তা হলো হার্ট অ্যাটাকের স্পষ্ট লক্ষণ। এছাড়াও, যারা নিয়মিত কাজ যেমন সিঁড়ি চড়া, দ্রুত হাঁটা-হাঁটি ইত্যাদির পর খুব আকস্মিক ক্লান্ত কিংবা জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন, তাদের অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান পরামর্শ দেন, ‘প্রধানত জীবনযাপনের সমস্যা আর মধ্যবয়সের শুরুতেই মানসিক চাপের কারণে এমনকি তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের হার খুব দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উচ্চ ডায়বেটিস, কোলেস্টেরলের মাত্রা আর অস্বাভাবিক মাত্রায় রক্তচাপের ফলে হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন ব্যাধি ঘটে যা অনেকটাই একটা সক্রিয় এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এড়ানো সম্ভব। এসবের মধ্যে রয়েছে খাদ্য সংক্রান্ত শৃঙ্খলা, দৈনিক ফিটনেস অভ্যাস, ধূমপান, মদ্যজাতীয় অথবা অন্যান্য মাদক দ্রব্য সেবন ত্যাগ করা। 

পরিবারে হৃদরোগের নমুনা থাকা ব্যক্তিদের আর যারা হৃদরোগপ্রবণ তাদের নিয়মিত ব্যবধানে মেডিক্যাল চেকআপ করাতে হবে। 

ওডি/এনএম

স্বাস্থ্য-ভোগান্তি, নতুন পরিচিত অসুস্থতার কথা জানাতে অথবা চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ পেতেই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার পরামর্শ দেবার প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড