• সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  |   ৩৬ °সে
  • বেটা ভার্সন

করোনারি এনজিওগ্রাম, স্টেন্টিং ও বাইপাস সার্জারি : জেনে নিন বিস্তারিত

  সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি ১৩ মে ২০১৯, ০৮:৩৪

হৃদপিণ্ড
ছবি : প্রতীকী

করোনারি এনজিওগ্রাম, হৃদপিণ্ডের বাইপাস সার্জারি এবং স্টেন্টিং বর্তমানে হৃদপিণ্ডের সুস্থতার জন্য ব্যবহৃত অত্যন্ত পরিচিত তিনটি পদ্ধতি। এ নিয়ে তাই আরও অনেকের মতো আপনারও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন। চলুন, আজ একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক এই পদ্ধতিগুলোর উপরে।

করোনারি এনজিওগ্রাম-

আপনার হৃদপিণ্ডের অসুস্থতা ঠিক কী, এবং সুস্থ হওয়ার জন্য কোন পদ্ধতিটি সবচাইতে বেশি কার্যকরী- সেটা বোঝার জন্য যে ছোট্ট পরীক্ষাটি করা হয় সেটাকেই এনজিওগ্রাম বলা হয়। এক্ষেত্রে খুব কম সময়ের জন্য হাসপাতালে থাকতে হবে আপনাকে। এই প্রক্রিয়ার সময়-

চিকিৎসক আপনার হৃদপিণ্ড পর্যন্ত ক্যাথেটার বা একটি পাতলা নল প্রবেশ করাবেন। এই নলের মধ্য দিয়ে এক রকমের তরল প্রবেশ করানো হবে। এতে করে এক্স-রে তে হৃদপিণ্ডের ভেতরের অংশ আরও পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে। এর মাধ্যমে ৩৬০ ডিগ্রিতে আপনার হৃদপিণ্ডকে দেখতে পারবেন চিকিৎসক। ফলে তার পক্ষে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়াও সহজ হবে।

একবার এনজিওগ্রাম করা হয়ে গেলে চিকিৎসক আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ অংশে কোনো রক্তপাত হচ্ছে কিনা সেটি পরীক্ষা করবেন এবং এরপর খানিকটা বিশ্রাম নিয়েই বাসায় চলে যেতে পারবেন আপনি। এই পদ্ধতিতে হালকা ব্যথা ও অস্বস্তিবোধ হতে পারে। তবে সেটা খুব বেশি সময়ের জন্য নয়।

হৃদপিণ্ডের স্টেন্টিং-

রক্তনালীতে কোনো ব্লক পাওয়া গেলে, এনজিওগ্রামের পর সেই ব্লক খোলার জন্য স্টেন্টিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এই ব্লকের ওষুধ ব্যবহার করা হলেও, যদি তাতে কোনো কাজ না হয়, সেক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ।

এই পদ্ধতিতে একটি বেলুনসহ ক্যাথেটার আক্রান্ত স্থানে প্রবেশ করানো হয়। বেলুন একবার ফুলিয়ে, একবার বেলুনের বাতাস বের করে ব্লক দূর করা হয়। এতে করে রক্তনালীর ভেতরে আবার আগের মতো সহজ ও সঠিকভাবে রক্ত চলাচল করতে পারে। অনেকসময় যেন আবার ওই একই স্থানে ব্লক না দেখা দেয় সেটি নিশ্চিত করতে স্টেন্ট ব্যবহার করা হয়।

হার্ট বাইপাস-

হৃদপিণ্ডের সমস্যা অনেক বেশি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেলে তখন হার্টের বাইপাস করার দরকার পড়ে। এর মাধ্যমে মূলত হৃদপিণ্ডের আক্রান্ত রক্তনালীগুলোর মধ্যকার সমস্ত সমস্যা দূর করা হয় এবং শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

এক্ষেত্রে, পা কিংবা শরীরের অন্যকোনো অংশে অবস্থিত সুস্থ রক্তনালীগুলোকে চিহ্নিত করা হয় এবং সার্জারির মাধ্যমে আক্রান্ত রক্তনালীর পাশে বসানো হয়। এতে করে শরীরে রক্ত পরিবহনের একটা নতুন পথ তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে হৃদপিণ্ডের সমস্যা দূর হয়ে যায়। বুকের ব্যথা, ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদপিণ্ডজনিত নানারকম সমস্যা এবং হার্ট অ্যাটাকের মতো নানাবিধ উপসর্গগুলো এতে করে দূর করা সম্ভব হয়।

ভাবছেন, চিকিৎসাগুলো পাওয়ার উপায় কী? প্রক্রিয়াটি খুব সহজ। এ জন্য প্রথমেই নিশ্চিত হয়ে নিন যে, আপনার হৃদপিণ্ডে কোনোরকম সমস্যা রয়েছে কিনা। চিকিৎসকের সাথে শারীরিক নানা উপসর্গগুলো নিয়ে কথা বলুন। একবার চিকিৎসক কিছু সন্দেহ করলে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পারবেন।

হৃদপিণ্ডের কোনো সমস্যা না থাকলে তো সবচাইতে ভালো। তবে যদি এই প্রক্রিয়ায় আপনার হৃদপিণ্ডের কোনো সমস্যার কথা সামনে আসে তাহলে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে ফেলুন। এতে করে অনেক সহজেই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবেন আপনি।

তথ্যসূূত্র- মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটাল

ওডি/এনএম

স্বাস্থ্য-ভোগান্তি, নতুন পরিচিত অসুস্থতার কথা জানাতে অথবা চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ পেতেই-মেইলকরুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার পরামর্শ দেবার প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড