• বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

হার্ট মারমার : হৃদপিণ্ডের অস্বাভাবিক স্পন্দন!

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি ১৭ মে ২০১৯, ০৮:৪৭

হার্ট মারমার
ছবি : প্রতীকী

স্টেথোস্কোপের সাহায্যে চিকিৎসকেরা আমাদের হৃদপিণ্ডের স্পন্দনের শব্দ শুনতে পান। আর তার মাধ্যমেই নানারকম শারীরিক সমস্যার লক্ষণ বুঝতে পারেন। এই হৃদপিণ্ডের অস্বাভাবিক স্পন্দনের ধরন কেমন? মূলত, রক্ত সঞ্চালনের সময় আমাদের হৃদপিণ্ডে শব্দ তৈরি হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার মোট দুইটি ধাপ রয়েছে। একটি হলো, সিস্টোলিক। আর অন্যটি হলো, ডায়াস্টোলিক। 

সিস্টোলিকে হৃদপিণ্ডের বামপাশ থেকে রক্ত সঞ্চালিত হয় এবং ডায়স্টোলিকের সময় হৃদপিণ্ডের বামপাশ বিশ্রাম নেয়। বেশিরভাগ স্পন্দনের শব্দই অস্বাভাবিক নয়। তবে কিছুক্ষেত্রে এটি এত তাই অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে যে, চিকিৎসকের কাছে যাওয়াটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। হৃদপিণ্ডের স্পন্দন স্বাভাবিক থাকলে ‘লাভ-ডাব’ ধরনের শব্দ তৈরি হয়। 

অন্যদিকে, আপনার হৃদপিণ্ডের শব্দে যদি ‘হুশ হুশ’ শব্দ শোনা যায়, সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে যে, হৃদপিণ্ডে সমস্যা রয়েছে। এই ব্যাপারটিকে ‘হার্ট মারমার’ বলা হয়। হৃদপিণ্ডে ফুটো থাকলে বা কোনো কারণে হৃদপিণ্ড ঠিকভাবে কাজ না করতে পারলে এমনটা হয়ে থাকে। 

হার্ট মারমার কত রকমের হয়ে থাকে?

হার্ট মারমার বা হৃদপিণ্ডের অস্বাভাবিক আওয়াজ মোট ২ রকমের হয়ে থাকে। প্রথমটি হয় শারীরিক কারনে। আর পরেরটি অন্য কোনো সমস্যার ফলাফল হিসেবে। শারীরিক কোনো সমস্যা, এই যেমন- গর্ভধারণ, থাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত কার্যক্রম, উচ্চ রক্তচাপ, জ্বর ইত্যাদির কারণে এমনটা হতে পারে। এই সমস্যাগুলো নিজ থেকেই ঠিক হয়ে যায়। ফলে এমনটা হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। 

তবে অন্য কোনো সমস্যার ফলাফল হিসেবে, এই যেমন- রক্তে সংক্রমণ, রিউমেটিক জ্বর, বয়স বা হৃদপিণ্ডের আকৃতি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেও এমনটা হতে পারে। অনেক সময় জন্ম নেওয়ার আগেই ভ্রূণে ছিদ্র তৈরি হয়। আর এই ছিদ্র পরবর্তীতে থেকে গেলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। এমন কোনো কারণে হৃদপিণ্ডে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। 

চিকিৎসকের কাছে কখন যাবেন?

অনেক ব্যক্তিই ‘হার্ট মারমার’ সমস্যায় ভুগে থাকেন। তবে এর কোনো লক্ষণ তাদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায় না। কেউ কেউ বুকে ব্যথা, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, মাথা ঘোরা, প্রচুর ঘেমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা বোধ করেন। যদিও এই সমস্যাগুলো অস্বাভাবিক হৃদপিণ্ডের কারণে হতে পারে, তবুও অন্যান্য সমস্যার কারণেও এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। 

এক্ষেত্রে আপনার সমস্যাটি ঠিক কোন পর্যায়ে আছে সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আগে থেকেই চিকিৎসকের সাথে দেখা করা ও নিয়মিত চেকআপ করা ভালো। এতে করে আপনার সমস্যা বেশি বেড়ে যাওয়ার আগেই আপনি এ সম্পর্কে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

এই সমস্যার সমাধান কী?

চিকিৎসকেরা নানাভাবে হার্ট মারমারের সমাধান করে থাকেন। প্রাথমিকভাবে আপনার ঠিক কী হয়েছে তা জানার জন্য এক্স-রে করা হবে। এরপর যে কারণে আপনার সমস্যা তৈরি হয়েছে সেটাকে দূর করবেন তারা। এক্ষেত্রে অনেক সময় ওষুধের সাহায্যেই কাজ হয়ে যায়। 

তবে বড় কোনো ঝামেলা হলে অনেক সময় হৃদপিণ্ডে ক্যাথেটার বা চিকন নল প্রবেশ করিয়ে সার্জারি করার প্রয়োজন পড়ে। তবে এক্ষেত্রেও আপনি খুব বেশি সমস্যা বোধ করবেন না। প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ এবং উন্নত। সুস্থ হতেও তাই সময় লাগবে না আপনার। 

তবে এক্ষেত্রে, খুব বড় কোনো সমস্যা দেখার দিলে ওপেন হার্ট সার্জারি করার প্রয়োজন পড়তে পারে। নানারকম পরীক্ষা ও চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে আপনাকে এই পর্যায়ে। তবে হ্যাঁ, সমস্যা যেতাই হোক না কেন, দ্রুত হৃদপিণ্ডের অস্বাভাবিক স্পন্দনের সমস্যাটিকে চিহ্নিত করতে পারলে একটা না একটা সময় সমস্যাটিকে দূর করা সম্ভব হবেই। 

তাই, আপনার হৃদপিণ্ড সুস্থ আছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখুন। কোনো সমস্যা দেখা দিলেই চিকিৎসকের কাছে চলে যান এবং তার কথানুসারে চিকিৎসা নিন। 

মূল লেখক- ডক্টর নায়ের দীনেশ, মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটাল। 

ওডি/এনএম

স্বাস্থ্য-ভোগান্তি, নতুন পরিচিত অসুস্থতার কথা জানাতে অথবা চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ পেতেই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার পরামর্শ দেবার প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড