• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

নিজ দেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের দুই শর্ত||এ পি জে আব্দুল কালামের স্মৃতিতে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী  ||উদ্বেগ থাকলেও ভারতের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ||ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ঢাকতেই ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ : রিজভী ||কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশের অভিযোগে সীমান্তে‌ হাই অ্যালার্ট||ভারতের পর এবার বিশ্বকে পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের||সোমবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেবেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক||মেক্সিকোয় কুয়া থেকে ৪৪ মরদেহ উদ্ধার করল বিজ্ঞানীরা||অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : কাদের    ||সৌদির তেল স্থাপনাতে হামলায় ইরানকে দায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা'র পরামর্শ

  স্বাস্থ্য ডেস্ক

২০ মে ২০১৯, ১০:২৬
ডিমেনশিয়া
ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজন সঠিক যত্ন (ছবি: এজডিকেয়ারগাইড ডট কম)

প্রতিনিয়ত কথা ভুলে যাওয়ার মত সমস্যায় ভোগেন ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা। জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আগামী ত্রিশ বছরে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়বে তিন গুণ। শুধু প্রবীণ ছাড়া, কম বয়সীরাও ভুগতে পারেন এই সমস্যায়। এই রোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাই কিছু পরামর্শ দিয়েছে। 

পরামর্শ জানতে হলে সবার আগে জানতে হবে ডিমেনশিয়া কী এবং এ সমস্যায় কারা মূলত আক্রান্ত হচ্ছেন।  

ডিমেনশিয়া কী

ব্যক্তি যখন নিত্যদিনের কথাগুলো মনে রাখতে পারছেন না, প্রতিনিয়ত কথা ভুলে যাচ্ছেন অর্থাৎ তার স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি ধীরে ধীরে লোপ পাচ্ছে সেই অবস্থাই মূলত ডিমেনশিয়া। এ সমস্যা মূলত প্রবীণ ব্যক্তিদের মাঝে বেশি দেখা গেলেও বার্ধক্য মানেই ডিমেনশিয়া নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানব মস্তিষ্কের নিউরন সংখ্যা কমতে থাকে। বয়সের সঙ্গে শারীরিক রোগব্যাধি বেড়ে গিয়ে যদি মস্তিষ্কের ক্ষতি হয় আর সেটি যদি প্রতিদিনের জীবনযাপন ব্যাহত করে তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় ডিমেনশিয়া। 

ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হন কারা 

মস্তিষ্কের নিউরন সংখ্যা কমতে থাকায় সাধারণত বয়স ৬৫ বা তার বেশি বয়সী মানুষের ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি। তবে এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে কমবয়সীরাও। যদি বাবা-মা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে সন্তানরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে অল্প বয়সেই। ৬০ বছরের কম রোগীদের হার ০.১ শতাংশ, ৬০-৬৪ বছর বয়সী রোগীদের মধ্যে এ রোগের হার ১ শতাংশ, ৬৫-৮৪ বছর বয়সী রোগীদের মধ্যে এ রোগের হার ৩ থেকে ১১ শতাংশ এবং ৮৫ বছরের বেশি বয়সী রোগীদের মধ্যে এ রোগের হার ২৫ থেকে ৪৭ শতাংশ। 

ডিমেনশিয়ার কারণ

বিভিন্ন রোগের কারণে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগ হতে পারে। আর এ কারণে পরিবর্তন আসতে পারে স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা ও আচরণে। ব্যিহত হতে পারে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা, ডিপ্রেশনের কারণে ব্যক্তি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।  

সংখ্যা বাড়বে আরও তিন গুণ 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বর্তমানে বিশ্বে ডিমেনশিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বাড়বে আরও তিনগুণ। তখন ডিমেনশিয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫ কোটিতে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে রোগীর সংখ্যা বেশি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে অনেক দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দারুণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। 

বাড়বে আর্থিক খরচ  

ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীর দেখভালের খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। ২০১৫ সালে এই খরচ ছিল ৮১৮ বিলিয়ন ডলার। আগামী ১৫ বছরে এই খরচ দুই ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

সচেতনতা বৃদ্ধি 

বয়স বৃদ্ধি আর পারিবারিক কারণে ডিমেনশিয়ার যে ঝুঁকি থাকে তা এড়ানো সম্ভব নয়। তবে নিয়মমাফিক জীবনযাত্রা করলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সময় কিছুটা বিলম্ব করা যায়। আর ব্যক্তি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন এমনটি যদি শনাক্ত হয়ে যায় তবে সাথেসাথেই চিকিৎসা শুরু করতে হবে। রোগীর প্রাত্যাহিক জীবনের মান বাড়ানো, তাকে যথাযথ সম্মান, সঙ্গ এবং সেবা দেয়া, রোগী ও তার স্বজনদের প্রাত্যাহিক কর্মতালিকার সমন্বয় রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়াকে কমিয়ে দেয়।

পরামর্শ

এ সমস্যা থেকে দূরে থাকতে হলে কিছু পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পরামর্শের মধ্যে রয়েছে- নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান না করা, অ্যালকোহলের ক্ষতিকর ব্যবহার এড়ানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। 

সেবাকারীদের প্রশিক্ষণ

জাতিসংঘ বলছে, ডিমেনশিয়া রোগীদের সেবা করেন পরিবারের সদস্যরাই। আর এ জন্য তাদের পারিবারিক ও পেশাগত জীবনে অনেক পরিবর্তন আনতে হয়। আক্রান্ত রোগীর সেবা করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন সেবাদানকারী নিজেও। তাই কীভাবে সেবা দিতে হবে সে সংক্রান্ত একটি অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। 

অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই লিংকে। 

ওডি/এএন 
 

স্বাস্থ্য-ভোগান্তি, নতুন পরিচিত অসুস্থতার কথা জানাতে অথবা চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ পেতেই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার পরামর্শ দেবার প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড